ঢাকাসোমবার , ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গ্যাজেট
  11. জাতীয়
  12. টাকা-আনা-পাই
  13. দেশ পরিবার
  14. দেশ ভাবনা
  15. দেশ সাহিত্য

সোনারগাঁয়ে মেঘনার তীরে সাদা কাশফুল রাজ্য

মাজহারুল ইসলাম, সোনারগাঁ প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২১ ৫:৫৬ অপরাহ্ণ


অন্ধকার মেঘ বৃষ্টির কোথাও চিহ্ন পর্যন্ত নেই। জলবৃষ্টির পৃথিবী ছেড়ে নীল দিগন্তের দিকে ছুটছে সুরমা মেইল। এখন প্রকৃতি হাওয়া বইছে শরৎকাল। আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে সাদা মেঘের ভেলা। নীল আকাশজুড়ে অলস মেঘের অবাধ বিচরণ। খন্ড খন্ড মেঘের নিরুদ্দেশ যাত্রা। রোদের ঝলকানির পাশেই মেঘের ছায়া। মেঘ আর রোদের কানামাছি খেলার মাঝে বৃষ্টিও অংশ নিচ্ছে। এমন দিনে সোনারগাঁয়ে আপনাকে স্বাগত জানাতে কাশফুল ‘সাদা ডালি’ সাজিয়ে বসে থাকে। ফাঁকা জমিতে শরতের সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে বসে আছে এ কাশফুল।


সৌন্দর্যে ঐশ্বর্যে প্রকৃতির রূপ লাবণ্যে শরৎরাণীর রূপ বর্ণনায় শ্যামল ছায়া বাংলাদেশের মাঠ-ঘাট, নদী-নালা ও বিলের পাড়ে বালুচরে নীল আকাশে রূপালী তারায় ভরে উঠেছে সাদা কাশবন। মেঘ মুছে যাওয়া বর্ষণ শেষের আকাশে হাজার হাজার তারা ঝিকিমিকি করে জ্বলছে। রোদে ঝল মল করছে চারিদিক। দেখা যাচ্ছে নীল আকাশ স্বচ্ছ সাদা মেঘ। আর সাদা মেঘের ভেলায় ভাসছে কাশফুলের ছোঁয়া। দৃষ্টিনন্দন এ কাশফুলের স্বর্গ রাজ্য এখন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীর তীরে। প্রায় দুইশ’ একর চর জুড়ে দেখা মেলে এমন কাশবন। আর এ কাশফুলের ছোঁয়া নিতে সৌন্দর্য উপভোগ করতে সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীর তীরে পিরোজপুর ইউনিয়নের ভাটিবন্দর ও কান্দারগাঁয়ের মধ্যবর্তী এলাকায় প্রতিদিনই ছুটে আসছে দর্শনার্থীরা।


উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের ভাটিবন্দর ও কান্দারগাঁয়ে মধ্যবর্তী এলাকায় মেঘনা নদীর তীরে গেলে দেখতে পাবেন কাশফুলের রাজ্য। নদীর ধার ধরে ভেতরের দিকে যত যাবেন, ততই মুগ্ধ হবেন। দু’পাশে কাশফুলগুলো মাথা নুয়ে আপনাকে স্বাগত জানাবে। বালুর মধ্যে গুচ্ছ গুচ্ছ কাশফুল দেখে মনে হবে, প্রকৃতি আপনার মনের প্রশান্তির জন্য এ রূপে সেজেছে। শেষ প্রান্তের দুদিকে সাজানো কাশফুল দেখে মনে হবে, যেন আপনি দাঁড়িয়ে আছেন কাশফুলের রাজ্যে। যত দূর চোখ যায়, তত দূর কাশ ফুলের শুভ্রতা।

