ঢাকাশুক্রবার , ১৩ আগস্ট ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গণমাধ্যম
  11. গ্যাজেট
  12. জাতীয়
  13. টাকা-আনা-পাই
  14. দেশ জুড়ে
  15. দেশ পরিবার

স্মৃতির ঝুলিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল জীবন

দেশ ডেস্ক
আগস্ট ১৩, ২০২১ ৭:৫৯ অপরাহ্ণ


জীবন সুখময়, আবার দুঃখে জরাজীর্ণ। জীবনকে একেকজন একেকভাবে সংজ্ঞায়িত, বিভক্ত করে থাকেন। শৈশবকাল, কৈশরকাল, এরপর বয়সের ভারে নিস্তেজ মিশে যাওয়া প্রকৃতির কাছে। জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় ১৮-২৬ বছর। ছাত্রজীবনে এই সময়টুকু আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করে থাকি। এই সুন্দর জীবনে আরেকটি আনন্দঘন, স্মৃতিময় সুন্দর অধ্যায় হলো ক্যাম্পাসের হল জীবন। বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক শিক্ষার্থীদের আনন্দঘন মুহুর্ত হলো হল জীবন। এসময়ের সুন্দর সুন্দর ভালো লাগার মুহুর্তগুলো পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখে শেষ করা যাবে না। প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন গল্প, নতুন অভিজ্ঞতা, স্মৃতিতে ভরা।


হল জীবনের শুরুতে আমরা সবাই ‘ গণরুম’ নামক একটি ভয়ানক বড় রুম শুনে থাকি।কিভাবে থাকবো, নানা ভাবনা চিন্তা, এতো জন একসাথে গাদাগাদি। যেন এক মানসিক টেনশন। প্রথম দিকে খারাপ লাগলেও এই গণরুমকে কেন্দ্র করে হয়ে উঠে হল জীবনের সবথেকে মনে রাখার মতো সুন্দর সব মুহুর্তগুলো। সকল প্রয়োজন অপ্রয়োজনে অজানা মানুষগুলো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। অচেনা মানুষগুলো সহজেই আপন হয়ে যায়। সবাই মিলে হৈচৈ সারাক্ষণ, নেই কোনো বাঁধা ধরা নিয়ম, মুক্ত জীবন পাখির মতো। গনরুম শেষে একদিকে নতুন রুমে উঠার আনন্দ, অন্যদিকে সবার থেকে আলাদা হওয়ার বিষাদের সুর বয়ে যায়।

তারপর শুরু হয় আরেক নতুন অধ্যায়। নতুন রুম। যেন মুক্ত মানুষগুলো ইট পাথারের চার দেয়ালে আবদ্ধ ঘরে বন্দী। তবুও এর মাঝে শত শত মুহূর্ত, হাসি কান্নায় ভরা, রাত জেগে নাটক- সিনেমা দেখা, বন্ধুদের সাথে সময়ে অসময়ে আড্ডায় মেতে যাওয়া।

হলের সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত অ¤ø মধুর বাস্তবতার আরেক নাম ডাইনিং এর খাবার। ডাইনিং এর খাবার দেখে মাথা ঘুরলেও তৃপ্তি ও রুচিসহ পেট ভরে খেতে বেশ মজাই লাগে। কম খরচে দিন পার করিয়ে দেওয়া। হল যেন সিনিয়র – জুনিয়রদের এক মিলনের জায়গা। সিনিয়র, জুনিয়রদের মধ্যে গড়ে উঠে নতুন বন্ধন, সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক। ছোটদের রান্না করে খাওয়ানো, বড়দের স্নেহ, এক সাথে ঘুরতে যাওয়া, রাত দুপুরে পিকনিক, বড়দের হলুদ সন্ধা যেন এক স্মৃতির পাতার সন্ধিক্ষণ।

বৃহস্পতিবার রাত মানে বন্ধুরা সবাই মিলে রাত জাগা সিনেমা, নাটক, লুডুখেলা, আরও নাম মনে না থাকা কত খেলায় না খেলা হয়। ছুটির দিনে হুটহাট ঘুরতে যাওয়া, সবাই মিলে রান্না করা, দুপুরে একসাথে ভোজন, জিভে জল আসার মতো মুহুর্ত। বিকালে ক্যান্টিনে আড্ডা দেওয়া, সন্ধায় ছাদে আকাশের তারা দেখে পার করা মুহূর্তটুকু নিমিষেই কেটে যায়। রাতে সেই আবার একটা রুমে সবাই মিলে গাদাগাদি করে রাত পার করা এ যেন সুন্দর মুহুর্তের সোনার খাঁচা।

হল ফিস্ট, হল জীবনের অন্য আরেকটি স্মৃতিচারণময় অধ্যায়। সবাই মিলে নাচানাচি, হৈচৈ, খাওয়া দাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, কৌতুক, সারারাত জেগে আলপনা আঁকিয়ে হলকে নতুন এক অন্যরূপে সাজানো, রং- পানিতে হুল্লোড় সবকিছু। সঠিক ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও সুস্থ শরীর গঠনের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় হল প্রশাসন থেকে বছরে একবার খেলাধুলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। অংশগ্রহণ করে আবাসিক শিক্ষার্থীসহ হলের প্রভোস্ট, কর্মকর্তারাও। বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার।

আবার এর মাঝেই বন্ধুদের মাঝে লেগে যায় দা-কুমড়ার সম্পর্কের মনোমালিন্য, কিভাবে যেন নিমিষে মিটেও যায়। সবকিছুর মাঝে পড়াশুনাটা হয়ে উঠে না। নিজের নোট না দেখানো বন্ধুটাও সবাইকে নোট দিয়ে দেয় পরীক্ষার আগে। সবাই একসাথে পড়তে বসা, একরাতে পড়ে পরীক্ষা দেয়া হলজীবনের আরেকটি স্মরনীয় অধ্যায়। কারো কারো একরাতে পড়ে পরীক্ষা দেওয়ার অভিজ্ঞতাটাও বেশ মজার, পাশ ফেল নিয়ে টানাটানি। সকল বাধা- বিপত্তি অতিক্রম করে নিজ জীবনের লক্ষ্য অর্জনের দিকে অগ্রসর হতে হয়, তা না হলে জীবন পুরোটাই বৃথায় পরিণত হবে।

ক্যাম্পাস বন্ধের সময় কোনো বন্ধুর বাড়িতে মন টিকে না। সবাই অধীর আগ্রহে বসে থাকে ক্যাম্পাস খোলার অপেক্ষায়। এ যেন এক মুক্ত বাধাহীন জীবন। নেই কোনো শাসন। তবে হলজীবনেও অনেক নিয়ম কানুন মেনে চলতে হয়। তবে এরই মাঝে অনেকে নিয়ম ভাঙতে পটু। প্রভোস্ট, ম্যাম স্যারদের প্রেরণায় তৈরি হয় আগামী প্রজন্ম। শুরু হয় নতুন অন্য এক জীবনের পথচলা।

লেখক : ফারজানা আফরিন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ

প্রতিবেদক

সর্বশেষ - আইন আদালত