ঢাকাশুক্রবার , ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গ্যাজেট
  11. জাতীয়
  12. টাকা-আনা-পাই
  13. দেশ পরিবার
  14. দেশ ভাবনা
  15. দেশ সাহিত্য

অগ্নিযুগের মহান বিপ্লবী : প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার

dWPKOARWAa
সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১ ৯:১২ পূর্বাহ্ণ

সাহেনা আক্তার


অগ্নিযুগের মহান বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। ডাক নাম রাণী নামে কেটেছে তাঁর শৈশব। সংগ্রাম আর বিপ্লবী জীবনে ফুলতার (ছদ্মনাম) হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯১১ সালের ৫ মে চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া ধলঘাট গ্রামে তাঁর জন্ম। অগ্নিযুগের এই মহান বিপ্লবীর মৃত্যুর দিনটি ছিলো ২৪শে সেপ্টেম্বর, ১৯৩২ বঙ্গাব্দ। ভারতবর্ষের স্বাধীনতার জন্যে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করা প্রীতীলতাদের অকুতোভয় আর নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মৃত্যুতেই সব শেষ হয়ে যায় না, তাঁর জলন্ত প্রমাণ মৃত্যুঞ্জয়ী একজন শহীদ বীর প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার।



“সেই মহান পল্লী বালা
প্রাণ প্লাবণের আঘাতে ভাসি
অন্ধকারের প্রাচীরের তলায়
প্রদীপের শিখা উঠল হাসি।
অগ্নিদহনের জীবন তোমার
দহন করিয়া জ্বেলেছ আলো
করেছ উত্তাল তব অঙ্গন তোমার
বাসিয়া সকল আঁধারের কালো”।


