1. ayanabirbd@gmail.com : deshadmin :
  2. hr.dailydeshh@gmail.com : Daily Desh : Daily Desh
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন

কি জ্বালা দি গেলা মোরে, নয়নের কাজল পরাণের বন্ধুরে না দেখিলে পরাণ পুড়ে!

মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, ব্যুরো প্রধান (চট্রগ্রাম)
  • আপডেট টাইম :: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০
আস্কর আলী পণ্ডিত
আস্কর আলী পণ্ডিত
লোক কবি আস্কর আলী পণ্ডিত ১৮৪৬ সালে ৭ মার্চ চট্টগ্রাম জেলার  বর্তমান সাতকানিয়া উপজেলার পুরণাগড়ে জন্মগ্রহণ করেন। শিশুকাল হতে স্বপরিবারে পটিয়া উপজেলার শোভনদন্ডি গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তাঁর পিতার নাম মোসরফ আলী এবং পিতামহের নাম দোলন ফকির।  তিনি ১৯২৬ সালে ১১ মার্চ কিংবা মতান্তরে ১৯২৭ সালের  ১১ মার্চ নিজ গ্রামে মৃত্যুবরণ করেন।
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় রচিত তাঁর  পুঁথি-পুস্তিকার অন্যতম-  জ্ঞান চৌতিষা, পঞ্চসতি পেয়ারজান,গানের বই -গীত বারমাস, নন্দ সাগর, নন্দ বিলাস, বর্গশাস্ত্র  প্রভৃতি পাঠক সমাজে বেশ সমাদৃত।
জ্ঞান চৌতিসায়  তিনি  তাঁর নিজের পরিচয় দিয়েছেন –
”তথা হীন মুই দীন আস্কর আলী নাম
দুঃখের বসতি এই শোভনদন্ডী গ্রাম।
ধনজনহীন আর বুদ্ধি বিদ্যাহীন
তেকারণে নিজ কর্ম্মে নয় মনলিন।
জনক মোসরফ আলী গুণে সুরচির
তান পিতা নাম শ্রেষ্ঠ দোলন ফকির”।
পন্ডিত আস্কর আলীর বাল্যকাল ও শিক্ষাজীবন সম্পর্কে বিস্তারিত তেমন কেউ জানে না। জ্ঞান চৌতিসা রচনায় তিনি লিখেছেন-
”ধনজন হীন বিদ্যা শিখিতে না পারি।
কিঞ্চিত দিলেক প্রভু সমাদর করি”।
আস্কর আলী পণ্ডিত ছিলেন চট্টগ্রামের জনপ্রিয় ধারার লোকগানের শিল্পী। তাই আস্কর আলীর লেখায় তাঁর পূর্ববর্তী ও সমসাময়িক কবিয়াল, লোকশিল্পীদের  প্রভাব রয়েছে।  তেমনি তাঁর পরবর্তী শিল্পী কবিদের গানেও আস্কর আলী পণ্ডিতের প্রভাব লক্ষণীয়। শিক্ষিত ছিলেন না বলে, তৎকালীন আধুনিক সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা ছিল না। তবুও তিনি তার রচিত গান চট্টগ্রামের গ্রামীণ সমাজের সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তোলেন। তাঁর পিতামহ দোলন ফকিরও লোকসংগীত শিল্পী ছিলেন।
আস্কর আলী পন্ডিত আঠার শতক, ঊনিশ শতকের লোককবি আলী রজা ওরফে কানুফকির (১৭৫৯-১৮৩৭) এর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।
আস্কর আলী পন্ডিতের তিন স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী রাহাতুননেছা, দ্বিতীয় স্ত্রী মিছরিজান ও তৃতীয় স্ত্রী আতরজান।  প্রথম স্ত্রীর গর্ভে   লতিফা খাতুন প্রকাশ লেইস্যা খাতুন, দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্ভে আবদুল ছমদ ও বাচা মিয়া, তৃতীয় স্ত্রীর গর্ভের সন্তান-সন্ততিদের নাম ছিল যথাক্রমে আবদুর রশিদ, ছমন খাতুন, ফজরজান, নছিমন, বদল মনির আলীসহ মোট ৬ সন্তান।
পন্ডিত আসকর আলীর লেখা বিশেষ করে এই দু’টো গান আজো সারা বাংলা জুড়ে বাঙ্গালীরা গুন গুন করে গায় – ” কি জ্বালা দি গেলা মোরে নয়নের কাজল পরাণের বন্ধুরে না দেখিলে পরাণ পুড়ে”,  এবং ”ডাইলেতে লড়ি চড়ি বইও চকোতি ময়নারে গাইলে বৈরাগীর গীত গায়ও”।

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

নামাজের সময়সূচীঃ

    Dhaka, Bangladesh
    মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৩:৫০
    সূর্যোদয়ভোর ৫:১৭
    যোহরদুপুর ১২:০৩
    আছরবিকাল ৩:২৩
    মাগরিবসন্ধ্যা ৬:৪৯
    এশা রাত ৮:১৬

@ স্বত্ত দৈনিক দেশ, ২০১৯-২০২০

সাইট ডিজাইনঃ টিম দেশ