ঢাকারবিবার , ২৪ এপ্রিল ২০২২
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গ্যাজেট
  11. জাতীয়
  12. টাকা-আনা-পাই
  13. দেশ জুড়ে
  14. দেশ পরিবার
  15. দেশ ভাবনা

রানা প্লাজা, ভুলে যাওয়া ৯ বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ২৪, ২০২২ ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ

৯ বছর আগে এই দিনে সাভারে ভয়াবহ ভবন ধসের ঘটনা ঘটে। ঐ ঘটনায় হতাহত হয় কয়েক হাজার শ্রমিক। সেই হতাহতের ঘটনায় করা হত্যা মামলার বিচার দীর্ঘদিন স্থগিত থাকার পর অবশেষে শুরু হয়েছে সাক্ষ্যগ্রহণ।

ইতিমধ্যে মামলার বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২৯ মে এ মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ঐ দিন রাষ্ট্রপক্ষের চার জন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থিত থাকতে তাদের প্রতি ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এ এইচ এম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া সমন জারি করেছেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের কৌঁসুলি রাষ্ট্রপক্ষের ভারপ্রাপ্ত পিপি বিমল সমাদ্দার দেশকে বলেন, এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর কয়েক জন আসামি তা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে যান। এতে মামলার বিচার কাজ স্থগিত হয়ে যায়। দীর্ঘ ছয় বছর সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় মামলার বিচার কাজ অর্থাৎ সাক্ষ্যগ্রহণ গত ৩১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। আশা করি, চলতি বছর প্রয়োজনীয় সাক্ষী হাজির করে মামলার বিচার কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকার আট তলাবিশিষ্ট রানা প্লাজা ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে নিহত হয় ১ হাজার ১৩৬ জন শ্রমিক। আহত হন আরো কয়েক হাজার শ্রমজীবী মানুষ। এ ঘটনায় চারটি মামলা করা হয়। এর মধ্যে হত্যা, ইমারত নির্মাণ আইন ভঙ্গসহ তিনটি মামলার বিচার কাজ এখনো শেষ হয়নি। শুধু ঐ ভবন ধসের ঘটনার পর সম্পদের হিসাব চেয়ে রানা প্লাজার সোহেল রানাকে নোটিশ দেয় দুদক। কিন্তু হিসাব না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। সেই মামলায় সোহেল রানাকে তিন বছরের সাজা দিয়েছে বিশেষ জজ আদালত।

আর ইমারত নির্মাণ আইন ভঙ্গের মামলার বিচারকাজ চলতি বছরের নভেম্বর পর্যন্ত উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত রয়েছে বলে দেশকে জানান পিপি বিমল সমাদ্দার। আর সোহেল রানাসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে দুদকের আরেকটি মামলার বিচার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ভবন ধসের ঘটনায় হতাহত পরিবারের স্বজনরা বলছেন, আমাদের কেউ স্ত্রী, কেউ স্বামী বা পিতা-মাতা ও সন্তান হারিয়েছি। স্বজন হারানোর ব্যথা এখনো বয়ে বেড়াচ্ছি। আর পথ চেয়ে আছি বিচারের আশায়। যাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের অবহেলায় হাজার হাজার শ্রমিক হতাহত হয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে নিহতদের আত্মা শান্তি পাবে। আর প্রতীক্ষার অবসান হবে আমাদের।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জানুয়ারি হত্যা মামলার বাদী পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের উপ-পরিদর্শক ওয়ালী আশরাফ ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য প্রদান করেন। গত ১৬ এপ্রিল তার সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সমাপ্ত হয়।

এরপর জেলা ও দায়রা জজ এ এইচ এম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া সাক্ষী তালিকার (২-৫ নম্বর) পরবর্তী চার জন সাক্ষী হাজিরে সমন জারি করেন। আগামী ২৯ মে তাদের সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য দিন ধার্য রাখা হয়েছে।

  • রানা প্লাজা হত্যা মামলা

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় পরদিন সাভার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওয়ালী আশরাফ ভবন নির্মাণে অবহেলা ও ত্রুটিজনিত হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। ২০১৫ সালের ২৬ এপ্রিল সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার বিজয়কৃষ্ণ কর ভবন মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় অভিযোগপত্রে ৫৯৪ জনকে সাক্ষী করা হয়। আসামি ৪১ জনের মধ্যে তিন আসামি মারা যান। বর্তমানে আসামির সংখ্যা ৩৮ জন। ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার তত্কালীন জেলা ও দায়রা জজ এস এম কুদ্দুস জামান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। কিন্তু ঐ অভিযোগ গঠন আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে যান আট আসামি। স্থগিত হয় বিচার কাজ। ফলে গত ছয় বছরে ২৫ বার পেছায় সাক্ষ্যগ্রহণ। অবশেষে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শুরু হয় কাঙ্ক্ষিত সেই সাক্ষ্যগ্রহণ।

আসামি পক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলায় প্রায় ৬০০ জনকে সাক্ষী করেছে। দীর্ঘ এই তালিকার সাক্ষীদের সাক্ষগ্রহণ করে বিচার শেষ করতে আরো কয়েক বছর লাগবে।

তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি হত্যা মামলা প্রমাণে সকল সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের প্রয়োজন নাই। যেসব সাক্ষী গুরুত্বপূর্ণ তাদের সাক্ষ্য নিয়ে বিচার শেষ করার সুযোগ রয়েছে। এতে বিচার বিলম্বের যে নজির রয়েছে তা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে।

  • ইমারত নির্মাণ আইনে রাজউকের মামলা

আইন না মেনে রানা প্লাজা নির্মাণ করায় ইমারত নির্মাণ আইনে সাভার থানায় আরেকটি মামলা করে রাজউক। ২০১৫ সালের ২৬ এপ্রিল সিআইডি ভবনের মালিক সোহেল রানাসহ ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ১৩০ জনকে মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে।

২০১৬ সালের ১৪ জুন ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। তবে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় এ মামলার বিচার কাজ এখন বন্ধ রয়েছে।

সর্বশেষ - সোশ্যাল মিডিয়া