এমনি একজন বীরকন্যা শহীদ প্রীতিলতা। যিনি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে মুক্তি আন্দোলনের আত্মোৎসর্গকারী প্রথম নারী ছিলেন। একজন বাঙালী নারী হয়েও যিনি ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রথম বিপ্লবী ও নারী মুক্তিযোদ্বা হিসেবে অন্যতম ভুমিকা রেখে গেছেন। তাঁর পিতা ছিলেন, মিউনিসিপ্যাল অফিসের হেড কেরানী জগদ্বন্ধু ওয়াদ্দেদার এবং মাতামহের নাম প্রতিভাদেবী। অন্তমুখী ও লাজুক স্বভাবের প্রীতিলতাকে মা প্রতিভাদেবী শৈশবে আদর করে রাণী বলে ডাকতেন। ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ছিল প্রীতিলতার প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯১৮ সালে তিনি এই স্কুল হতেই প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন। ইতিহাস শিক্ষকের “ঝাঁসীর রাণী লক্ষীবাই”-এর পুরুষের বেশে ইংরেজ সৈন্যদের সাথে লড়াইয়ের ইতিহাস বর্ণনাই অকুতোভয় বিপ্লবী হিসেবে নিজেকে দেখার চেতনা তৈরি হয়েছিল প্রীতিলতার। তিনি নাটক লিখতেন এবং মঞ্চে নিজেও অংশ গ্রহণ করে সে নাটক পরিবেশন করতেন। ভালো বাঁশী বাজাতে জানতেন তিনি। আটর্স ও সাহিত্য ছিল তাঁর প্রিয় বিষয়। পেশা হিসেবে শিক্ষকতাকেই বেছে নিয়েছিলেন নন্দনকানন উচ্চ বিদ্যালয়ে (যা বর্তমানে অপর্ণাচরণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত)। তিনি প্রধান শিক্ষক পদে নিযুক্ত ছিলেন। অত্যন্ত মেধাবী এই প্রীতীলতা ১৯২৮ সালে কয়েকটি বিষয়ে লেটার মাকর্স নিয়ে ম্যাট্রিক পাশ করে ১৯৩০ সালে ঢাকার ইডেন কলেজ হতে আই এ পরীক্ষায় তিনি মেয়েদের মধ্যে প্রথম এবং সবার মধ্যে পঞ্চম স্থান লাভ করেন। পরে দর্শন বিষয়ের উপর ভালো দখলের কারণে অনার্স করতে চাইলেও বিপ্লবের সাথে যুক্ত হওয়ার আকাঙ্খায় অনার্স পরীক্ষা দেয়া হয়ে উঠেনি। ১৯৩২ সালে ডিসটিংকশন নিয়ে তিনি বিএ পাশ করলেও ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে যুক্ত থাকায় পরীক্ষার ফল স্থগিত রাখা হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ২২ মার্চ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে মরণোত্তর স্নাতক ডিগ্রী প্রদান করেন। প্রীতিলতার একজন নিকট আতœীয় পূনের্ন্দু দস্তীদার ছিলেন বিপ্লবী দলের কর্মী। তিনি সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত কিছু গোপন বই প্রীতিলতার কাছে রেখেছিলেন। এরই সুবাদে লুকিয়ে-লুকিয়ে তিনি পড়েছিলেন “দেশের কথা, বাঘা যতীন, ক্ষুদিরাম আর কানাইলাল।” এই বইগুলোই প্রীতীলতাকে বিপ্লবের আদর্শে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। তাই তিনি দাদা পূনের্ন্দু দস্তিদারের কাছে বিপ্লবী সংগঠনে যোগদান করার গভীর ইচ্ছে প্রকাশ করেন। তখন পর্যন্ত বিপ্লবীদলে কোন মহিলা সদস্য ছিলনা। যদিও আই এ পড়ার জন্য ঢাকায় দু’বছর থাকাকালীন সময়ে নিজেকে মাষ্টারদা সূর্য সেনের একজন উপযুক্ত কমরেড হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়েছিলো। ইডেন কলেজের শিক্ষক নীলিমাদির মাধ্যমে দীপালী সঙ্গে যোগ দিয়ে প্রীতিলতা লাঠিখেলা, ছোরাখেলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিল। ১৯২৯ সালের মে মাসে চট্টগ্রামে সূর্যসেন ও তাঁর সহযোগীদের আয়োজিত চট্টগ্রাম জেলা কংগ্রেসের জেলা সম্মেলনে ছাত্র সম্মেলন ও যুব সম্মেলন পাশাপাশি পূর্নেন্দু দস্তীদারের বিপুল উৎসাহের কারণেই নারী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। এতে মহিলা কংগ্রেস নেত্রী লতিকা বোসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে প্রীতিলতা ঢাকা থেকে যোগদান করেন। এ সময় সূর্য সেনের অধীনে চট্টগ্রামের বিপ্লবী দলে যুক্ত হওয়ার তাঁর আপ্রাণ চেষ্টা ব্যার্থ হয়ে ফিরে যেতে হয়। ১৯৩০ সালের ১৯ এপ্রিল যখন প্রীতিলতা আইএ পরীক্ষা  দিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফিরে আসেন। তার আগের রাতেই চট্টগ্রামে বিপ্লবীদের দীর্ঘ পরিকল্পিত আক্রমণে ধ্বংস হয় অস্ত্রগার, পুলিশ লাইন, টেলিফোন অফিস এবং রেললাইন। এটি চট্টগ্রামের যুব বিদ্রোহ নামে পরিচয় লাভ করেছিল। চট্টগ্রামের মাটিতে বিপ্লবীদের এই উত্থান সমগ্র বাংলার ছাত্র সমাজকে উদিপ্ত করে যা প্রীতীলতার হৃদয়েও বিপ্লবীদের জন্য গভীর শ্রদ্ধার জাগরণের পাশাপাশি বীরত্বপূর্ণ এই সংগ্রামে অংশগ্রহণ করতে না পেরে বেদনাহত হয়েছিল। নানা প্রচেষ্টার পর এক সময় কল্পনা দত্তের মাধ্যমে “ডিউটি টু ফ্যামিলি-কে ডিউটি টু কান্ট্রি”-এর কাছে বলি দিতে পারবো” দৃঢ প্রতিশ্রæতি নিয়ে মাষ্টার দা সূর্য সেনের দলে যোগাযোগ করে আগ্নেয়াস্ত্র ট্রিগারিং এবং টার্গেটিং-এর উপর প্রীতিলতা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। বিপ্লবী কর্মকান্ডের জন্য তিনি সংগ্রহ এবং সরবরাহও করতেন। ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে সূর্য সেনের নির্দেশে অসীম সাহসী ও প্রথম বিপ্লবী নারী প্রীতিলতা ১৫ জনের একটি বিপ্লবী সহযোদ্ধাসহ পূর্ণ সামরিক বেশে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে অবস্থিত তৎকালীন “কুকুর এবং ভারতীয়দের প্রবেশ নিষেধ” লেখা সাইনবোর্ড লাগনো ইউরোপীয়ান ক্লাব আক্রমণে অংশ নেন। দেশের স্বাধীনতার জন্য তুমি অহিংস উপায়ে সংগ্রাম করতে চাও?-এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিতেও পারবো, প্রাণ নিতেও মোটেই মায়া হবে না স্পষ্ট জবাবের প্রীতিলতা সামনে থেকে এই আক্রমণের নেতৃত্ব দেন। তবে ইউরোপিয়ান ক্লাব সফল অভিযানের পর ফিরে আসার সময় এক ইংরেজের গুলিতে আহত হয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকায় এবং সহযোদ্ধাদের সাথে গতি কমে আসায় শত্রুর হাতে ধরা পরার আশংকায় পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিজের পোশাকের ভেতর লুকিয়ে রাখা মারাত্বক বিষ পটাসিয়াম সায়ানাইড মুখে পুরে দেন তিনি। এ সময় আক্রমণে অংশ নেয়া অন্য বিপ্লবীদের দ্রুত স্থান ত্যাগের নির্দেশ দেন। ফলে পটাসিয়াম সায়ানাইড খেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরা প্রীতিলতাকে বিপ্লবী শ্রদ্ধা জানিয়ে সবাই স্থান ত্যাগ করেন। এ সময় কালীকিংকরদের হাতে তাঁর রিভলবার তুলে দিয়ে আরো পটাসিয়াম সায়ানাইড চাইলে কালীকিংকর তা প্রীতিলতার মুখের ভেতর ঢেলে দেন। পরদিন পুলিশ ক্লাব থেকে ১০০ গজ দূরে প্রীতিলতার মৃতদেহ সনাক্ত করে। তাঁর মৃতদেহ তল্লাশী চালিয়ে বিপ্লবী লিফলেট, অপারেশনের পরিকল্পনা, রিভলবারের গুলি, রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের ছবি এবং একটা হুইসেল পাওয়া যায়। পরে বেঙ্গল চীফ সেক্রেটারী প্রীতিলতার মৃত্যুর পর লন্ডনে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো ময়নাতদন্তের এক রিপোর্টে জানা যায়, গুলির আঘাত তেমন গুরুতর ছিল না। তবে পটাসিয়াম সায়ানাইডই ছিল তাঁর মৃত্যুর কারণ। প্রীতিলতার মৃত্যুর পর যদিও তাঁর মা গর্ব করে বলতেন- “আমার মেয়ে দেশের কাজে প্রাণ দিয়েছে” কিন্তু তাঁর পিতা শোকে-দুঃখে পাগলের মত হয়ে গেলেন। অগ্নিযুগের এই মহান বিপ্লবীর অবদান আমাদের মাঝে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর ৮৯তম মৃত্যুবার্ষিকীর এই দিনে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করি।
লেখক : সাহেনা আক্তার, সাংবাদিক ও সাধারণ সম্পাদক, প্রগতিশীল সংবাদপত্র পাঠক লেখক ফোরাম, কেন্দ্রিয় কমিটি।

