1. ayanabirbd@gmail.com : deshadmin :
  2. hr.dailydeshh@gmail.com : Daily Desh : Daily Desh
  3. enahidreza@gmail.com : sportsdesk : sports desk
  4. newsdesk.desh@gmail.com : Feroz Shahrier : Feroz Shahrier
মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৭:৪৫ অপরাহ্ন

কলাম (পর্ব-০৩)

কামিনী পরিবার

অগ্রদূত
  • আপডেট : রবিবার, ২ মে, ২০২১

তালুকদার কামিনী বাড়ি থেকে বের হয়ে রাজার দেউড়ির মূল গলিতে নামে। রাস্তা সরব হয়ে উঠেছে। সব গুলো দোকান খুলেছে। রিক্সার টুংটাং শব্দে চিকন গলিটা পুরো দিনের জন্য বেঁচে উঠছে। হাজার হাজার উকিল, মানুষ, বিচার প্রার্থী, আমজনতা, টাউট বাটপারে ভরে উঠেছে রাজার দেউড়ি।জরাজীর্ণ রাজার দেউড়ি প্রাইমারী স্কুলের সামনে এসে পূজারতির ডালি নিয়ে বসা ছাতার ভিতরে গুঁজে থাকা বুড়ো লোকটা তখনো বসে আছে।তালুকদার মানুষের ভিড় ঠেলে বুড়ো লোকটার কাছে গেলো।


