ঢাকাবুধবার , ১১ আগস্ট ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গণমাধ্যম
  11. গ্যাজেট
  12. জাতীয়
  13. টাকা-আনা-পাই
  14. দেশ জুড়ে
  15. দেশ পরিবার

হাবিব মৃধার হত্যা রহস্য উন্মোচন

নারায়ন রবিদাস, ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি
আগস্ট ১১, ২০২১ ৩:৪৭ অপরাহ্ণ


ফরিদগঞ্জে অর্ধগলিত হাবিব মৃধার লাশের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। গলায় লাইলনের রশি পেঁচিয়ে চেপে ধরে ধরে ঘাতক সাইফুল, অন্য দুই ঘাতক শ্যামল ও সিফাত ধরে দুই হাত এবং প্রধান ঘাতক রুবেল দুই পা ধরে রাখে হাবিব মৃধার। এভাবে শ্বাস রোধ করে হত্যার পর দেহকে ফেলে দেয়া হয় গুপ্তের বিলে।



পরে হাবিরের ব্যবহৃত দুইটি মুঠো ফোন ও ফাঁস লাগানো রশিটি এনে পরকিয়া প্রেমিকা শিউলী আক্তারের বাড়ির পাশের খালে ফেলে দেয় প্রধান ঘাতক রুবেল। এরপর ঢাকায় পালিয়ে যায প্রধান ঘাতক রুবেল।


আজ বুধবার (১১ আগস্ট) দুপুরে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ এক প্রেসব্রিফিংয়ে হাবিব মৃধা হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন পুর্বক এসব তথ্য জানান।


প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) সোহেল মাহমুদ পিপিএম জানান, লাশ উদ্ধারের ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা খুনের রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছি। প্রধান ঘাতক রুবেল প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নিহত হাবিবের মুঠো ফোন উদ্ধারসহ অনেক আলামত জব্ধ করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের দুইদিনপর মঙ্গলবার(১০ আগস্ট) নিহতের ভাই আকরাম হোসেন বাবুল বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় এই পর্যন্ত মোট ৫জনকে আটক করা হয়েছে। এরা হলেন, মো: রুবেল (৩০), সাইফুল ইসলাম (৩৩), সিফাত উল্যা রাসেল(২৭), পারভেজ হোসেন শ্যামল (২৬) এবং শিউলী আক্তার (২০)।


পুলিশ সূত্র জানায়, কুয়েত প্রবাসী ফারুক হোসেনের স্ত্রী ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার ফরিদগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের হর্নিদুর্গাপুর গ্রামের রুহুল আমিনের মেয়ে শিউলী আক্তরের সাথে একই গ্রামের মৃত মনির মৃধার ছেলে হাবিব মৃধা এবং রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ গ্রামের আবুল বাসারের ছেলে মো: রুবেল, হেজবুত উল্ল্যার ছেলে সিফাত উল্ল্যা রাসেলসহ বেশ কয়েকজনের সাথে পরকিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই পরকিয়ার সর্ম্পকের কারণে হাবিব মৃধা, রুবেল, রাসেলের সাথে দ্বন্ধ হয়। হাবিব মৃধা, রুবেল ও রাসেলকে শিউলীর জীবন থেকে সরে যাওয়ার জন্য হুমকি দেয়। এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে রুবেল হাবিবকে হত্যার পরিকল্পনা করে।


গত ৪ আগস্ট বুধবার রাতে রুবেল হাবিবকে মুঠো ফোনে পাশের গুপ্তের বিলের ব্রীজের পাশে ডেকে নেয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে রুবেলের সহযোগি সাইফুল ইসলাম লাইলনের রশি দিয়ে হাবিবের গলা পেঁচিয়ে ধরে। এসময় অপর সহযোগি রাসেল ও শ্যামল তার হাত চেপে ধরে এবং রুবেল পা চেপে ধরে। পরে শ্বাস রোধ করে হত্যার পর তাকে গুপ্তের বিলে ফেলে দেয়।


পুলিশ আরো জানায়, ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে সোমবার (৯ আগস্ট) প্রথমে শিউলী আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে তার তথ্য মতে রুবেলকে ঢাকার উত্তরা থেকে ওই রাতে আটক করে মঙ্গলবার সকালে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তি মতে মঙ্গলবার দিনভর অভিযান করে অপর তিন সহযোগি সিফাত, শ্যামল ও রাসেলকে তাদের এলাকা থেকে আটক করা হয়। পরে মঙ্গলবার রাতে ডুবুরি দিয়ে শিউলী আক্তারের বাড়ির পাশের খাল থেকে হাবিরের একটি মুঠো ফোন উদ্ধার করা হয়।


প্রেসব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো: শহীদ হোসেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রুবেল ফরাজী।


উল্লেখ্য, রোববার সন্ধ্যায় (৮ আগস্ট) ফরিদগঞ্জ উপজেলার চর দুঃখিয়া পুর্ব ইউনিয়নের গুপ্তের বিল থেকে হাবিব মৃধার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ।

সর্বশেষ - আইন আদালত