ঢাকাবুধবার , ১৮ মে ২০২২
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গণমাধ্যম
  11. গ্যাজেট
  12. জাতীয়
  13. টাকা-আনা-পাই
  14. দেশ জুড়ে
  15. দেশ পরিবার

ডলার কেনো লাফাচ্ছে?

সানজিদা মাহমুদ
মে ১৮, ২০২২ ১০:০২ পূর্বাহ্ণ

অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাজারে, এটাকে পুঁজি করে এবার তেল ও পেঁয়াজের মতো মার্কিন ডলারের দামও বাড়ছে প্রতিনিয়ত। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে। আর এ সুযোগ নিচ্ছে ডলার বিক্রেতারা।

সম্প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক টাকার মান কমিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক অন্যান্য ব্যাংকের কাছে এক মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা দিচ্ছে। তবে অন্যান্য সব ক্ষেত্রেই ডলারের দাম অনেক বেড়ে গিয়েছে। আমদানিকারকদের বেশি দামে এলসি খুলতে হচ্ছে। আর বিদেশ ভ্রমণের জন্য সাধারণ জনগণকে এক ডলার কিনতে ১০০ টাকার ওপরে ব্যয় করতে হচ্ছে। আর এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ডলার আটকে রেখে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

ব্যাংকাররা বলছেন, ঈদের কারণে দেশে ভালো প্রবাসী আয় এসেছে। তবে আমদানি খরচ যে হারে বেড়েছে, প্রবাসী আয় ও রফতানি আয় দিয়ে সেই খরচ মেটানো যাচ্ছে না। ফলে ডলার নিয়ে দেশের মুদ্রাবাজারে এখন অস্থিরতা বিরাজ করছে। আর এ সুযোগ নিয়ে অনেক ব্যাংক গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি দাম নিচ্ছে। তারা বলছেন, সংকটের সময়ে ব্যাংকও গ্রাহকদের ঠকায়। ব্যবসায়ীকে ব্যবসার ধারাবাহিকতা ঠিক রাখতে সংকটের সময়ও ঋণপত্র (এলসি) খুলতে হয়। আর ব্যবসায়ীরা সাধারণত ব্যাংক পরিবর্তন করেন না। আর এ সুযোগটি ব্যাংক নেওয়ার চেষ্টা করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত দামের চেয়ে বেশি দাম নিচ্ছে ব্যাংকগুলো।

এ বিষয়ে বেসরকারি খাতের একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেশকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এলসির (ঋণপত্র) জন্য যে রেট দেয় সেটার চেয়ে বেশি ঘোষণার কোনো সুযোগ নেই। অবশ্য প্রকৃতপক্ষে ঘোষণার চেয়ে অনেক বেশি দামে এলসি খুলতে হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সমানভাবে সব ব্যাংক ডলার পাচ্ছে না। ফলে বাজার থেকে বাড়তি দামে ডলার কিনে আমদানিকারকদের কাছে বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি জানান, গ্রাহক ধরে রাখতে এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এটি করতে হচ্ছে।

এদিকে চিকিৎসা, পড়াশুনাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে যারা বিদেশ যেতে যান তাদেরকে ডলার কিনতে হয়। ব্যাংকিং খাতের বাইরে খোলা বাজারে (কার্ব মার্কেট) থেকে অনেকে ডলার কিনে থাকেন। খোলা বাজারে চাহিদা অনুযায়ী দাম ওঠানামা করে। সম্প্রতি ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও বেশ বাড়ছে। এতদিন এক ডলার কিনতে ১০০ টাকার নিচে ব্যয় হতো। গতকাল তা ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এক ডলার কিনতে ১০২ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়েছে কাউকে কাউকে।

খোলা বাজারে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ৩১ মে থেকে হজ ফ্লাইট শুরু। হজকে কেন্দ্র করে বেড়ে গেছে। চাহিদার তুলনায় বাজারে এই মুদ্রার জোগান কম। দাম বাড়ার জন্য এটা একটা বড় কারণ।

তথ্যে দেখা গেছে, গত সোমবার ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে গেছে ৮০ পয়সা। আর গত তিন সপ্তাহে তিন দফায় ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন হয়েছে এক টাকা ৩০ পয়সা। এর আগে গত সপ্তাহের মঙ্গলবার ডলারের দাম ২৫ পয়সা বাড়িয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। আর জানুয়ারি মাসের শুরুতে ডলারের বিনিময়মূল্য ২০ পয়সা বাড়িয়ে ৮৬ টাকা করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর ২৩ মার্চ তা আবার ২০ পয়সা বাড়িয়ে ৮৬ টাকা ২০ পয়সা করা হয়েছিল। আর গত ২৭ এপ্রিল ২৫ পয়সা বাড়িয়ে ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সা করা হয়েছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম দেশকে বলেন, বাজার বিশ্লেষণ করে যতক্ষণ বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহ করে ঠিক রাখার প্রয়োজন ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক ততক্ষণ ঠিক রেখেছে। এখন বাড়ানো প্রয়োজন মনে করেছে তাই বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, মূলধনীয় যন্ত্রপাতি ও পণ্য আমদানি বেশি হওয়ায় ডলারের চাহিদা বেশি। তাই রেট বেড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার বিশ্লেষণ করে ডলারের দাম ঠিক করে। কোনো সময় টাকার অবমূল্যায়ন করে।

বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে প্রতিনিয়ত ডলার বিক্রি করছে। আর ডলারের চাহিদা বেশি হলে ধীরে ধীরে দাম বাড়াচ্ছে। এভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে। তবে অর্থনীতিবিদেরা ডলারের দাম চাহিদা-জোগানের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত ৯ মাসের ব্যবধানে প্রতি ডলারে দর বেড়েছে দুই টাকা ৭০ পয়সা। ২০২০ সালের জুলাই থেকে গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দাম ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় স্থিতিশীল ছিল।

সর্বশেষ - আইন আদালত

আপনার জন্য নির্বাচিত