ঢাকাবুধবার , ২ মার্চ ২০২২
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গণমাধ্যম
  11. গ্যাজেট
  12. জাতীয়
  13. টাকা-আনা-পাই
  14. দেশ জুড়ে
  15. দেশ পরিবার

নারায়নঞ্জে একই দিনে তিন হত্যা রহস্য উৎঘাটনে মাঠে পুলিশ

online editor
মার্চ ২, ২০২২ ৩:৫৮ অপরাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর সেভেন মার্ডারের মধ্য দিয়ে জেলায় থেমে ছিলো না অপরাধিদের অপকর্ম তথা খুন খারাবি। গত ৬ মাসে বেশ কিছু নারী ও পুরুষ জেলাসহ বিভিন্ন থানা এলাকায় খুনের শিকার হয়েছে। একটি খুনের রহস্য উৎঘাটন শেষ না হতেই পুলিশকে দৌড়াতে হয় নতুন খুনের তদন্ত করতে। নগরীর বেশ কিছু এলাকা সিসি ক্যামেরা আওতাভুক্ত করা হলেও কমছেনা সহিংসতা খুন খারাবি। শহরে একদিকে মাদক ব্যাবসায়ীদের দৌড় ঝাপ অন্যদিকে পূর্বশক্রতার জের ধরে প্রতিনিয়ত পাড়া কিংবা মহল্লায় মাড়ামারি ও জখমের সংবাদ শোনা যাচ্ছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরের আশে পাশে মহল্লায় গত ১ মাসে মারামারিতে জখম হয়েছে ১০/১২ জন। এছাড়া রয়েছে কিশোর গ্যাং নামে একটি সংগবদ্ধ দল। এই সকল কিশোর গ্যাংদের নেপথ্যে কে? কারা পরিচালনা করছে? পুলিশ তাদের হদিস খুজে পাচ্ছে না। অনেক সময় পুলিশ এই সকল অপরাধীদের গ্রেফতার করলেও পরবর্তিতে বিভিন্ন মহলের সুপারিশে এদের আদালতে প্রেরণ না করে থানায় মিমাংসা করছে। এতে অপরাধিরা অপরাধ করতে আরো বেশি সুযোগ পাচ্ছে।

নারায়নগঞ্জে একই দিনে ডাবল নয় তিনটি হত্যা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ফতুল্লা থানাধীন শান্তিনগর এলাকায় রাবেয়া (৩৫) নামে সাত মাসের এক গর্ভবতী মহিলাকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সোহেল আহমেদকে গ্রেফতার করেছে ফতুল্লা থানা পুলিশ।

সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ শহরের ডাইলপট্টির এলাকায় ৮ নম্বর বি দাস সড়কের মাতৃ ভবনের ষষ্ঠ তলার ফ্ল্যাট থেকে ১লা মার্চ মঙ্গলবার বিকালে মা ও মেয়ের হত্যা করা হয়েছে। পরে ঘটনাস্থল হতে লাশ উদ্ধার ঘটনায় এক তরুণকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় সদর থানা পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছেন, জোবায়ের (২৬) নামের ওই তরুণ ভবনটির নিচতলা থেকে প্রতিটি ফ্ল্যাটে কলবেল চাপেন। কিন্তু কেউ দরজা খোলেননি। ছয়তলার ফ্ল্যাটে কলবেল বাজানোর পর দরজা খুলে দিতেই এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে দুজনকে হত্যা করেন জোবায়ের। নিহত দুজন হলেন শহরের একমাত্র পাইকারি ব্যবসাকেন্দ্র নিতাইগঞ্জ ডালপট্টি এলাকার রাম প্রসাদ চক্রবর্তীর স্ত্রী রুমা চক্রবর্তী (৪৬) ও তাঁর মেয়ে ঋতু চক্রবর্তী (২২)। নিহত ঋতু সাত মাসের অন্তঃসত্তা ছিলেন।

আটক আল জোবায়ের (২৬) নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়া এলাকার আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনার সময় চিৎকার শুনে আশপাশের ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা ওই ভবনের মূল ফটকে তালা দেন। পরে পুলিশ ভেতরে আটকা পড়া হামলাকারী যুবককে দরজা ভেঙ্গে আটক করে। তাঁর কাছ থেকে তিনটি ছোরা জব্দ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার পৌনে তিনটার দিকে মাতৃ ভবনের ছয়তলার ফ্ল্যাটে অভিযুক্ত জোবায়ের হানা দেন। তিনি ওই ফ্ল্যাটের কলবেল চাপলে রুমা চক্রবর্তী দরজা খুলে দেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে গলা চেপে ধরেন এবং ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন। রুমার মেয়ে ঋতু চক্রবর্তী এগিয়ে এলে তাঁকেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন। এ সময় পাশের রুমে থাকা রুমার ছেলের বউ ফারহানা আক্তার শীলা ঘর থেকে বের হন। জোবায়ের তখন ঘর থেকে বঁটি নিয়ে ফারহানা আক্তার শীলাকে কোপ দিতে যান। গৃহবধু ফারহানা আক্তার শীলা অভিযুক্ত জোবায়েরকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এ সময় তাঁর হাতের বঁটি পড়ে গেলে সেটি নিয়ে নিয়ে দৌড়ে প্রাণ বাঁচাতে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসেন শীলা। জোবায়েরও তাঁর পিছু পিছু নিচে নামতে থাকলে শীলা তাঁকে বঁটি দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেন। তখন জোবায়ের ওই ফ্ল্যাটে ফিরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো বলেন, শীলার চিৎকার শুনে আশপাশের ব্যবসায়ীরা ওই ভবনের নিচের মূল ফটকের দরজা বন্ধ করে দেন এবং পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে যায়। ওই ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে অভিযুক্ত জোবায়েরকে আটক করে। তখন বাসার মেঝেতে নিহত রুমা ও অন্তঃসত্ত্বা ঋতুর লাশ পড়ে ছিল।

