ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৪ এপ্রিল ২০২২
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গ্যাজেট
  11. জাতীয়
  12. টাকা-আনা-পাই
  13. দেশ জুড়ে
  14. দেশ পরিবার
  15. দেশ ভাবনা

শুভ হোক নতুন পথ চলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ১৪, ২০২২ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

আজ বৃহস্পতিবার, পহেলা বৈশাখ। বাংলা বর্ষপঞ্জিতে যুক্ত হল নতুন বাংলা বর্ষ ১৪২৯।

বাংলার চিরায়ত উৎসব চৈত্র সংক্রান্তি ছিল গতকাল বুধবার। চৈত্র মাসের শেষ দিন চৈত্র সংক্রান্তি। আবার বাংলা বর্ষের শেষ দিনও। আজ বৃহস্পতিবার পয়লা বৈশাখ-নতুন বাংলা বর্ষ। জীর্ণ পুরাতন সবকিছু ভেসে যাক, ‘মুছে যাক গ্লানি’ এভাবে বিদায়ী সূর্যের কাছে এ আহ্বান জানাচ্ছে বাঙালিয়ানায় স্নাত সকলে।

পয়লা বৈশাখ আমাদের সকল সঙ্কীর্ণতা, কুপমুন্ডতা পরিহার করে উদারনৈতিক জীবন-ব্যবস্থা গড়তে উদ্বুদ্ধ করে। আমাদের মনের ভিতরের সকল ক্লেদ, জীর্ণতা দূর করে আমাদের নতুন উদ্যোমে বাঁচার অনুপ্রেরণা দেয়। আমরা যে বাঙালি, বিশ্বের বুকে এক গর্বিত জাতি, পয়লা বৈশাখের বর্ষবরণে আমাদের মধ্যে এই সহজাতবোধ এবং বাঙালিয়ানা নতুন করে প্রাণ পায়, উজ্জীবিত হয়।

অন্য দিকে পহেলা বৈশাখ বাঙালির একটি সার্বজনীন লোকউৎসব। এদিন আনন্দঘন পরিবেশে বরণ করে নেওয়া হয় নতুন বছরকে। কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক হলো নববর্ষ। অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদযাপিত হয় নববর্ষ। আজ সরকারি বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে সরকারি ছুটি।

কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক হলো নববর্ষ। আজ সকালে ভোরের প্রথম আলো রাঙিয়ে দেবে নতুন স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর সম্ভাবনাকে। স্বাভাবিক ভাবেই সেই স্বপ্ন, করোনাভাইরাস মুক্ত আর অর্থনীতিতে নতুন বিশ্ব-নতুন বালাদেশ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বাঙালিরা করোনা মহামারি থেকে সহসা মুক্তির প্রত্যাশা নিয়েই আজ নতুন বছরকে বরণ করে নেবে তেমন কোন বড় ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া।

আজ পহেলা বৈশাখে বর্ণিল উৎসবে মাতার কথা দেশ। ভোরের প্রথম আলো রাঙিয়ে দেয়ার কথা নতুন স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর সম্ভাবনাকে। রাজধানী জুড়ে থাকার কথা বর্ষবরণের নানা আয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে এখনও চলছে করোনাকাল। মানুষের পৃথিবীতে এখনও অনিশ্চিত সময়। দেশে দ্বিতীয়বারের মত করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পয়লা বৈশাখসহ সবধরনের সমাগমের ওপর সময়ের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। সাথে আছে রোজার কিছু বাধ্যবাধকতা।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউতে সংক্রমণ অনেক বেশি হওয়ায় গত বছরের চেয়ে এবার বর্ষবরণ উৎসবের উপর সরকার বিধিনিষেধ না থাকলেও আছে বাড়তি সতর্কতা। একাত্তরের পর গত বছর নববর্ষের প্রখম প্রহরে রমনার বটমুলে ছায়ানটের অনুষ্ঠান হয়নি। মহামারির কারণে দুই বৈশাখ পর এবার পরিচিত আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হবে৷ উৎসবকে বর্ণিল করে তুলতে আয়োজকরা সেরে নিচ্ছেন শেষ দিকের প্রস্তুতি৷ বেসরকারি টেলিভিশন গুলোতেও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচারিত হবে।

