ঢাকাশুক্রবার , ৩ সেপ্টেম্বর ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গ্যাজেট
  11. জাতীয়
  12. টাকা-আনা-পাই
  13. দেশ পরিবার
  14. দেশ ভাবনা
  15. দেশ সাহিত্য

কোন জাদুর কাঠির স্পর্শে স্বাস্থ্য খাত জেগে উঠবে

dWPKOARWAa
সেপ্টেম্বর ৩, ২০২১ ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ

স ম মাহবুবুল আলম


কথা বলতে হলে তথ্য (ডাটা) প্রয়োজন। নির্ভরযোগ্য তথ্য। কীভাবে আমরা তথ্য পাবো? সে জন্য একটি জাতীয় স্বাস্থ্য ডেটাবেজ (তথ্যভাণ্ডার) নির্মাণ করতে হবে। ন্যূনতম ফিল্ড দিয়ে শুরু করতে হবে ডেটাবেজ। কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, সবাই যেন সহজে, স্বাচ্ছন্দ্যে সেই ডেটাবেজে তথ্য যুক্ত (ডাটা এন্ট্রি) করতে পারেন। সেবা গ্রহণকারী ও সেবা প্রদানকারী প্রত্যেকের প্রতিদিনের প্রতিটি কার্যক্রম ডাটায় পরিবর্তিত হয়ে ডেটাবেজে সংরক্ষিত হবে। ধাপে ধাপে ল্যাব, রেডিওলজি, নতুন প্রযুক্তির উপাত্ত, সেবার মান, আর্থিক তথ্য, চিকিৎসা সামগ্রীর হিসাব, ফার্মেসি, জিপিএস ট্র্যাকিং ইত্যাদি-সহ আরও নানা তথ্যের সন্নিবেশ ঘটিয়ে একটা পূর্ণাঙ্গ, সংহত ও সমৃদ্ধ ডেটাবেজে গড়তে হবে। স্বাস্থ্যসেবায় তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার উন্নত চিকিৎসা সেবা, চিকিৎসায় ত্রুটি হ্রাস, সাশ্রয়ী মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, প্রশাসনিক দক্ষতা ও কাজের গতি বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ঝুঁকি জনগণকে দ্রুত অবহিত করে সিদ্ধান্তের সুযোগ করে দেবে। তথ্য প্রযুক্তির যে অসীম সক্ষমতা তার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংযুক্তিতে তা হবে অনেক বেশি দক্ষ। বিস্তারিত ও হালনাগাদ উপাত্ত স্বাস্থ্যসেবায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে অত্যন্ত অপরিহার্য। নিশ্চিত করতে হবে নীতিনির্ধারক, ব্যবস্থাপক, চিকিৎসক, গবেষক যেন এক ক্লিকেই পান সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য।


প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংলাপে যেতে হবে। ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে। তার ভিত্তিতে তৈরি হবে নীতিমালা। অনেকের সঙ্গে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে। সংলাপের জন্য রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও প্রজ্ঞা প্রয়োজন। অনেকেই বলবেন, আমরা তো জানি কী করতে হবে। এত আলোচনায়, কথাবার্তায় সময় নষ্ট করার কী দরকার? সংলাপ সমস্যা বুঝতে সাহায্য করে। বহু মত ও পথ সামনে আসে। দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ সামষ্টিক বা সবার করে তোলে। সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অর্জন সম্ভব।


