ঢাকাসোমবার , ১০ জানুয়ারি ২০২২
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গ্যাজেট
  11. জাতীয়
  12. টাকা-আনা-পাই
  13. দেশ পরিবার
  14. দেশ ভাবনা
  15. দেশ সাহিত্য

ঝাঁজ আছে-দাম নেই

ফজলে এলাহী মাকাম, জামালপুর প্রতিনিধি
জানুয়ারি ১০, ২০২২ ২:৫৪ অপরাহ্ণ

জামালপুর জেলার ৭টি উপজেলার ব্রক্ষপুত্র ও যমুনার চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে মরিচের চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ও রোগবালাই কম হওয়ায় মরিচের বেশ ভাল ফলন হয়েছে জানিছেন কৃষকরা। শুরু দিকে বাজারে মরিচের দাম ভাল থাকলেও পরবর্তীতে দাম একদম কমে যাওয়ায় দিশেহারা কৃষকরা।

জামালপুর জেলার মরিচ শুধু জামালপুর জেলার চাহিদাই মেটায় না বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় জামালপুরের মরিচের কদর রয়েছে।

মরিচ ক্ষেত গুলোতে গিয়ে জানা যায়, চরাঞ্চলগুলিতে লাল-সবুজের রঙে ছেয়ে গেছে মরিচের ক্ষেত। কেউ মরিচ ক্ষেত পরিচর্যা করছেন, কেউ মরিচ তুলছেন, আবার কেউ মরিচ বাজারে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্থানীয় বাজার গুলিতে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা খরিদদাররা মরিচ ক্রয় করে বিশাল বিশাল স্তুুপ করে রাখছে দেশের বিভন্ন জেলায় ট্রাক ভর্তি করে নেয়ার জন্য। বাজারে দাম না থাকায় মরিচ চাষীদের পরিবার নিয়ে হতাশায় দিনকাটাচ্ছেন। আবার যাদের জমি নেই, তারা অন্যের জমি বর্গা নিয়ে মরিচ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।


কাঁচা মরিচের বাজারে মুখে হাসি নেই কৃষকদের। এ বছর মরিচ চাষ করে বাজারে দাম না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন জামালপুরের মরিচ চাষীরা। কৃষকরা বলছেন, মরিচ চাষে যে খরচ হয়েছে সেটাও তুলতে পারছেন না তারা। আর কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা বলছেন, মরিচ চাষীদের উন্নত জাতের মরিচ চাষে সহায়তা করছেন তারা।


মরিচ গাছ রোপণের সময় থেকে ৩ মাসের মাথায় গাছ থেকে মরিচ পাওয়া যায়। পাঁচ মাসের মাথায় কাঁচামরিচ পাকা হয়। পরের ১৫ দিন থেকে ১ মাসে পাকা মরিচ রোদে দিয়ে শুকানো হয়। মরিচ উৎপাদনের এই সময় ধান বা গম উৎপাদনের সময়ের প্রায় দেড়গুণেরও বেশি। এর অর্থ মরিচের একর প্রতি উৎপাদন মূল্য ধান বা গমের একর প্রতি উৎপাদন মূল্যের দেড়গুণের বেশি না হলে মরিচ উৎপাদনে অধিকতর জমি প্রস্তুত হবে না। শুকনো মরিচের হিসেবে খরিফ মৌসুমে প্রায় ১৯০০০টন, আর রবি মৌসুমে ১২৪০০০ টন। কৃষি পরিসংখ্যানের বার্ষিক গ্রন্থ অনুযায়ী খরিফ মৌসুমে সারাদেশে ৫৮০০ একরে এবং রবি মৌসুমে ৩৭৫০০০ একর জমিতে মরিচ উৎপাদিত হয়। তবে মোট উৎপাদনের প্রায় ৮৭% রবি মৌসুমে হয়।

কৃষি পরিসংখ্যানের বার্ষিক গ্রন্থ অনুযায়ী খরিফ মৌসুমে সারাদেশে ৫৮০০ একরে এবং রবি মৌসুমে ৩৭৫০০০ একর জমিতে মরিচ উৎপাদিত হয়। তবে মোট উৎপাদনের প্রায় ৮৭%রবি মৌসুমে হয়। জেলাওয়ারি হিসেবে সবচেয়ে বেশি মরিচ হয় বৃহত্তর বরিশাল জেলায়, রবি মৌসুমের মোট উৎপাদনের প্রায় ১৪%। মোট রবি মৌসুমের উৎপাদনের ১০% হয় বৃহত্তর কুমিল্লায় ও ১৫% চাষ হয় জামালপুরে।

