ঢাকাশুক্রবার , ২৪ জুন ২০২২
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গণমাধ্যম
  11. গ্যাজেট
  12. জাতীয়
  13. টাকা-আনা-পাই
  14. দেশ জুড়ে
  15. দেশ পরিবার

জিলহজ মাসের গুরুত্ব ও আমল

মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী
জুন ২৪, ২০২২ ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ

মহান আল্লাহ কোরআনুল কারিমে ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর বিধান ও গণনায় মাস ১২টি—আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকে। এর মধ্যে চার মাস সম্মানিত’ (সুরা তাওবা: ৩৬)। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, ঐ মাসগুলো হলো জিলকদ, জিলহজ, মোহররম ও রজব।

মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তার একনিষ্ঠ দাসত্বের নিদর্শনস্বরূপ বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলিমগণ প্রতি বছর এ মাসে হজব্রত পালন ও প্রিয় পশু কোরবানি করে থাকেন। হজরত ইবরাহিম (আ.) ও তার পুরো পরিবারের নজিরবিহীন কোরবানির ইতিহাস মানুষকে যে ত্যাগের শিক্ষা দেয়, তাতে উদ্বুদ্ধ হয়ে একজন মুমিন তার সবকিছুই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উত্সর্গ করতে সদা প্রস্তুত থাকেন।

মাস হিসেবে পবিত্র রমজানুল করিম আর দিন হিসেবে পবিত্র জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিন শ্রেষ্ঠ ও সর্বাপেক্ষা মর্যাদাপূর্ণ। পবিত্র কোরআনুল করিমের সুরা হজের ২৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তারা আল্লাহর নামের স্মরণ করে নির্দিষ্ট দিনগুলোতে।’ বিশিষ্ট তাফসিরকার হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, নির্দিষ্ট দিন বলতে এখানে জিলহজ মাসের প্রথম দশককে বোঝানো হয়েছে (ইবনে কাসির)। তাছাড়া শুরা ফাজরের ১-২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘শপথ প্রভাতের। শপথ ১০ রাতের। এখানে যে ১০ রাতের কথা বলা হয়েছে, তা হলো জিলহজের প্রথম ১০ রাত। (তাফসিরে ইবনে কাসির, চতুর্থ খণ্ড, পৃ. ৫৩৫)।

ইবনে আব্বাস (রা.), মুজাহিদ ও ইকরামা (রহ.)-এর মতে, ১০ রাত বলতে জিলহজের ১০ রাতের কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে এ মাসের ১০ দিনের মর্যাদা প্রমাণিত। এ মাসের নবম দিন ও রাত আল্লাহর কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এই দিনটি আরাফাতের ময়দানে সমবেত হওয়ার দিন। আর রাতটি হলো মুজদালিফায় অবস্হানের রাত। বিশেষ করে ৯ জিলহজ রোজা আদায়ের ব্যাপারে প্রিয় মহানবি (স.) সবচেয়ে বেশি আশাবাদী ছিলেন। হজরত আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুল (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, এদিনের রোজা পালনকারীকে গত এক বছর এবং আগত এক বছরের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (সহিহ মুসলিম :৭৪০)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুল (স.) বলেছেন, ‘জিলহজের ১০ দিনের ইবাদত আল্লাহর কাছে অন্য দিনের ইবাদতের তুলনায় বেশি প্রিয়। প্রতিটি দিনের রোজা এক বছরের রোজার মতো আর প্রতি রাতের ইবাদত লাইলাতুল কদরের ইবাদতের মতো’ (তিরমিজি :৭৫৮, ১ম খণ্ড)। তবে যারা হজ আদায়ে ঐ দিন আরাফায় অবস্হান করবেন, তাদের জন্য এই বিধান কার্যকরি নয়।

জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার পর থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত দিনে রোজা পালন করা, রাতে বেশি বেশি নফল সালাত, কোরআন তিলাওয়াত, তাসবিহ-তাহলিল, দুয়া-দরুদ, তওবা, ইস্তিগফার ইত্যাদি ইবাদত করা আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় আমল। হজরত উমর (রা.) বর্ণনা করেন, রসুল (স.) বলেছেন, আল্লাহর কাছে কোনো দিনই প্রিয় নয়, আর না তাতে আমল করা, এ ১০ দিনের তুলনায়। সুতরাং তোমরা তাতে (জিলহজের প্রথম ১০ দিন) বেশি বেশি তাহলিল, তাকবির ও তাহমিদ পাঠ করো’ (তাবারানি)।

এ সময়ের আরেকটি কর্তব্য সম্পর্কে উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবি (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি জিলহজের চাঁদ দেখে এবং কোরবানির ইচ্ছে পোষণ করে, সে যতক্ষণ কোরবানি না করে, ততক্ষণ পর্যন্ত যেন চুল বা নখ না কাটে।’ (সহিহ মুসলিম, ৩৬৫৬) আর এই জিলহজ মাসের ৯ তারিখ ফজরের নামাজ থেকে নিয়ে ১৩ তারিখের আসরের নামাজ পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত নামাজের পর তাকবিরে তাশরিক (আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ) পড়া ওয়াজিব। নারী-পুরুষ সবার জন্য ফরজ নামাজের পর এই তাকবিরে তাশরিক পাঠ করা কর্তব্য।

সর্বশেষ - আইন আদালত