ঢাকারবিবার , ৮ আগস্ট ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গণমাধ্যম
  11. গ্যাজেট
  12. জাতীয়
  13. টাকা-আনা-পাই
  14. দেশ জুড়ে
  15. দেশ পরিবার

চট্টগ্রামে করোনা টিকা নিয়ে বিভ্রান্তি

ব্যুরো প্রধান, চট্টগ্রাম
আগস্ট ৮, ২০২১ ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ


টিকায় আগ্রহের পাশাপাশি সাহসও বেড়েছে চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের। সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন করে টিকা নেয়ার ক্ষেত্রে যেমন চাপ বেড়েছে পাশাপাশি ওয়ার্ড ভিত্তিক টিকা নেয়ার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল নানা বয়সের মানুষ। কিন্তু টিকা নেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা ও জটিলতা কমছে না, সে সাথে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।



নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগরীর ষোলশহর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা দেশকে বলেন, নানীর টিকার জন্য সুরক্ষা অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করেছিলাম। ১৫/১৬দিন হয়ে যাওয়ার পরও এখনও এসএমএস আসেনি। পরে গণটিকার প্রথম দিনে নানীকে রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নিয়ে যাই। সেখানে সুরক্ষা অ্যাপের নিবন্ধন ফরম দেখানোর পরও আমার নানীকে টিকা দেওয়া হয়নি। শুধু আমার নানী নয়, এভাবে অনেক মানুষ ভ্যাকসিন নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন।


তিনি আরও বলেন, ওয়ার্ড কমিশনার গণটিকা নেওয়ার জন্য উনার ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়েছেন। তার ওই পোস্টের কোথাও এই টোকেন নেওয়ার কথা বলেননি। তাহলে এত মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার মানে কি?


এদিকে টোকেন দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে। নগরীর একাধিক ওয়ার্ডে ভ্যাকসিন নিতে যাওয়া লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যারা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পরিচিত, তাদের টোকেন দেওয়া হয়েছে। অন্যরা এই টোকেন পাননি। স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনায় গণটিকায় ২৫ বছরের কম বয়সীরা টিকা পাবে না বলা হলেও বাস্তবে দেখা গেছে, কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে টোকেন নিয়ে ২৫ বছরের কম বয়সীরাও টিকা দিয়েছেন।


গণটিকাদান কর্মসূচীর ১ম দিন ছিল গতকাল শনিবার (৭ আগষ্ট)। এদিন সকালে বিভিন্ন এলাকার টিকা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকশ নারী-পুরুষ আলাদা দুটি লাইনে টিকা নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করেছেন। তারা ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছেন। কিন্তু সকাল সাড়ে আটটার দিকে ‘কাউন্সিলরের লোক’ পরিচয়ে কয়েকজন এসে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নারী-পুরুষ ও বয়োবৃদ্ধদের সরিয়ে দেয়। এরমধ্যেই ১৬ নং ওয়ার্ড চকবাজার, ১৭ নং ওয়ার্ড, ২০ নং জামালখান ওয়ার্ড, ২০ নং দেওয়ানবাজার, ৪০নং পতেঙ্গা ওয়ার্ডে একই চিত্র দেখা যায়। মো. নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি জুলাই মাসে টিকার জন্য রেজিষ্ট্রেশন করিয়েছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে । কিন্তু মেসেজ আসেনি। তাই জাতীয় পরিচয় পত্র নিয়ে সবার আগে এসেছিলেন । কিন্তু কাউন্সিলের লোকজন বলেছে টোকেন নিয়ে আসতে হবে; নয়তো টিকা মিলবে না।