এ বছর পহেলা বৈশাখে রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান যেমন থাকবে, তেমনি চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রাও বের হবে৷ এছাড়া সারা দেশে বৈশাখী মেলা এবং শোভাযাত্রার আয়োজনও থাকবে৷ জেলা এবং উপজেলায় থাকবে কুইজ প্রতিযোগিতা, নববর্ষের সাজ এবং লোকজ মেলা৷ ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমেদ লিসা জানান, অনুমতির পরে আর কোনো বাধা নেই৷ তারা এরইমধ্যে মহড়া শুরু করে দিয়েছেন৷ প্রতিবার ১২৫ জনের মতো শিল্পী এ আয়োজনে অংশ নেন৷ এবার স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি বিবেচনা করে শিল্পীর সংখ্যা অল্প কয়েকজন কমিয়ে আনা হবে৷

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত দুই বছরের প্রাণহীন পহেলা বৈশাখ পেরিয়ে এবছর সারা দেশে বর্ণিল আয়োজনের মাধ্যমে বাঙালির প্রিয় সার্বজনীন অনুষ্ঠান বাংলা নববর্ষ-১৪২৯ উদযাপন করা হবে৷ কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে সব ধরনের আয়োজন থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে৷

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা গত এক সপ্তাহ ধরে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি নিয়েছে৷ চারুকলা বিভাগ ঘুরে দেখা গেছে সেখানে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে৷ জয়নুল গ্যালারির সামনে একদল শিক্ষার্থী মাটির সরায় মাছ, পাখি, ফুলসহ নানা চিত্র এঁকে চলেছে৷ আরেকদল নানা ধরনের মুখোশ তৈরি করছে৷ কিছু শিক্ষার্থী হাতপাখা, চরকিসহ নানান জিনিস বানাচ্ছে৷

এক সময় নববর্ষ পালিত হতো আর্তব উৎসব বা ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে। তখন এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল কৃষির, কারণ কৃষিকাজ ছিল ঋতুনির্ভর। পরে কৃষিকাজ ও খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য মোঘল সম্রাট আকবরের সময়ে বাংলা সন গণনার শুরু হয়। হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌর সনের ওপর ভিত্তি করে প্রবর্তিত হয় নতুন এই বাংলা সন।

অতীতে বাংলা নববর্ষের মূল উৎসব ছিল হালখাতা। এটি পুরোপুরিই একটি অর্থনৈতিক ব্যাপার। গ্রামে-গঞ্জে-নগরে ব্যবসায়ীরা নববর্ষের প্রারম্ভে তাঁদের পুরানো হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন করে হিসাবের নতুন খাতা খুলতেন। এ উপলক্ষে তাঁরা নতুন-পুরাতন খদ্দেরদের আমন্ত্রণ জানিয়ে মিষ্টি বিতরণ করতেন এবং নতুনভাবে তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক যোগসূত্র স্থাপন করতেন। চিরাচরিত এ অনুষ্ঠানটি আজও পালিত হয়।

মূলত ১৫৫৬ সালে কার্যকর হওয়া বাংলা সন প্রথমদিকে পরিচিত ছিল ফসলি সন নামে, পরে তা পরিচিত হয় বঙ্গাব্দ নামে। কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সমাজের সঙ্গে বাংলাবর্ষের ইতিহাস জড়িয়ে থাকলেও এর সঙ্গে রাজনৈতিক ইতিহাসেরও সংযোগ ঘটেছে। পাকিস্তান শাসনামলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের। আর ষাটের দশকের শেষে তা বিশেষ মাত্রা পায় রমনা বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনের মাধ্যমে। এসময় ঢাকায় নাগরিক পর্যায়ে ছায়ানটের উদ্যোগে সীমিত আকারে বর্ষবরণ শুরু হয়। আমাদের মহান স্বাধীনতার পর ধীরে ধীরে এই উৎসব নাগরিক জীবনে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে।

পয়লা বৈশাখের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক এবং গণতান্ত্রিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটতে থাকে। কালক্রমে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান এখন শুধু আনন্দ-উল্লাসের উৎসব নয়, এটি বাঙালি সংস্কৃতির একটি শক্তিশালী ধারক-বাহক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শুধু তাই নয় , উৎসবের পাশাপাশি স্বৈরাচার-অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদও এসেছে পহেলা বৈশাখের আয়োজনে। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বের হয় প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা। যা ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো এ শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা দেয়। তবে, এবছর মঙ্গল শোভাযাত্রার অনুষ্ঠানটি হচ্ছে না।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে দেশবাসীসহ বাঙালিদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

দেশ-এর পক্ষ থেকে আমাদের সকল কর্মী, সাংবাদিক, প্রতিনিধি, পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই বাংলা নববর্ষে, ১৪২৯-এর শুভেচ্ছা।

শুভ নববর্ষ।

সর্বশেষ - সোশ্যাল মিডিয়া

আপনার জন্য নির্বাচিত