ঢাকামঙ্গলবার , ১০ আগস্ট ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গণমাধ্যম
  11. গ্যাজেট
  12. জাতীয়
  13. টাকা-আনা-পাই
  14. দেশ জুড়ে
  15. দেশ পরিবার
ঢাকার সাথে দুরত্ব কমবে ৮০ কিলোমিটার

জামালপুর-বগুড়া ফেরি চলাচল শুরু ১২ আগষ্ট

ফজলে এলাহী মাকাম, জামালপুর প্রতিনিধি
আগস্ট ১০, ২০২১ ১২:২৪ অপরাহ্ণ


জামালপুরের মাদারগঞ্জ থেকে বগুড়ার সারিয়াকান্দি সরাসরি ফেরি চলাচল শুরু হতে যাচ্ছে। এতে করে উত্তরবঙ্গের মানুষের ঢাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরত্ব কমে যাওয়ার পাশাপাশি হ্রাস পাবে সময় ও বাড়তি অর্থের অপচয়।



আগামী ১২ আগস্ট মাদারগঞ্জ লঞ্চ ঘাট থেকে এই ফেরি সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। সেই সাথে আরো উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মির্জা আজম ।


এতোদিন ধরে এই অঞ্চলের মানুষেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় যমুনা নদী পারাপার করলেও সরাসরি ফেরি সার্ভিস চালু হওয়ায় জামালপুরের সাথে বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলার ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার হবার পাশাপাশি দুই জেলার মানুষের মাঝে সেতু বন্ধন তৈরী হবে।


সময় আর বাড়তি খরচ বাঁচাতে প্রতিদিন শত শত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপারে ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। বগুড়ার সারিয়াকান্দি কালিতলা ও মথুরাপাড়া খেয়াঘাট থেকে ৫০ টাকা ভাড়ায় নৌকাযোগে জামালপুরের মাদারগঞ্জ জামথল খেয়াঘাট আসতে সময় লাগে মাত্র ৪৫ মিনিট। সময় এবং অর্থ অপচয় কম হওয়ায় প্রতিদিন এই নৌপথ দিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করে বগুড়াসহ উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলার হাজারো মানুষ।

তাই দীর্ঘদিন ধরে এই দুই অঞ্চলের মানুষ এই নৌপথে ফেরি সার্ভিস চালুর দাবি করে আসছিলেন, কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে ছিলো মাদারগঞ্জ-সারিয়াকান্দি ফেরি সার্ভিস চালুর বিষয়টি। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আজমের সার্বিক প্রচেষ্টায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে এ দু’অঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। আগামী ১২ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে জামালপুরের মাদারগঞ্জ-বগুড়ার সারিয়াকান্দি ফেরি সার্ভিস।

বগুড়া জেলায় এক নৌ যাত্রী মহসিন মিয়া জানান, বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে ঢাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে ৮০ কিলোমিটার পথ বেশি ঘুরে যেতে হয়। এতে করে একদিকে যেমন বাড়তি সময় লাগছে, তেমনি গুনতে হয় বাড়তি ভাড়াও। অথচ সারিয়াকান্দি দিয়ে জামালপুর হয়ে ঢাকায় যেতে সময় লাগছে তার অর্ধেক, খরচও হচ্ছে কম।


আরেক নৌ যাত্রী সুজন মিয়া জানান, নৌকায় রোদ-বৃষ্টির ঝামেলাসহ দূর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। এক্ষেত্রে ফেরি চলাচল করলে দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধান হবে। এদিকে স্থানীয় দোকানদার আব্দুল মতিন জানান,ফেরি চালু হলে বেচাকেনা বাড়বে ও তাদের ব্যবসা বাণিজ্যও ভালো হবে।
ফেরির (সি-ট্রাক) ইজারাদার জাহিদুর রহমান উজ্জল জানান, বিআইডব্লিউটিএ’র আব্দুর রউফ সেরনিয়াবাত নামে অত্যাধুনিক সি-ট্রাকটি এসি কেবিনসহ দুই শতাধিক যাত্রী ও মাঝারি যান নিয়ে দিনে দু’বার চলাচল করবে। যাত্রীর চাপ বেশি হলে দিনে চারবার চলাচল করার চিন্তুা রয়েছে। ফেরি চালু হওয়ায় একদিকে খরচ ও সময় কমে আসবে, অপরদিকে ঝুঁকিও থাকছেনা বলেও জানান তিনি।


এ ব্যাপারে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মির্জা আজম জানান, আগামী ১২ আগস্ট নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর উদ্বোধনের মধ্যদিয় দুই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মানুষ এবং মাঝারি যানবাহন নিয়ে ফেরি চালু হলেও ভবিষ্যতে ভারি ফেরি সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই নদীর দুই প্রান্তে আধুনিক টার্মিনাল, সড়ক প্রশস্থকরণ, নদী ড্রেজিং এর পরিকল্পনা তৈরী করা হয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবান করে পদ্মা সেতু চালু হলে সেখানকার যেসব ফেরি অব্যবহৃত থাকবে সেগুলোকে এপথে চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে।


মাদারগঞ্জ-সরিয়াকান্দি ফেরি সার্ভিস চালুর মধ্যদিয়ে উত্তরবঙ্গের সাথে ৮০ কিলোমিটার সড়ক দুরত্ব কমে আসার পাশাপাশি আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে মনে করছেন এই দুই অঞ্চলের মানুষ।

সর্বশেষ - আইন আদালত