মরিচের চাষ বাংলাদেশের সব জেলাতেই হয়। তবে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হয় বগুড়া, রংপুর, জামালপুর, কুড়িগ্রাম, নাটোর ও যশোর জেলায়। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো মরিচ চাষ ও উৎপাদনের উপর একটি নমুনা জরিপ সম্পন্ন করে। দেশব্যাপী বিস্তৃত এই জরিপে এক শতাংশ বা তার চেয়ে বেশি জমিতে যেসব কৃষক মরিচ চাষ করেন তাদের অন্তভুক্ত করা হয়। এই অন্তর্ভুক্ত অনুযায়ী এদেশে মোট ৮ লাখ ৩৪ হাজার ৭৫৭কৃষক বাণিজ্যিকভাবে মরিচ উৎপাদন করে বলে জানা গেছে। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের বাইরে কৃষকের আনাচে-কানাচে নিজেদের খাওয়া বা ব্যবহারের জন্যে যে মরিচ উৎপাদিত হয় তা বাণিজ্যিকভাবে মরিচ উৎপাদনে যুক্ত জমির সমান বলে ধরে নেয়া যায়। এই হিসাবে সারাদেশে ৮ লাখ ৬৯ হাজার ৫১৪ একর জমিতে মরিচ উৎপাদিত হয় বলে ধারণা করা যায়। তবে এ বছর জামালপুর জেলায় ৮ হাজার ২শ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ করা হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে অনেকটাই বেশী।

নাওভাঙ্গাচরের মরিচ চাষি সুুজন মিয়া জানান, এ বছর ৪ বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন তিনি। প্রতি বিঘায় তার খরচ হয়েছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা মরিচ ক্ষেত গত বছর বিক্রি করেছিলেন ৭৫ থেকে ৯০ হাজার টাকায়। কিন্তু এবার ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকাও বিক্রি করতে পারছেন না।

ইসলামপুরের বেলগাছা ইউনিয়নের মুন্নিয়ার চরের নারী দিনমজুর শ্যামলী আক্তার, হেলেনা বেগম ও বানেছা বেগম মরিচ ক্ষেতে কাজ করেন। তারা জানান, এবার মরিচের আবাদ ভালো হলেও মালিকরা দাম পাচ্ছে না। আমরাও বাড়ির কাজ শেষে মরিচ খেতে কাজ করে সংসার চালাইতে ছিলাম। কিন্তু মরিচের দাম না থাকায় মালিকরা আমাদের মুজুরী দিতে পারছে না। গতবছর আমাদের প্রতিজনকে প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা করে মুজুরি দেওয়া হয়ে ছিল। এবার ২০০ টাকাও দিতে পারছে না।

ঢাকা থেকে আসা কালু ব্যাপারী ও রাজীব দেব জানান, চলতি মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে ১১ লাখ টাকায় ১৭ বিঘা মরিচ ক্ষেত কিনেছি। এখন পর্যন্ত ৩ লাখ কাটার মরিচ বিক্রি করছি। প্রতিদিনেই ১৫ থেকে ২০ জন নারীশ্রমিক ক্ষেতে মরিচ তোলার কাজ করেন। প্রতি বিঘায় লোকসান হচ্ছে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ টাকা। এ ক্ষতি সহজে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব না।

জামালপুরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপপরিচালক নিতাই চন্দ্র বণিক দৈনিক দেশকে বলেন, ৭ টি উপজেলা দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মেলান্দহ, সরিষাবাড়ি, বকশিগঞ্জ উপজেলার যমুনা ও ব্রক্ষ্মপুত্র নদীর অববাহিকায় মুন্নিয়ারচর, সাপধরী, বেলগাছা, নুয়ারপাড়া, দেওয়ান গঞ্জের কুলকান্দির চরাঞ্চলসহ প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমিতে করা হয়েছে মরিচের চাষ। মরিচ চাষে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এ বছর উন্নত জাতের মরিচ চাষ করা হয়েছে।ইতিমধ্যেই বাজারে আসতে শুরু করেছে মরিচ।কৃষকরা তাদের উৎপাদিত মরিচ বাজারে এনে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। এবার জেলায় উন্নত জাতের মরিচ চাষ হয়েছে।কৃষকদের লাভবান করতে মাঠ পর্যায়ে চাষীদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এ বছর জেলায় ৮ হাজার ২শ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ করা হয়েছে।

সর্বশেষ - সোশ্যাল মিডিয়া