বাংলাদেশ জাতিসংঘ ঘোষিত আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছে, যার তৃতীয় লক্ষ্যটির অষ্টম লক্ষ্যে (এসডিজি-৩.৮) সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আজকের দিনে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে পৃথিবীর প্রায় সব দেশই সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনকে আদর্শিক অবস্থান হিসেবে গ্রহণ করেছে। যেখানে অসুখ-বিসুখ বা দুর্ঘটনায় পড়লে একটি দেশের সব নাগরিক আর্থিক বিপর্যয় ছাড়া তার প্রয়োজনীয় ও মানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবা পাবে। স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিতে সমতা বৃদ্ধি করা তার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একটি নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার জন্য মাথাপিছু ব্যয় হবে ১৪৬ ডলার। যার ৮০-১০০ শতাংশ সরকারকে ব্যয় করতে হবে। সেখানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে মাথাপিছু ব্যয় মাত্র ৪২ ডলার। যার ৭৩ শতাংশ ব্যক্তির নিজস্ব ব্যয়। নিজের পকেট থেকে আকস্মিক স্বাস্থ্য ব্যয় মেটাতে গিয়ে বাংলাদেশে প্রতি বছর ৫২ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়ে পড়ছে। তাই বাংলাদেশে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রচলনের কোনও বিকল্প নেই। পৃথিবীর অনেক নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশ সে পথে এগিয়ে গেছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্য অর্জনের এসডিজি-৩-এর সূচকে বাংলাদেশ লাল তালিকায় আছে। লক্ষ্যমাত্রা থেকে পড়ে আছে অনেক পেছনে। স্বাস্থ্য খাত উন্নয়নসহ এসডিজি’র অনেক ক্ষেত্রে লক্ষ্য পূরণ করতে গেলে বাংলাদেশকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জ কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে? তা অনেক দেশের মতো আমাদের দেশের নীতিনির্ধারকদের কাছেও অস্পষ্ট। সন্দেহাতীতভাবে আমাদের জনস্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থাকে (সরকারি অর্থায়নে) শক্তিশালী করতে হবে। স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বিনিয়োগ নৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকেই সঙ্গত ও যৌক্তিক। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন শক্তিশালী স্বাস্থ্য অবকাঠামো ও নিরবচ্ছিন্ন অর্থের সরবরাহ।

আমাদের মতো গরিব দেশ কি পারবে অর্থের সংস্থান করতে? স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়াতে হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব। স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ দারিদ্র্য দূরীকরণে ভূমিকা রাখে। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিনিয়োগ শ্রমশক্তি ও শিক্ষার মানোন্নয়ন ঘটায়, অনগ্রসর মানুষ ও নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে। দেশ সার্বিক উন্নয়নের পথে পা বাড়ায়।

স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির অন্তত ৫ শতাংশ বা বাজেটের ১৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখার সুপারিশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার। আমরা তো ধাপে ধাপে সেই লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যেতে পারি। জানি সরকারের মেগা প্রজেক্টসহ অগ্রাধিকারের অনেক জায়গা আছে। আমাদের মতো নিম্ন ও মধ্য আয়ের অনেক দেশে বাজেটের বড় অংশ ব্যয় করতে পারছে তাদের জাতীয় সংহতি ও সমতার প্রতি অঙ্গীকার থেকে। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জন করতে আমাদেরও তা করতে হবে।

করোনাকালে স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি বহুল আলোচিত। স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাপক দুর্নীতি যেকোনও লক্ষ্য অর্জনকে হুমকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। স্থানীয় ও সামাজিক সম্পৃক্ততা তৈরি, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে নিচ থেকে দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে হবে। একই সঙ্গে পরিকল্পনা, প্রস্তুতি, পদ্ধতিগত পরিবর্তন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সর্বোচ্চ প্রভাব বিস্তারকারী দুর্নীতিগুলো রুখতে হবে। রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক শক্তি দুর্নীতির প্রাণ। শুরুতে উল্লেখ করা একটি পূর্ণাঙ্গ ডেটাবেজ দুর্নীতি, প্রতারণা ও অপচয় রোধে বড় ভূমিকা রাখবে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের গবেষণাপত্রে স্বাস্থ্য খাতে ২০-৪০% অপচয় দেখা যায়।

একদিকে বাজেটে ক্রমাগত স্বাস্থ্য খাতে স্বল্প বরাদ্দ, অন্যদিকে বাজেটের সেই স্বল্প বরাদ্দ বাস্তবায়নে ব্যর্থতা চূড়ান্ত অদক্ষতার প্রকাশ। বাজেট পরিকল্পনা, প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের জায়গাগুলোতে সঠিক বরাদ্দ দিয়ে বাজেট ঘাটতির সংকট সহনীয় করা যায়। স্বাস্থ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে অর্থপূর্ণ সম্পর্ক প্রয়োজন। দুর্নীতি, অপচয় রোধ ও দক্ষতা বাড়িয়ে স্বাস্থ্য খাতের সীমিত বরাদ্দের অর্থকে কার্যকর অর্থে রূপান্তরিত করা যায়। জিডিপির অনুপাতে কর আদায়ের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান নিম্নতম পর্যায়ে। সরকার কর আদায়ে এই উদ্বেগজনক দুর্বলতা দূর করতে পারলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করা যেত। স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ একটি জাতির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন।

