ঢাকামঙ্গলবার , ১৮ জানুয়ারি ২০২২
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গ্যাজেট
  11. জাতীয়
  12. টাকা-আনা-পাই
  13. দেশ জুড়ে
  14. দেশ পরিবার
  15. দেশ ভাবনা
আজও উত্তাল শাবি

আন্দোলনে সমর্থন আ’লীগ নেতাদের, পুলিশের মামলা

সহকারী ব্যুরো (সিলেট)
জানুয়ারি ১৮, ২০২২ ৩:৫১ অপরাহ্ণ

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সবগুলো দাবি যৌক্তিক উল্লেখ করে চলমান আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। একই সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সবগুলো দাবি পূরণের আশ্বাস দেন নেতারা।

মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে শিক্ষার্থীদের সমাবেশস্থলে হাজির হন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক বিধান কুমার সাহাসহ আরও অনেকে।
এ সময় শফিউল আলম নাদেল শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে আমি আজকে ঢাকা থেকে এসেছি। আমাদের দল ও সরকার আপনাদের পাশে আছে। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে এই সংকট থেকে বের হয়ে আসার একটি পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করব।’


তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের দাবির প্রতি একমত। আপনাদের প্রাথমিক দাবিগুলো যাতে দ্রুত বাস্তবায়ন হয় সে চেষ্টা করব। তবে আমাদের একটু সময় দিতে হবে। যাতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরে আসে সে চেষ্টা চালাব। এসময় আন্দোলনে যাতে কোনো সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী ঢুকে না পড়ে সে ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের সজাগ থাকার আহব্বান জানান তিনি।
মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে ক্যাম্পাস থেকে এরই মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশসহ সাঁজোয়া যান সরিয়ে নেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে সন্তোষজনক সমাধান পান আমরা সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ বা অবরুদ্ধ রাখার জন্য নয়। এখানে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।’
এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন আওয়ামী লীগ নেতাদের বলেন, ‘আমরা উপাচার্যের পদত্যাগ চাই। তিনি আমাদের ওপর গুলি চালিয়েছেন। তার ক্যাম্পাসে থাকার কোনো অধিকার নাই। উনি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
পরে আওয়ামী লীগ নেতারা পৌনে ২টার দিকে সভাস্থল ছেড়ে উপাচার্যর বাসভবনে যান। এ প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত তারা ভিসির পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান অব্যাহত রেখেছেন। উপাচার্য তার বাসভবনে অবস্থান করছেন।

আন্দোলন অব্যাহত
এদিকে পুলিশি হামলার ঘটনায় উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ দাবিতে টানা পঞ্চম দিনেও আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিভিন্ন হল থেকে একের পর এক মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে জড়ো হতে থাকেন তারা। পরে মিছিল নিয়ে  উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে হবে। একইসঙ্গে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় প্রক্টরিয়াল কমিটি এবং ছাত্র উপদেষ্টাকেও সরে যেতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বরাবর খোলা চিঠি
এদিন বেলা এগারোটার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্ট অফিসে রাষ্ট্রপতি বরাবর লিখিত খোলা চিঠিটি পোস্ট করেন আন্দোলনকারিরা। এরপর উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি রোড পেইন্টিং করেন। রাষ্ট্রপতি বরাবর খোলা চিঠি পাঠানোর ৪৮ ঘণ্টার ভিতরে উপাচার্যের পতন নিশ্চিত না হলে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা বলে জানান তারা।

শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা
শাবিতে আন্দোলনরত দুই থেকে তিনশ’ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানার এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বাদী হয়ে গতকাল সোমবার এই মামলা করেন। মামলায় কোনো শিক্ষার্থীর নামোল্লেখ করেনি পুলিশ। তবে তারা দাবি করেছে, গত রোববারের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা শুধু ইটপাটকেলই নয়, আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলিও ছুঁড়েছিল।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট জাফরিন আহমেদ লিজার পদত্যাগের দাবিতে গত রোববার শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। খবর পেয়ে জালালাবাদ থানার একদল পুলিশ ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন। একই দাবিতে ১৬ জানুয়ারি সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যোগ দেয়। সেদিন বিকাল সোয়া ৩টায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। তারা ড. এমএ ওয়াজদ আলী আইসিটি ভবনে তালা দিয়ে ভিসিকে অবরুদ্ধ করে রাখে।

এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, খবর পেয়ে এসএমপির উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ ওই ভবনে ঢুকে শিক্ষকদের সাথে শিক্ষর্থীদের দাবি নিয়ে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের অনুরোধ জানান। তিনি ভিসিকে ভবন থেকে বের করার চেষ্টা করেন। শিক্ষার্থীরা কথা না শুনে স্লোগান অব্যাহত রাখে। এক পর্যায়ে বিকাল সাড়ে ৫টায় আন্দোলনরত ২-৩শ’ উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থী হঠাৎ কর্তব্যরত পুলিশের ওপর চড়াও হয়। তারা সরকারি আগ্নোয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। চারদিক থেকে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছুঁড়ে। এ ছাড়াও পুলিশের ওপর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১১ রাউন্ড রাবার কার্তুজ ও ২০ রাউন্ড সিসা কার্তুজসহ মোট ৩১ রাউন্ড শটগানের গুলি ছুঁড়ে। এ ছাড়া সিআরটি ২১টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

শিক্ষার্থীদের ছোঁয়া গুলিতে কনস্টেবল সাবিনা আক্তার, কনস্টেবল সঞ্জিত দাস ও সিআরটির কনস্টেবল ফাহাদ হোসেন গুরুতর জখম হন বলে এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার শুরু
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী ছাত্রী হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক জাফরিন আহমেদ লিজার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে এনে প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবি আদায়ে গত বৃহস্পতিবার থেকে আন্দোলনে নামেন ওই হলের ছাত্রীরা। এ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক হলেও দাবি পূরণ না হওয়ায় আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন তারা। এরই মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় আন্দোলনরতদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল বিভাগের ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
পরদিন রোববার দুপুরে উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদ ড. এমএ ওয়াজেদ মিয়া আইসিটি ভবনে আশ্রয় নিলে শিক্ষার্থীরা সেখানে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। সন্ধ্যায় উপাচার্যকে উদ্ধার করতে এসে পুলিশ  শিক্ষার্থীদের উপর চড়াও হলে সহিংসতায় রূপ নেয় আন্দোলন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগেরও নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে এ ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে উপাচার্যের পদত্যাগের একদফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা। সোমবার বিকেলে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে তারা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন।

সর্বশেষ - সোশ্যাল মিডিয়া