– চাচা, সেই ভোর থেকে বসে আছেন পূজারতির ডালি নিয়ে, এখনো কেউ আসেনি?
– নানা বাবা আহেনাইক্কা, এই গুলা বেইচ্চা নাস্তা করবার যামু।
– না বেচা হলে কি করবেন?
– বেচা অইবো বাবা। দেবতা না খিলাইয়া কাউরে রাখে না বাপ। কেউ না কেউ আইবো। দেবতা এই ফুলের লাইগা বয়া রইছে।
– চাচা আপনার এই ডালির দাম কত?
– দাম আবার কী! দেবাতার ভোগ, কোন দাম নাই।
তালুকদার ওর বুক পকেট থেকে একশ টাকার একটা নোট দিয়ে বললো, কাকা এই ফুল আমি কিনলাম। একশ টাকায় হবে?
ছাতার ভেতর থেকে বুড়ো মানুষটা বকের মতো গলা বাড়ালো চোখ বড় করে। মুখটা মলিন কিন্তু নিমগ্নতার গম্ভীরতায় ভরা। খুব নির্মল মনে হলো লোকটাকে। মনে হলো একশ টাকা পেয়ে কিছুটা অবাক হয়েছে।
– চাচা, বেলি ফুল গুলো আমাকে আলাদা ঠোঙাতে দেন। জবা আর তুলসি কোন ভক্তকে দিয়ে দিয়েন।
– ঠিক আছে বাবা কোন অসুবিধা নাইক্কা।
বুড়া লোকটা ছাতার খোলস থেকে বের হলো। সব কিছু গুছিয়ে একটা পলিথিনের ব্যাগে সুন্দর করে বেলী ফুল ভরে দিল। বললো,
-বেলী কার লাইগা নিলা?
তালুকদার বললো, আমার বউ স্নেহের জন্য। বেলী ফুল খুব পছন্দ করে চাচা।
– ইশ্বর তোমার মঙ্গল করুক।
চাচা আপনে রাজার দেউড়ি স্কুল পার হলে কামিনী নাস্তা ঘর পাইবেন। ওখানকার পরোটা ভাজি সবজি খুব মজার ওখানে গিয়ে খাইয়েন। মাহবুব দোকানের মালিক, খুব ভালো।
– কামিনী বাড়ির পোলানা? আমি চিনি তো হেরে।ওইহানেই যামু।
রাস্তার কোলাহল, মানুষের ঢল মিছিলের মতো। একেকটা মানুষের ধান্দা একেকরকম। তালুকদার খেয়াল করে একটা মানুষের মুখেও হাসি নেই।মানুষের কপাল গুলো চিন্তার ভাঁজে ম্রিয়মাণ। মানুষ ঘুরছে রুটির জন্য। কী ভাবে রুটি আসবে মানুষ জানেনা। কোর্ট কাচারির আশপাশের মানুষ শুধু জানে রুটি পেতে হবে, যে ভাবেই হোক। তালুকদার  বুড়ো মানুষটির কথায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকলো কিছুক্ষণ। দেবতা কাউরে না খিলাইয়া রাহেনা বাপ।
মানুষ ঠেলতে ঠেলতে শাসাবের বাজার পর্যন্ত এলো তালুকদার। লোহা লক্কড়ের দেকানে কোন ক্রেতা নাই। যখনই এই গলি দিয়ে শর্ট কার্ট কোর্ট- কাচারি যায় তালুকদার, খেয়াল করেছে কখনোই সে কোন ক্রেতাকে দেখেনা। কী ভাবে এই ব্যাবসা চলে সেটাই ভাবে তালুকদার। আজকের অতিবৃষ্টির কারনে বাজারটা একটু ফাঁকা। তবে কোর্টের কাছে গেলেই সারি সারি মানুষ আর মানুষ।
জনসন রোডের কাছে এসে একটু দম নিল তালুকদার। কোর্টের কাজ শেষ হলে ঘরে ফেরার সময় খুব নির্ভার লাগে তার। নাহ আজকে আর বাসে যে মন চাইছেনা। হাটতে হাটতে গোলাপ শাহ মাজার পর্যন্ত যাই। বৃষ্টি থামলেও আকাশ মেঘলা। সূর্যের তেজ নেই। হাটাও হলো, মানুষ দেখাও হলো। তালুকদারের মনে হলো, এই সংসার, নিত্যকার যাওয়া আসা সব মিথ্যা। আর সত্যটাও আসলে কী, সেটাও ভেবে পায় না তালুকদার।