শুধু অর্থের সংস্থান করে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব না। উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন, অনুপ্রাণিত স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনের মূল শক্তি। বাংলাদেশে প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য আছে ৮.৪ জন স্বাস্থ্যকর্মী। ২০৩০ সালে এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে তা হতে হবে ৪৪.৫ জন। আবার এই জনবল সংকটের ভেতরে চিকিৎসকের অনুপাতে নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতির ব্যবধান ব্যাপক। স্বাস্থ্যসেবার এই বড় অন্তরায় সরাতে স্বাস্থ্যসেবা কর্মী বৃদ্ধি ও তাদের দক্ষতা উন্নত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সঙ্গে আশু নার্স ও মিডওয়াইফের ঘাটতি দ্রুত পূরণের উদ্যোগ কার্যকর ফল এনে দেবে। স্বাস্থ্য খাতে ব্যবস্থাপনার সংকট তীব্র। এ খাতে বিভিন্ন স্তরে নেতৃত্ব প্রদান ও দক্ষ ব্যবস্থাপক জনশক্তি গড়ে তোলা হয়নি। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে এ খাতে জনশক্তিকে দ্রুত দক্ষ করে তুলে সুশাসন ও আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা গভীর উদ্দীপনাহীনতায় ভুগছেন। চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের কর্মক্ষেত্র অনিরাপদ ও তাদের অবস্থান যথাযথ মর্যাদাপূর্ণ নয়। চিকিৎসকরা আন্ত-ক্যাডার বৈষম্যের দুর্ভাগ্যজনক শিকার। তাদের উদ্দীপনাহীনতার কারণ অনুসন্ধান করে যথাযথ সামাজিক মর্যাদা, আর্থিক প্রণোদনা ও উপযুক্ত কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবার জন্য উজ্জীবিত স্বাস্থ্যসেবা কর্মী প্রয়োজন।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে সবচেয়ে সাশ্রয়ীভাবে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জন সম্ভব। সামাজিক ক্ষমতায়ন ও দায়বদ্ধতার মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা প্রাথমিক চিকিৎসার সঙ্গে পুষ্টি মানোন্নয়ন, নিরাপদ পানীয় জল, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা, শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, টিকাদান, স্বাস্থ্যবিধি শিক্ষা ইত্যাদি (প্রমোটিভ, প্রিভেনটিভ, কিউরেটিভ এবং রিহ্যাবিলিটেটিভ) সেবা সমন্বিতভাবে প্রদানে সক্ষম। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যক্তি ও পরিবারকে আর্থিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করে। সমতার ভিত্তিতে চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করে। একটি শক্তিশালী ও পূর্ণাঙ্গ প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় কাঙ্ক্ষিত কার্যকর ‘রেফারেল সিস্টেম’ গড়ে দেবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতিটি দেশকে অতিরিক্ত জিডিপির কমপক্ষে ১ শতাংশ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় অবশ্যই বিনিয়োগ করতে বলছে। সরকার একটি এসেনসিয়াল হেলথ সার্ভিস প্যাকেজ (জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্যাকেজ) তৈরি করেছে। তার ব্যয় বিশ্লেষণও করিয়েছে। এতে বছরে ৮ হাজার কোটি টাকার মতো প্রয়োজন হবে। সরকারের তা সরবরাহ করার মতো বাজেট সক্ষমতা আছে। সরকারের তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা উচিত। সরকার যে সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং যে সেবা প্রদান করছে তার মধ্যে যেন গরমিল না থাকে। তা ঘটলে মানুষের মধ্যে আস্থাহীনতা, বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করবে। প্রতিনিয়ত প্রয়োজনীয়তা, বাস্তবায়ন সক্ষমতা ও মান মূল্যায়নের মাধ্যমে এসেনসিয়াল হেলথ সার্ভিস প্যাকেজকে সমৃদ্ধ করতে হবে। এসেনসিয়াল হেলথ সার্ভিস প্যাকেজে প্রতিশ্রুত ওষুধ ও সেবা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের সহনীয় অবস্থায় চলে আসবে। এবং তা সরকারকে তার মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি যাত্রায় জনগণকে প্রবলভাবে সঙ্গে পাওয়ার সুযোগ করে দেবে।

