ঢাকাবুধবার , ২৮ জুলাই ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গণমাধ্যম
  11. গ্যাজেট
  12. জাতীয়
  13. টাকা-আনা-পাই
  14. দেশ জুড়ে
  15. দেশ পরিবার

দুই মাস পানিতে ভাসছে কয়রার শতাধিক পরিবার

সুনীল কুমার দাস, ব্যুরো প্রধান (খুলনা)
জুলাই ২৮, ২০২১ ৫:৫২ অপরাহ্ণ


খুলনার কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের গাঁতীরঘেরি ও মহারাজপুর ইউনিয়নের দশহালিয়া গ্রামের ১৩০টি পরিবার দুই মাস ধরে জোয়ার ভাটায় পানিতে ভাসছে।


ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে এই দুই গ্রাম সংলগ্ন এলাকার ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামত না হওয়ায় এমন দুরাবস্থার মধ্যে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। গ্রাম দুটির অনেকেই উঁচু রাস্তার ওপর ঝুপড়ি ঘর তুলে বাস করছেন। আবার বেশকিছু পরিবার পানির মধ্যে কাঠের পাটাতন তুলে বসবাস করছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ২৬মে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে কয়রায় পাউবোর বাঁধের ৩৫টি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে ৫০টি গ্রামের বিস্তির্ণ এলাকায় প্লাবিত হয়। পরে অন্যসব স্থানের বাঁধ মেরামত করা হলেও উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের দশহালিয়া ও উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের গাঁতিরঘেরী’র বাঁধ মেরামত না করায় সেখানকার বাসিন্দারা দুই মাস ধরে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে কয়েক দফায় চেষ্টা করেও বাঁধ মেরামতে ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যদিকে পানি উন্নয়ণ বোর্ডও বাঁধ মেরামতের ব্যবস্থা না নেয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে পানিবন্দি পরিবারগুলোর।

মঙ্গলবার সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, পাউবোর বাঁধের ওপর অস্থায়ী ঝুপড়ি ঘর বেঁধে পরিবার নিয়ে বাস করছেন গাঁতিরঘেরী গ্রামের বাসিন্দারা। এসব ঝুপড়ি ঘরে পরিবারের সব সদস্য মিলে কষ্টে রাত কাটাতে হয়। পুরুষ সদস্যরা দিনের বেলায় বাইরে কাজে চলে গেলে একটু স্বস্তি পান পরিবারের মহিলাসহ অন্যরা। সেখানে খাবার পানির ব্যবস্থা নেই। স্যানিটেশনের ব্যবস্থার পাশাপাশি নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা।অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যেই দিনের পর দিন বসবাস করায় অনেকেই রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ছেন।

গাঁতিরঘেরী গ্রামের অলোকা রানী বলেন,‘ইয়াসের রাতে বাঁধ ভাঙার পরেত্বে ইকেনেই আছি। রাতে বর্ষা আসলি পলিথিন মুড়ি দে বসি থাকতি হয়। দিনের বেলাও তাই। গত দু’মাস ধইরে যে কী কষ্ট করতিছি, তা বইলে বোঝাতি পারব না!’ তার পাশের ঘরের বাসিন্দা মজিদা খাতুন আক্ষেপ করে বলেন, ‘গত দু’মাস ধুরে ভাসি বেড়াতিছি, কেউ খবর নিতিও আসে না। আমরা ইকেনে থাকপো না চলি যাব তাও কেউ বলতেছ না। শুনতি পাই সব জাগার বান বানধা হুইয়ে গেছ। খালি আমাগের বেলায় যত অজুহাত। ছাওয়াল-মাইয়ে নিয়ে যে কি কষ্টে আছি তা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না।’

শুধুই গাতিরঘেরি নয়-একই অবস্থা দশহালিয়া গ্রামের। এই গ্রামের ভেঙে যাওয়া দুটি স্থানের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বাঁধটি স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত করা হয়েছে। গ্রামের মাঝ বরাবর পাকা রাস্তার দক্ষিণ পাশের বাঁধটি এখনও মেরামত করা হয়নি। ফলে রাস্তার দক্ষিণ পাশের ৫০টি পরিবার দুই মাস ধরে পানিতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দশালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মতি মোড়ল বলেন, ‘বড় ভাঙন বানতি গিয়ে এমপি সাহেবের সাথে মানুষ ক্ষোভে খারাপ আচরণ করার পরেত্বে আর কেউ আসেনি। আমাগে চেয়ারম্যানেরও বান বান্দারও গা নেই। সেই সমাত্বে আমরা একেনে কয়েক ঘর মানুষ বাস করি। আমাগের পক্ষেও এত বড় ভাঙন বান্দা সম্ভব হয়নি। সেই অবধি জোয়ার-ভাটার মধ্যি আছি। কেউ খবর রাহে না।’

মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মামুন লাভলু জানান, ভেঙ্গে যাওয়া বাদের দুটি স্থান এখনও মেরামত করা হয়নি। বাঁধটি মেরামতের ব্যাপারে পাউবো কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হলে তারা ঠিকাদার দিয়ে কাজ করাবে বলে জানিয়েছে। এদিকে ঠিকাদার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত কোন কাজ করেনি। ফলে কয়েক’শ বিঘা জমির চিংড়ি ঘের ও গ্রামের একাংশ নদীর পানিতে তলিয়ে আছে।ভাঙ্গা বাধ মেরামত না হলেও এভাবেই থাকতে হবে শতাধিক পরিবারকে পানিবন্দী অবস্থায়।

উত্তর বেদকাশী ইউপি চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, পাউবো কর্মকর্তারা অপেক্ষাকৃত ভালো জায়গায় জরুরী ভিত্তিতে কাজ করছে। কিন্তু এলাকার ভাঙন মেরামতে পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বারবার ঠিকাদার নিয়োগের অজুহাতে কাল ক্ষেপণ করছেন তারা। ফলে গ্রামের ৮০টির মতো পরিবার চরম দুর্দশার মধ্যে পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

এদিকে, মঙ্গলবার বিকেলে কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের দশহালিয়া এবং উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের গাঁতিরঘেরী এলাকায় ভেঙ্গে যাওয়া দু’টি স্থানের বাঁধ পরিদর্শণ করেছেন জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদার।এ সময় তিনি বাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে এ্যালাইমেন্টসহ সকল প্রতিবন্ধতার বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, জনসাধারন ও ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার মানুষের সাথে মতবিনিময় করেন।আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ভেঙে যাওয়া বাঁধের দু’টি স্থান মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। একই সাথে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে পুণর্বাসনের আশ্বাসও দেন। এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোঃ ইকবাল হোসেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এস এম শফিকুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিমেষ বিশ্বাস, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী, জাইকার কনসালট্যান্ট এবং এলাকার জনসাধারন উপস্থিত  ছিলেন।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুর রহমান জানান, কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের গাঁতিরঘেরী ক্লোজার মেরামতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে কাজ হওয়ার কথা। আর দশহালিয়ার একাংশের বাঁধ মেরামতে যে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল তিনি শুস্ক মৌসুমে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। আমরা এ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারপেরও আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বাধের ভাঙ্গা স্থান মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে পুনরায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা দ্রুত কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া বাঁধ ২টা স্থায়ীভাবে মেরামতের জন্য জাইকার অর্থায়ানে কাজ করার পরিকল্পনা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

সর্বশেষ - আইন আদালত