প্রতিবেদক

সর্বশেষ - সোশ্যাল মিডিয়া

আপনার জন্য নির্বাচিত

আজ ন্যায় বিচারের দিন, আবরার হত্যার রায় ১২টায়

শঙ্কা আর সতর্কতায় তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচন শুরু

দৌলতপুরে অপসোনিন ফার্মার কর্মশালা অনুষ্ঠিত

‘অনেক অস্বস্তি নিয়ে বিএনপিতে টিকে আছি’, জানালেন হাফিজ

নাসিক ২৭ নং ওয়ার্ড বিট পুলিশিং মতবিনিময় সভা

যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের জন্য ১৫৮ মিলিয়ন ডলার দেবে

করোনায় কাজ হারিয়ে ফেরত এসেছেন ৫ লাখ প্রবাসী

টেকসই ভবিষ্যতের জন্য প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর ভূমিকা চান প্রধানমন্ত্রী

কলারোয়ায় রাস্তার উন্নয়ন কাজ উদ্বোধন

নগরের নিরাপত্তায় নৈশপ্রহরীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সিএমপি

রাউজানে ১০০ শিক্ষার্থী পেল শিক্ষা উপকরণ

প্রধানমন্ত্রী’র ১৫ দিনের বিদেশ সফর রোববার শুরু