ঢাকামঙ্গলবার , ২ নভেম্বর ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গ্যাজেট
  11. জাতীয়
  12. টাকা-আনা-পাই
  13. দেশ পরিবার
  14. দেশ ভাবনা
  15. দেশ সাহিত্য

‘বিএনপি’ ঘোমটা দিয়ে মনোনয়ন বাণিজ্যে : কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নভেম্বর ২, ২০২১ ৫:৫৭ অপরাহ্ণ

ইউপি নির্বাচন দলীয়ভাবে না করার জানালেও দিলেও প্রতীক না দিয়ে ঘোমটা পরে বিএনপি নির্বাচন করছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, বিএনপি বলে তারা নির্বাচন করবে না। আবার ইউনিয়ন পরিষদে মার্কা ছাড়া স্বতন্ত্র নির্বাচন করছে। স্বতন্ত্রভাবে সারা দেশেই তারা প্রার্থী দাঁড় করাচ্ছে। আমি বলতে চাই, ফখরুল সাহেব, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে মনোনয়ন বাণিজ্যের কোনো রেকর্ড নেই। কোনো তথ্য নেই। খুঁজে পাবেন না। আপনাদের কেন্দ্রীয় মনোনয়নেই বাণিজ্যের অভিযোগ, জাতীয় থেকে স্থানীয় নির্বাচন সর্বত্রই হচ্ছে। প্রতীক না দিয়ে ঘোমটা পরে মনোনয়ন বাণিজ্য করছেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে নোয়াখালীর চৌমুহনীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

দলীয় সরকারের উদ্দেশে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না দলটির নেতাদের এমন মন্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় বাংলাদেশের সংবিধানেও নির্দিষ্ট করা আছে কীভাবে নির্বাচন হবে। সময়মত সংবিধানমত নির্বাচন হবে। কে এলো, আর কে এলো না তাতে তো নির্বাচন বসে থাকবে না।

নোয়াখালীর চৌমুহনীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলার সময় সেখানকার স্থানীয় আওয়ামী লীগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। নোয়াখালীর সন্তান হিসেবে তিনি নিজে ওই ঘটনায় দুঃখ ও লজ্জা পেয়েছেন বলে জানান।

জেলা আওয়ালী লীগ নেতাদের উদ্দেশে কাদের বলেন, ভোট এলে হিন্দুদের কাছে গিয়ে আমরা যারা মায়াকান্না করি, হিন্দু দরদ দেখাই। হিন্দুদের বিপদের সময় আমরা তাদের পাশে দাঁড়াতে পারিনি কেন? এ প্রশ্ন আপনাদের প্রত্যেকের বিবেকের কাছে আমি রেখে গেলাম।

এ সময় নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা চৌমুহনীতে ও বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলীয় কার্য়ালয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটি।

নোয়াখালীর দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, চৌমুহনীতে গত ১২ বছর এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। নোয়াখালিতে পূজামণ্ডপে কোনো হামলা হয়নি। এবারের তাণ্ডবটা কেন হলো, কীভাবে হলো, আমি সেখানকার নেতৃবৃন্দকেই সেটা প্রশ্ন রাখতে চাই। কুমিল্লায় যখন ঘটেছে, এতগুলো পূজা মণ্ডপে, চৌমুহনীতে, আপনারা কেন সতর্ক হলেন না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমাদের এত বড় সংগঠন এত কর্মী বাহিনী। কুমিল্লার ঘটনার পর দিন, চৌমুহনীর ঘটনা ঘটেছে। যদি কঠোরভাবে সতর্কতা আপনারা অবলম্বন করতেন, আওয়ামী লীগ সতর্ক থাকলে এদের এত দুঃসাহস হতো না। এ রকম তাণ্ডব চৌমুহনীতে তারা করে গেল।

সবকিছু প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে থাকলে হয় না বলেও মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এতগুলো মণ্ডপ চৌমুহনীতে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দিলো। আপনারা কি নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। একটা প্রতিরোধও তো হলো না, এটা নোয়াখালীর সন্তান হিসেবে আমাকে দুঃখ দিয়েছে। আমি নিজে লজ্জা পেয়েছি। কী জবাব দেব আজকে হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে।

দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সেখানে ২টি প্রাণহানি ঘটলো। আমাদের বিবেক কি আলোড়িত হচ্ছে না? আমি বলবো, দায়িত্বপালনে ব্যর্থতা আছে। সেটা নিজেরা খুঁজে বের করুন। এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে আপনাদের সতর্কতার উপায় খুঁজে বের করতে হবে।

চৌমুহনীর ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে কাদের বলেন, ঘটনার পর পরই স্বপনকে (আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন) পাঠিয়েছি, সুজিত, সেলিম, অসীম ও ১৪ দলের নেতারা গেছেন। আমি শারীরিকভাবে ডাক্তারের পরামর্শ মত চলছি। যে কারণে আমি ঢাকার বাইরে যাচ্ছি না। তা না হলে আমি অবশ্যই ছুটে যেতাম। চৌমুহনী, কুমিল্লায়, হাজীগঞ্জে, আমার যাওয়ার কথাও ছিল। কিন্তু নেত্রী বললেন, নেতৃবৃন্দকে পাঠাও আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি।

বেগমগঞ্জের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের উদ্দেশে সেতুমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ আপনাদের সঙ্গে আছে। আপনাদের যে ক্ষতিগ্রস্ত পূজামণ্ডপ, মন্দির ও ঘরবাড়ি যেগুলো পুড়ে গেছে, সেগুলো সরকারিভাবে করে দেয়া হবে। এ ব্যাপারে আমি সরকারের পক্ষ থেকে আপনাদের আশ্বস্ত করছি। মন্দিরগুলোর কোনো কোনোটি পুনর্নির্মান, যেগুলোর সংস্কার করার দরকার, সংস্কার এবং যারা যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্ষতি পূরণের জন্য সবকিছু করা হবে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকার মুখে নয়, অন্তরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে। শেখ হাসিনা আপনাদের আপনজন। এ ঘটনায় সরকার আপনাদের সঙ্গে আছে, এ কথা আপনাদের আস্বস্ত করছি।

চৌমুহনীর ঘটনার নেপথ্যে কারা আছে সেটি উদঘাটন করা হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এর কিছু কিছু প্রমাণ পাওয়া যাবে। কারা এর পেছনে খুঁজে বের করবো এবং শাস্তি নিশ্চিত করবো।

তিনি বলেন, আন্দোলনে, নির্বাচনে সাম্প্রদায়িক সস্প্রীতি বিনষ্টের চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী। দুটো কাজ তারা করতে চেয়েছে, এ অপকর্মের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের প্রতি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের যে সমর্থন এই সমর্থনের দূর্গে আঘাত হানতে চেয়েছে। আর একটি হলো- প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বিরাজমান সুসম্পর্কে ফাটল ধরানোর জন্য তারা সুগভীর চক্রান্ত বলে আমি মনে করি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচন আসছে, তারা ক্ষমতা দখলের পায়তারা করছে, ১/১১ সৃষ্টির দুঃস্বপ্ন দেখছে। দেশকে অশান্ত করার জন্য এই সব ঘটনা ঘটাচ্ছে। এই সম্প্রদায়িক অপশক্তির নির্ভরযোগ্য অপশক্তি হচ্ছে বিএনপি। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় মাঝে মাঝে সম্প্রদায়িক সম্প্রতি বিনষ্টের চক্রান্ত হয়।

দলীয় প্রতীক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত যখন থেকে নিয়েছি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কিছু কিছু সমস্যা আছে। ইদানিং কিছু কিছু সমস্যা হচ্ছে। অনেক সময় বিভেদ ও মারামারির মত ঘটনাও ঘটে। কিন্তু আমরা নির্বাচনে প্রতীক দিয়ে আবার সামনের নির্বাচনগুলো ওপেন দেব এটা সত্য নয়। এমন কোনো চিন্তা আওয়ামী লীগ করেনি।

এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বক্তব্য রাখেন।

সর্বশেষ - সোশ্যাল মিডিয়া