এখন বর্ষার শেষ দৃশ্য আসে আসে, দিনের বেলায় কখনো রোদ্দুর। “আমার রাত পোহালো শারদ প্রাতে” গানের আশ্চর্য এই কলিটি সেই অনিন্দ স্বর্গ কন্ঠ কৃনন্দ-লাল সায়গলে। আর এই স্বর্গ ছেড়া গানটি লিখেছেন মহাকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। শরৎকাল নিয়ে তার আশ্চর্য মায়াজালের অন্তরালে যেন উঁকি দেয় আমাদের ক্ষয়িভূত বা ভস্মীভূত পৃথিবী, এক ভূস্বর্গ আমাদের শরৎ ঋতু যেন চিত্রপিত বাংলা, নয়নালোভন হৃদয় হরণ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অসংখ্য মানুষের ভিড় এ ভাটিবন্দর কাশফুলের বনে। কাশবনে এ সৌন্দর্য দেখতে নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও নরসিংদীসহ আশপাশের জেলার ভ্রমণ প্রেমীরাও ভিড় করেছে। অনেকে দলবেধে নৌকা বা ট্রলার নিয়েও বেড়াতে যান এ কাশফুলের রাজ্যে। কাঁশফুল কাছে পেলেই ছবি তোলার হিড়িক পড়ে যায়। কেউ সেলফি তুলছেন আবার কেউবা ভিডিও করছেন। আর একটু দূরেই মেঘনা নদীর ঢেউয়ের গর্জন। এক কোণে দাঁড়ালেই মেঘনা নদীর বিরামহীন সৌন্দর্য। সূর্যাস্তের সময় নদীতে গোধূলির লাল, একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকার মতো। যে কেউই এর অপার সৌর্ন্দযে নীরব সাক্ষী হতে চাইবে।

কথা হলো কাশফুল দেখতে আসা কয়েকজন দর্শনার্থীর সাথে। কামরুজ্জামান, ববি ও কেয়া। তারা তাৎক্ষণিক অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘কাশফুলের কাছে এসে খুবই আনন্দ পাচ্ছি। মনকে পরিষ্কারের জন্য আমরা এখানে আসি। কাশফুলের সান্নিধ্য পাওয়াটা একটু বাড়তি বিনোদন। অবসর সময়টা কাটানোর ভিন্ন একটা স্থান কাশফুলে জেগে এ প্রকৃতি। আরেকটা বিষয় আমাদের খুব ভালো লাগে। সেটা হচ্ছে, এই যে নদী তার পাশে কাশফুলের এ রাজ্য। বিষয়টা দেখতেও বেশ রোমাঞ্চকর।

নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থী সামির আহমেদ, এন্তেহার সামস ও হৃদি হাসান জানান, তারা কয়েকজন বন্ধু মেলে আসেন এখানে। মেঘনা নদীর চরের কাশবন অনেক সুন্দর। দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। চারপাশে কাশফুল, কোনও কুল-কিনারা নেই। সব মিলিয়ে চমৎকার দৃশ্য।

সোনারগাঁয়ের কবি রহমান মুজিব বলেন, মেঘনা নদীর পাড়ে কী যে সুন্দর কাশফুল। কাল বিকেলের দিকে দেখতে গিয়েছিলাম। আমার কাছে খুব ভালোই লাগলো। এত সুন্দর কাশফুল যে এখানে আছে তা তো কখনও কল্পনা করিনি। দেখে তো আমি পুরোই অবাক। একদিকে নদী আর অন্যদিকে কাশফুল। এ যেন কাশফুলের রাজ্যে চলে এলাম মনে হয়। মাইন্ড একদম ফ্রেশ হয়ে গেল।

সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম জানান, আমার ইউনিয়নের মেঘনা নদীর পাড়ে শরতের কাশবন মাসের পর মাস বেশি সময় ধরে দেখা যায়। এখানে এ সময়ে প্রতিদিনই অনেক লোকজন আসে। এ এলাকাটি এখন মৌসুমি পর্যটনকেন্দ্র হয়ে গেছে। এ মেঘনার বুকে একটি আধুনিক পর্যটন করা যেতে পারে। নৌযান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ পর্যটন কর্তৃপক্ষের তত্ববাবধান থাকলে মেঘনার এ তীর হয়ে উঠতে পারে ব্যতিক্রম বিনোদন কেন্দ্র। সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো আতিকুল ইসলাম জানান, পিরোজপুর ইউনিয়নের ভাটিবন্দর মেঘনা নদীর পাড় একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা। আমরা চাই এ অঞ্চলের ব্যাপারে দেশ-বিদেশের পর্যটনপ্রেমিদের আগ্রহ বাড়ুক।

শরতের এতো রূপ. এতো ঐশর্য্য, এতো মোহ, এতো ঋতু বৈচিত্র্য, এতো রঙধনুর রং, এতো নীল আকাশের নীলা, এতো ছায়াপথের আলোছায়া, এতো সূর্য্যাস্তের রক্তরাগ, এতো ভোরের শিশির, এতো কাঁশ ফুলের হেলা দোলা, আর এই বাঙলা মা ছাড়া কোথায় পাবো? চোখ জুড়িয়ে যায়, মন জুড়িয়ে যায়, জীবন জুড়িয়ে যায়, সব পেয়েছি আমার এই দেশের সোনার বাংলায়।

সর্বশেষ - সোশ্যাল মিডিয়া