আমাদের দুর্বল, ভঙ্গুর, পশ্চাৎপদ স্বাস্থ্য খাতকে সবল করতে অগ্রাধিকারের তালিকা লম্বা। জনগণকে আস্থায় পেয়ে, সেই তালিকা থেকে এখন ন্যূনতম উদ্যোগই স্বাস্থ্য খাতকে এগিয়ে দেবে কয়েক ধাপ। তবে সেবার মান উন্নয়ন ও নিরাপদ স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবার উদ্যোগ ও নতুন উদ্ভাবনে বিনিয়োগ শুরুর আগেই ফলাফল মূল্যায়ন প্রক্রিয়া একটি শক্তিশালী অন্তর্গত অংশ হিসেবে ক্রিয়াশীল রাখতে হবে। কোনও পরিকল্পনায় নিখুঁত নয়, বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ, ভুল সংশোধনের পথ ধরে সাফল্য অর্জিত হবে। ওপরের ধাপগুলো পার হয়ে এসে না হয় অগ্রাধিকারের তালিকা নিয়ে কথা বলি।

আমরা করোনাকালে দেখেছি মানুষের অসহায়ত্ব, হাহাকার। অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসকষ্টে ভারী হয়েছে বাতাস। পেছনে ফিরে কী করলে কী হতো তার লম্বা তালিকা তুলে ধরে- করোনা পরীক্ষা, বিধিনিষেধ, স্বাস্থ্যসেবা, টিকা ইত্যাদির সমালোচনায় মুখর হতে পারি। আমরা কী ভেবে দেখেছি, বছরের পর বছর দূরদৃষ্টির অভাবে, বাজেট বরাদ্দের সংকটে, ব্যবস্থাপনার বিশৃঙ্খলায় বাংলাদেশের যে রুগ্ন, ভঙ্গুর স্বাস্থ্য কাঠামো গড়ে উঠেছে, এই মহামারিতে তার বাড়তি কিছু করার সক্ষমতা কতটুকু! গ্লোবাল হেলথ সিকিউরিটি ইনডেক্স ২০১৯ অনুযায়ী রোগ প্রতিরোধ সংশ্লিষ্ট সূচক জীবাণুবাহিত অসুখ-বিসুখ, বায়ো-সিকিউরিটি, বায়ো-সেফটি, জীবাণু কন্ট্রোল প্র্যাকটিস ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি, স্বাস্থ্য সিস্টেম, র‌্যাপিড রেসপন্স, রোগ নির্ণয় ও রিপোর্টিং ইত্যাদি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৯৫টি দেশের মধ্যে ১১৩তম।

আমরা কি নির্মোহ চোখে তা দেখতে সক্ষম? আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ভিতর দিয়ে, সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে করোনা সংকটকে মোকাবিলা করতে হবে, ভবিষ্যতের মহামারি প্রতিরোধ করতে হবে। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জন কোনও জাদুকরি গল্প নয়, রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রশ্ন। উন্নয়নের অর্থের সরবরাহ ব্যাহত করতে নয়, উন্নয়নের প্রক্রিয়ায় গতি আনতেই সব জনগণের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা পেতে অসমতা দূরীকরণের নীতিগত অবস্থানে থেকে গুণগত মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের যেকোনও দৃঢ় পদক্ষেপ জাদুকরি ফল এনে দেবে।

স ম মাহবুবুল আলম, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। সিনিয়র কনস্যালটেন্ট ও ল্যাব কো-অর্ডিনেটর, প্যাথলজি বিভাগ, এভার কেয়ার হাসপাতাল।

প্রতিবেদক

সর্বশেষ - সোশ্যাল মিডিয়া