শনিবার (৭ আগস্ট) টিকাদান কর্মসূচি শুরুর আগে বৃষ্টি উপেক্ষা করে নারীদেরও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কিন্তু সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা নিজেদের কাউন্সিলরের লোক পরিচয় দিয়ে বিশেষ টোকেন ছাড়া লাইনে অপেক্ষারতদের বের করে দেন। গৃহকর্মী শাহনাজ বলেন, ‘সকালে কাজে যাওয়ার আগে টিকা দিতে চেয়েছিলাম। টিভিতে শোনা নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় পরিচয় পত্র সঙ্গে থাকার পরও আমাকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে; আমার নাকি টোকেন নাই।’


এদিকে সরোজমিনে উঠে আসা ওয়ার্ডের সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা টোকেন এর বিষয়টি অস্বীকার করেন। এ সব বিষয়ে জানতে চাইলে ৪ নং চান্দগাঁও ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. এসরারুল হক বলেন, ‘এখানে লাইন ধরার কোনো বিষয় ছিল না । যাদের টোকেন দেওয়া আছে ওরাই টিকা পেয়েছে’ এই টোকেন কারা পেয়েছে জানতে চাইলে কাউন্সিলর এসরারুল বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশন করে যারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।’ জানা গেছে টিকার জন্য অপেক্ষায় থাকা অন্তত ১০০ মানুষ ফেরত চলে গেছেন।
উল্লেখ্য গত ৫ আগস্ট জাতীয় কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ও লাইন ডাইরেক্টর (এমএনসিএন্ডএএইচ) ডা. মো. শামসুল হক স্বাক্ষতির নির্দেশনার ‘খ’ কলামে বলা হয়, ‘ক্যাম্পেইনে ২৫ বছর ও তার চেয়ে বয়সে বড় জনগোষ্ঠীকে ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে। ক্যাম্পেইনের শুরুর প্রথম দুই ঘণ্টা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়স্ক জনগোষ্ঠী, নারী এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদেরকে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করতে হবে।’


অথচ বাস্তব চিত্র ছিল পুরোই উল্টো। বরং টোকেন আর বিশেষ তালিকায় নাম না থাকায় কেন্দ্রে অপেক্ষা করেও ফিরে যেতে হয়েছে সাধারণ মানুষদের। সকাল থেকেই প্রতিটি কেন্দ্রেই ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতোই। অনেককেই স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন, সহকর্মী কিংবা পরিবারের স্বজনদের নিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই টিকাকেন্দ্রে হাজির হন। কিন্তু টিকা না নিয়েই ফিরতে হয়েছে বহু মানুষকে।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, কাউন্সিলরদের টোকেন দেওয়ার জন্য বলা হয়নি। আমরা বলেছি, যারা বয়স্ক তাদের অগ্রাধিকার দিতে। কাউন্সিলররা কেন টোকেন দিয়েছেন এ বিষয়ে তারা ভালো জানেন।


চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘নিদের্শনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক টিকা দেয়ার কথা বলা হয়েছে। যেহেতু টিকা দিতে হবে নিদিষ্ট, সে বিষয়টি ধারণা রেখে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বলাও হয়েছে, যেন নির্দেশনা মোতাবেক অগ্রাধীকার ব্যক্তিরাই টিকা পান। কিন্তু নির্দেশনার বাইরে যদি কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে, তাহলে সেটি অবশ্যই দুঃখজনক। টিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।


জানা গেছে, নগীরর সিটি কর্পোরেশন জেনারেল হাসপাতাল ও মেমন হাসপাতালে সুরক্ষা অ্যাপে আবেদন করলেই নিবন্ধন বার্তা ও তারিখ চলে আসে। কিন্তু চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে যারা আবেদন করেছেন তাদের এসএমএস আসতে অনেক বিলম্ব হচ্ছে। গণটিকা কর্মসূচিতে চলছে স্বজনপ্রীতি। কোথায় যাবে সাধারণ মানুষ? একদিকে সরকারের টিকা গ্রহণে বাধ্যবাধকতা অন্যদিকে টিকা গ্রহণে আগ্রহ বাড়লেও মিলছে না পর্যাপ্ত টিকা।

সর্বশেষ - আইন আদালত