1. ayanabirbd@gmail.com : deshadmin :
  2. hr.dailydeshh@gmail.com : Daily Desh : Daily Desh
  3. Khulnabureaudesh@gmail.com : Khulna bureau : Khulna bureau
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০, ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন

করোনো টেস্টের ফি, আরেকটা ভুল হয়ে যাচ্ছে নাতো?

কাকন রেজা
  • আপডেট টাইম :: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০

করোনা টেস্ট আর বিনে-মাগনা হবে না। এমনটাই জানিয়ে দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। টেস্ট করতে গেলে নগদ কড়ি গুনতে হবে বলে পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রণালয়টি। হাসপাতালে ২০০ ও বাড়িতে টেস্টে ৫০০ টাকা দিতে হবে।


সারা বিশ্বে টেস্ট করা হচ্ছে মানুষকে ধরে-বেঁধে। দক্ষিণ কোরিয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে বুথ বসানো হয়েছে। গাড়ি আসলেই কিট নিয়ে হাজির স্বাস্থ্যকর্মী। টেস্ট করা হয়েছে এমন সনদপত্র না থাকলে, তার নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইরানে ভ্রাম্যমান ল্যাব ঘুরছে দেশময়। রাস্তাতেই পরীক্ষা করে নেয়া হচ্ছে। এর কারণটা সহজ, যত টেস্ট, তত নির্ণয়, তত আক্রান্তদের পৃথক করে ফেলা। তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। এ প্রক্রিয়াতেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে করোনা (কোভিড-১৯) মহামারীকে। কোথাও টেস্টের জন্য মানুষের পকেট থেকে টাকা গোনার নজির নেই।

আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অজুহাত হলো বিনে পয়সার টেস্টের সুযোগে উপসর্গহীনরাও টেস্ট করাচ্ছে। তাই কর্তারা ‘বিনে-মাগনা’র বদলে ‘ফেল কড়ি মাখো তেল’ ব্যবস্থা আরোপ করেছেন। চীনের চিকিৎসকদের বক্তব্য উদ্ধৃত করি এ জায়গায়। তারা বলছেন, ‘আক্রান্তদের বিশাল অংশ উপসর্গহীন এবং এরাই সবচেয়ে বিপজ্জনক। কারণ এরা নিজে আক্রান্ত না জেনেই মানুষের মাঝে ছড়াচ্ছে ভাইরাসটি।’ ফলে চীনে এলাকা কর্ডন করে সবাইকে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এরপরও কি আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসর্গহীনতার অজুহাতটি যায়? হয়তো যায়, এক মাসে যদি হোটেলে থাকা-খাওয়ার বিল ২০ কোটি টাকা হয়ে যায়, এটাও যেতে দোষ কি!

এরপরও এমন পরিপত্র জারিতে কোথায় কোনো ভুল হয়ে যাচ্ছে নাতো? প্রশ্নটি কেনো বলি। আমাদের কিছু সামাজিক পান্ডা রয়েছে, যাদের জন্য করোনা আক্রান্ত পরিবারের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমার জেলা শেরপুরের কথা বলছি। সেখানে করোনা আক্রান্ত এক পরিবারের কর্তা মারা যাবার পর, পরিবারের লোকজনদের একঘরে করে ফেলা হয়েছিল। তাদের বাসায় ঢিল ছোড়া হয়েছে। তাদের ওষুধ সরবরাহে বাধা দেয়া হয়েছে। এটা একেবারে কমন চিত্র। এমন চিত্রের অভাব নেই গণমাধ্যমে। সঙ্গতই অল্প উপসর্গে কেউ টেস্ট করাতে চায় না সামাজিক বিড়ম্বনার ভয়ে। মানুষের মৃত্যুর কারণও হচ্ছে এই টেস্ট না করা। টেস্ট না করায় চিকিৎসা বিলম্বিত হয়। শেষ অবস্থায় হাসপাতালে গেলে আর করার কিছু থাকে না। এমন অবস্থাতেও যদি টেস্টের জন্য টাকা দিতে হয়, তবে মানুষ আরো নিরুৎসাহিত হবে। সাথে বাড়বে মৃত্যুর হার।

এমনিতেই ঈদের সময়কালীন ছুটি বর্তমান করোনা ঢেউয়ের জন্য দায়ি বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘরে ঘরে গিয়ে টেস্ট বন্ধ করাও এর সাথে যুক্ত। ঢাকায় মানুষ করোনা টেস্টের জন্য লম্বা লাইন দিয়েছে। যেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। ফলে সুস্থরাও অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত হয়েছেন। বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। আর লাইনে দাঁড়িয়ে টেস্ট করাতে কতজন গিয়েছেন সেটাও প্রশ্ন। যারা সচেতন এবং সামর্থ্যবান তারাই গিয়েছেন টেস্ট করাতে। সাধারণ মানুষ, নিম্নবিত্তের যারা তাদের পক্ষে যাতায়াতের খরচ জুগিয়ে টেস্ট করাটা হয়ে উঠেনি। পোশাকর্মীদের কথাই বলুন। তারা কতজন গিয়েছেন লাইনে দাঁড়িয়ে টেস্ট করাতে। আর ফি নির্ধারণ করায় তো এই হার আরো কমবে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় এটাই স্বাভাবিক। আর গ্রামাঞ্চলের জন্য এটা আরো সঙ্গত। গ্রামের লোকজন শহরের হাসপাতালে এসে করোনা টেস্টের ফি দিয়ে করোনা টেস্ট করাচ্ছেন এমন কল্পনা সুদূরপরাহত ও অসঙ্গত।

সূতরাং, করোনা টেস্টের ফি নির্ধারণের বিষয়টি ভুল হলো কী-না তা আবার ভেবে দেখা উচিত। সরকারের অনেক টাকা খরচ যাচ্ছে, এমন অজুহাত বর্তমান পারিপার্শ্বিকতায় কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের তো ভুলে-ভালেই যাচ্ছে করোনাকাল। যার ফিরিস্তি দিতে গেলে দিন শেষ হয়ে যাবে। আবার ভুল যাতে না হয়, তার জন্য মাঠের প্রকৃত চিত্রটা আরেকবার দেখে নেয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

 

 

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

নামাজের সময়সূচীঃ

    Dhaka, Bangladesh
    বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২০
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৩:৫৫
    সূর্যোদয়ভোর ৫:২১
    যোহরদুপুর ১২:০৪
    আছরবিকাল ৩:২৫
    মাগরিবসন্ধ্যা ৬:৪৮
    এশা রাত ৮:১৪

@ স্বত্ত দৈনিক দেশ, ২০১৯-২০২০

সাইট ডিজাইনঃ টিম দেশ