ঘরের আলমারির মালামাল ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখেন। ওই সময় ফ্ল্যাটে রুমার স্বামীর রাম প্রসাদ চক্রবর্তী ও তাঁর ছেলে হৃদয় চক্রবর্তী বাড়িতে ছিলেন না। বাবা ও ছেলে উভেয়ে চাকুরীজীবি হওয়ায় দিনে বাড়ীতে পুরুষ মানুষ না থাকায় হত্যাকারী জোবায়ের এই সুযোগটি কাজে লাগায়।

রাম প্রসাদ চক্রবর্তী গণমাধ্যমকে জানান, চিৎকার চেঁচামেচি ও লোকজনের ভিড় দেখে ফ্ল্যাটে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ফটকে তালা বন্ধ থাকায় ভেতরে যেতে পারেননি। তিনি তাঁর স্ত্রীর মুঠোফোনে ফোন করলে জোবায়ের ফোন ধরে বলেন, ‘স্বর্ণালংকার ও টাকা পয়সা কোথায় কী আছে বল, না হলে সবাইকে মেরে ফেলব।

রাম প্রসাদ বলেন, অভিযুক্ত জোবায়ের তাঁর স্ত্রী ও মেয়েকে আগেই হত্যা করেন। পাশের রুমে গিয়ে তাঁর ছেলের স্ত্রী শীলাকে হত্যার চেষ্টা করলে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে বঁটি ধরে ফেলেন এবং ধাক্কা দিয়ে জোবায়েরকে ফেলে দিয়ে নিচে নেমে আসেন। না হলে তাঁর ছেলের বউকেও মেরে ফেলতেন। তিনি বলেন, দুপুরে তিনি বাসায় খেতে যান। এ কারণে হয়তো কল বেলের শব্দ শুনে স্ত্রী দরজা খুলে দেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঋতু চক্রবর্তীর চট্টগ্রামে বিয়ে হয়েছে। তাঁর স্বামী সেখানে লরির ব্যবসা করেন। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় চট্টগ্রাম থেকে বাবার বাড়িতে এসে থাকছেন। তাঁর ভাই হৃদয় চক্রবর্তী কিছুদিন আগে শীলাকে বিয়ে করেছেন। তিন-চার দিন যাবৎ শীলা তাঁদের সঙ্গে থাকছেন। নিতাইগঞ্জ ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শংকর সাহা বলেন, যেহেতু আমি বাসার বাড়ীতে থাকি হঠাৎ ছয় তালা ফ্লাটের চিৎকার শুনে নিচে নেমে আসি তখন একজন মহিলা এসে আবল তাবল বলায় সন্দেহ হয় এরপর ওই ভবনের মূল ফটকের দরজা তালাবন্ধ করে দেয়। নিচে এক নারীকে বঁটি হাতে দেখতে পান। তাৎক্ষনিক সদর থানা পুলিশকে অবগত করলে পুলিশ ঘটনাস্থল এসে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে। এ ঘটনায় ওই এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কে আছেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ জামান বলেন, আটক জোবায়েরের একটি ব্যাগের ভেতরে থেকে ছোট দুটি স্বর্ণের চেইন, কানের দুল উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আলামত সংগ্রহ করে নিয়ে গেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, ঋতু চক্রবর্তীর পিঠে দুটি এবং হাতে একটি ছোরাবিদ্ধ ছিল। শীলাকে বঁটি দিয়ে হত্যার চেষ্টা করলে তিনি জোবায়ের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে বঁটি নিয়ে দৌড়ে নিচে নেমে আসেন এবং সেই বঁটি গেটের বাইরে ফেলার অনেক চেষ্টা করেন। যাতে জোবায়ের তাঁকে হত্যা করতে না পারেন।

জোবায়েরের বাবা আলাউদ্দিন মিয়া শহরের টানবাজারের লবণের আড়তদার। তিনি বলেন, জোবায়ের ২০১৩ সালে এইচ এস সি পাস করেন। এরপর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হন। তবে পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় দুটি সেমিস্টার পড়ার পর আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। গত এক-দেড় মাস যাবৎ জোবায়ের কিছুটা উদ্ভট আচরণ করছিলেন। কিছু বললেই উত্তেজিত হয়ে যেতেন।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (অপরাধ) আমির খসরু জানিয়েছেন, জোবায়ের কাছ থেকে রক্তমাখা তিনটি ছোরা ও হ্যান্ড গ্যাবস উদ্ধার করা হয়েছে। কী কারণে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রতিবেদক

সর্বশেষ - আইন আদালত