বংশাল রোডের কাছে এসে তালুকদার তীর মার্কা বল সাবানের দোকান খুজলো। ক্যাপিটাল রেস্তোরাঁ খুজলো। এগুলো এখন আর নেই। সেই কবে তরুন বয়সে তালুকদার আরামবাগ থেকে কাঠের পুল পার হয়ে মতিঝিলের ভিতর দিয়ে স্টেডিয়ামে হয়ে এই রেস্তোরাঁয় আসতো। ক্যাপিটাল রেস্তোরাঁর আটআনা দামের মোগলাই পরোটার স্বাদ এখনো জিহ্বায় লেগে আছে। গুলিস্তান সিনেমা, নাজ সিনেমার পর কলেজ সু। চুংচাং চিনা রেস্তোরাঁ কিছুই নাই। নবাবপুর শেষ হলেই রেল লাইন। তারপর নতুন ঢাকা। রিক্সা আর মসজিদের শহর ঢাকা। রিক্সার ড্রাইভার বেশির ভাগ পুরান ঢাকার। যেমন রসিক, তেমনি আন্তরিক। তালুকদারের ছোট বেলার বন্ধু দুল দুলের একদিন ঢাকার রিক্সা ড্রাইভারের রসিকতা নিয়ে গল্প করে হাসতে হাসতে মাটিতে গড়াগড়ি খেয়েছিল তালুকদার।
– ওই রিক্সা যাবা নাকি?
– কই যাইবেন?
– শান্তি নগর?
– যামু!
– ভাড়া কত নিবা?
– তিন টেহা।
– আর দূর মিয়া, শান্তিনগর ওইতো দেখা যায়, একটাকা দিমু।
–  আসমানের চান্দভিতো দেহা যায়, এক টেহা দিয়া চান্দে যান!
পুরানো দিনের কথা ভাবতে ভাবতে তালুকদার চলে এলো গোলাপ শাহ মাজার পর্যন্ত। রাস্তার ঠিক মাঝখানে মাজার। কোন মানুষ জন নেই। বোরখা পরা দুই তিনজন মহিলা মাজারে রেলিং ধরে দাড়িয়ে আছে। মাজারের কবরের দিকে মাথা রেখে সেজদার মতো পরম ভক্তিতে কান্নাকাটি করছে। কবরের চারপাশ টাকায় ভর্তি। কেউ হয়তো কুড়ায়। কারা কুড়ায় তালুকদার জানেনা। ভক্তদের দানে গোলাপ শাহের মাজার ভরে ওঠে টাকায়। টাকার নোট গুলো প্রাই সবই পুরানো। এক টাকা, দুটাকা, পাঁচ টাকা, দশ টাকার নোটই বেশী। বোঝা যায় ভক্তদের মধ্যে সিংহভাগই গরীব মানুষ।
তালুকদারের মনটা উৎসুক হয়ে ওঠে। এই বৃষ্টি উপেক্ষা করে যে নারী এখানে মানত নিয়ে এসেছে, তাকে জিজ্ঞেস করে, কেন এসেছেন এখানে? কোথা থেকে এসেছেন?
মহিলা খুব অসহায় ভাবে উত্তর দিল, মুন্সিগঞ্জ থেকে আইছি।
-আপনার মানত কি? জিজ্ঞেস করে তালুকদার।
মহিলা কাঁদতে কাঁদতে বলে,
– বাইচ্চার বাপে একমাস ধইরা আমার আর পোলাপাইনের খোঁজ নেয় না। হুনছি ঢাকায় নতুন সংসার করবো। বাচ্চার বাপ যাতে আমার পোলাপানের দিকে চায়, আমার দিকে ফিরে, হেই মানত লইয়া আইছি।
ও আচ্ছা বলে তালুকদার পাশ কাটে। লক্ষ্য করে তালুকদার, জটাধারী দু-তিনজন পাগল কিসিমের লোক মাজারের কাছে আসছে। এখানে দাড়ালে আবার কোন খপ্পরে পড়ে এই চিন্তা করে তালুকদার জিপিওর দিকে এগোতে থাকে।
তালুকদারের সেই ফুল বিক্রেতার কথা মনে হয়, ‘দেবতা কাউরে না খিলাইয়া রাখে না বাপ’। ইশ্বর সবার আহারের ব্যবস্থা করে রেখেছেন। কী ভাবে রেখেছেন তা ইশ্বরই জানেন।
এখন আকাশ থেকে মেঘ না সরে গেলেও ভ্যাপসা গরম শুরু হয়েছে। পলিথিনের ব্যাগের ভেতর বেলি ফুলের গন্ধ তালুকদারের নাকে লাগে।
তালুকদার ভাবে, আজ ফুল পেয়ে তার বৌ স্নেহ খুব খুশী হবে।
এমন সময় মোবাইল ফোন বেজে ওঠে। প্যান্টের পকেট থেকে ছোট্ট বাটনওয়ালা ফোনটা বড্ড কর্কশ স্বরে বেজেই চলে। কোর্ট কাচারিতে আসতে তালুকদার দামি মোবাইল কখনো আনেনা। কখন পকেটমার হয়ে যায় এই ভয়ে। পকেট থেকে ফোন বের করে তালুকদার বলে,
– হ্যালো?
– তালুকদার ভাই এইটা কাজ করলেন?
-কেন কী হয়েছে মিজান ভাই?
-আমি একজন সিনিয়র এডভোকেট, আমারে ভিক্ষা দিলেন?
(চলবে)

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

বিশ্বে করোনা ভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৭৮২,১২৯
সুস্থ
৭২৪,২০৯
মৃত্যু
১২,২১১
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু

স্বত্ব @২০২১ দেশ

সাইট ডিজাইনঃ টিম দেশ