ঢাকাসোমবার , ১৮ এপ্রিল ২০২২
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গণমাধ্যম
  11. গ্যাজেট
  12. জাতীয়
  13. টাকা-আনা-পাই
  14. দেশ জুড়ে
  15. দেশ পরিবার
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমাচার

ডিসেম্বরের পর সব অস্থায়ী ক্যাম্পাস অবৈধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ১৮, ২০২২ ১২:১৫ অপরাহ্ণ

স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার ক্ষেত্রে আইন মানতে গরিমসি করা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর বার্তা জারি করেছে সরকারি তদারকি সংস্থা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিস)। এবার এই বার্তা অনুযায়ী চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতেই হবে। এর ব্যর্থতায় অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করা হবে।

এছাড়া যদি স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে ব্যর্থ হয় আবার নির্ধারিত সময়ের পরেও শিক্ষাথী‌র্ ভর্তি চলমান রাখে তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রণীত আইনের কঠোর ধারাটিও বাস্তবায়নের কথা জানানো হয়েছে।

ইউজিসির কর্মকর্তারা দেশকে বলেছেন, যারা এবার নির্দেশনা মানতে ব্যর্থ হবে, তাদের ক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ৩৫ (৭) ধারা কার্যকর করা হবে। ঐ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো কারণে কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা দেখা দিলে কিংবা উহার স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত ও শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে, উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখিবার স্বার্থে, চ্যান্সেলর, কমিশন ও শিক্ষা  মন্ত্রণালয়ের সুপারিশক্রমে, প্রয়োজনীয় আদেশ ও নির্দেশ দিতে পারিবেন এবং এতদবিষয়ে চ্যান্সেলরের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।

ধারার ব্যাখ্যায় সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা দেশকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে প্রশাসক বসিয়ে দিতে পারবে। ট্রাস্টি বোর্ডের হাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা তৈরি হবে। এছাড়া আরো অনেক কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

সাত বছরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে হবে—এমন শর্তে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু দুই যুগ পার হলেও স্থায়ী ক্যাম্পাসে যায়নি বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়। স্থায়ী ক্যাম্পাসে না গেলে সাময়িক অনুমতিপত্র বাতিল বা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের বিধান থাকলেও নেওয়া হয়নি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা।

ইউজিসি সূত্র দেশকে জানিয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার বিষয়ে তাগাদা দেওয়া হয়। আইন পাশ হওয়ার পর একই বছর ‘রেড এলার্ট জারি’ করে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার সময় বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু ঐ সময় অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার উদ্যোগই নেয়নি। পরে দ্বিতীয় দফায় ২০১২ সালে, তৃতীয় দফায় ২০১৩ সালে, চতুর্থ দফায় ২০১৫ সালের জুন এবং পঞ্চম দফায় ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে গরিমসি করে। বিশ্ববিদ্যালয় কতৃ‌র্ক্ষের আইন না মানার প্রবণতা তৈরি হয়। এরই প্রেক্ষাপটে ২৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন করে সময় বেঁধে দেওয়া হয়।

ইউজিসি সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি এক সভায় দেশের ২৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিকে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার বিষয়ে ইউজিসির একজন সদস্যকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে গরিমসি করা ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকেও কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। দুটি ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। যা আইনবিরোধী। বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ২০১৭ সাল থেকে আশুলিয়ায় নিজস্ব ক্যাম্পাস তৈরি করলেও গুলশানেরও কার্যক্রম চলছে।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করলেও মোহাম্মদপুরের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ স্থায়ী ক্যাম্পাসে নির্মাণকাজই শুরু করতে পারেনি। সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি চারটি অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ড্রাফোডিল ইউনিভার্সিটি আশুলিয়ায় স্থায়ী ক্যাম্পাস তৈরি করলেও দুটি প্রোগ্রামে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময় চেয়ে আবেদন করলেও ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই ক্যাম্পাসের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্টেট ইউনিভার্সিটি তিনটি ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নর্দান ইউনিভার্সিটি ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও এখনো বনানীর ভাড়া করা ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও এখনো পুরোপুরি স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি। এখনো অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

দি মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটি এখনো ফাউন্ডেশনের জমিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যা আইনবিরোধী। প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে অনেকটা পিছিয়ে আছে। স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে তারা ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় চায়। কিন্তু ইউজিসি চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও এখনো যেতে পারেনি স্থায়ী ক্যাম্পাসে। তারা ২০২৬ সাল পর্যন্ত সময় চায়। ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অনুমোদন ছাড়াই দুটি ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার বিষয়ে ইউজিসির চিঠির কোনো জবাবই দেয়নি। আশা ইউনিভার্সিটি ২০০৬ সাল প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে সদিচ্ছার অভাব রয়েছে বলে ইউজিসি জানিয়েছে।

এছাড়া দ্য পিপলস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, রয়েল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস এবং গ্রীন ইউনিভার্সিটিকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য কঠোর বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে এতে ব্যর্থ হলে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করে দেয়া হবে।

ইউজিসির এক কর্মকর্তা জানান, এবার যারা নির্দেশনা মানতে ব্যর্থ হবে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া বিকল্প কিছু থাকবে না।

এ বিষয়ে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিত্ চন্দ দেশকে বলেন, যারা এই আইন মানবে না, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

সর্বশেষ - আইন আদালত