1. ayanabirbd@gmail.com : deshadmin :
  2. hr.dailydeshh@gmail.com : Daily Desh : Daily Desh
  3. enahidreza@gmail.com : sportsdesk : sports desk
  4. newsdesk.desh@gmail.com : Feroz Shahrier : Feroz Shahrier
মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৮:১০ অপরাহ্ন

ইফতার ও বরফের স্মৃতি

শিবলী আজাদ
  • আপডেট : শনিবার, ১ মে, ২০২১

আমার শৈশবে, আশির দশকের শুরুতে, ৮০-৮২ সালের দিকে, আজকের মত ইফতার এত জৌলুশময় ছিলো না। ইফতার বাণিজ্যও ছিলো না এত রমরমা। পদের  এতো  আধিক্য ছিলো না। ইফতার তৈরী হতো ঘরে। দু’এক পদ বাইরে থেকে কদাচিৎ কিনে আনা হতো। খেতে ইচ্ছে হলে কিংবা মেহমান এলে বাইরে থেকে ইফতার কেনা হতো। রাস্তার ওপর যে ইফতারের  দোকান বসতো তাতে থাকতো বুট, ছোলা, পিঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, ঘুঘনি, মুড়ি,  ইত্যাদি। পকৌড়া এলো মধ্য আশির শেষে। কালো রঙের বড় বড় টেনিস বল আকৃতির পকৌড়াগুলো তখন তৈরি হতো পালং শাক দিয়ে। কিছুটা তিতকারী  স্বাদের বলে তেমন প্রচলন হয়নি।


আজ ইফতারে দেখি কত পদের কাবাব! জালি কাবাব, শিক কাবাব, সুতা কাবাব! আমার কালে ঢাকায় হাতে গোনা দু’য়েকটি দোকান বাদে কাবাব পাওয়া যেত না। কাবাব মানেই আমরা বুঝতাম শিক কাবাব।  আর কাবাব যে ইফতারের পদ হতে পারে, সে ধারনা আমাদের কালে ছিলো না। মধ্য আশি থেকে বেসমের ব্যবহার শুরু হয়! দোকানের বেগুনিগুলোর সাইজ  বদলাতে থাকে। আগে বেগুনি ছিলো ল্যাতল্যাতে পাতলা। অতি বেসমের কারনে এবার বেগুনিগুলো হলো ঢোল—ফুলে ওঠা মৃত হাতী। আমি পছন্দ করিনি, তখনো না এখনো না।  বেগুন থেকে আমি আজীবন শত হাত দূরে ছিলাম। আজো আছি।
আমার সবচেয়ে পছন্দের আইটেম অবশ্য ঘুঘনি। আমাদের সময় ডাব্লিও বলা হতো। ডাবলিও নামের মাজেজা কী আজো জানি না। নামটা কি করে হলো, আজো জানি না। তবে রোজার মাস এলে আজো দারুণ মিস করি। গত ত্রিশ বছর ধরেই করেছি। আহা, গামলা ভর্তি মেটে-শাদা রঙের মটরডালের ঘুঘ্নি। ওপরে শসার কুঁচি ছড়ানো। কালো রঙয়ের  ভাজা শুকনো মরিচ গাঁথা। নিউজ পেয়ারে দিতো। চামচে করে মেপে। সাথে গোল মরিচের ফাকি! আমি সবসময় একটি স্বাস্থ্যবান, তরতাজা ভাজা শুকনো মরিচ চেয়ে নিতাম। শুনেছি খৈয়াম তার প্রিয়ার তিলের জন্যে সমকন্দ-বুখারা বিলাতে চেয়েছেন। আমি বাপু গুলমরিচ দেয়া একবাটি ঘুঘনি, সাথে একটি ভাজা লঙ্কা পেলে বিলাত-আমেরিকাও বিলিয়ে দেব। দামের কথা শুনবেন? আমাদের কালে দাম ছিলো রূপকথার মত। দুই/তিন/চার টাকার ইফতার কিনতাম। যথেষ্ট হতো। খাদক তো আদতে আমি আর তিথি-তন্বী। ছোট দুই বোন। পিঁয়াজু কিনতাম চার আনা পিস করে চারটা। পিঁয়াজের পিঁয়াজু। আজকের ডাল বড়া নয়। আট আনার ঘুঘনি। পঁচাত্তর পয়সায় তিনটি আলুর চপ। চারটি বেগুনি। ব্যাস— হয়ে গেলো ইফতার সদাই। বুট, বড়া, মুড়ি তো ঘরেই আছে।
আমার কাছে অবশ্য সবচেয়ে আকর্ষনীয় আইটেম ছিলো বরফ। হ্যাঁ বরফ। সে যুগে ঘরে ঘরে ফ্রিজ ছিলো না। নিম্নবিত্ত তো দূরের কথা, উচ্চ-মধ্যবিত্তের নাগালেও ফ্রিজ ছিলো অসম্ভব। ইফতারের শরবতটুকু ঠান্ডা করার জন্যে তাই চাই এক টুকরো বরফ। বড় রাস্তা কী গলির মোড়ে চটের বস্তার ওপর বসে যেত মৌসুমী বরফ বিক্রতা। বরফের আস্ত চাই ঢাকা থাকতো কাঠের কুরোতে। তার ওপর ছালা বিছানো। যেন গলে না যায়। ক্রেতার কেউ চার আনা, কেউ আট আনার বরফ কিনতেন। বাটখারা দিয়ে চাই ভেঙে টুকরোগুলো দাঁড়িপাল্লা দিয়ে ওজন করে বিক্রি করা হত।
ঘরে বসে “এই বরফ” ডাক শুনলেই মন আনচান করে উঠত! মা’র দিকে ঘন ঘন করুন, নির্বাক চাহনী দিতাম। মা’র ভাবলেশহীন মুখচ্ছবি জীবনের প্রতি নৈরাশ্য আরো বাড়িয়ে দিতো। মা’র ধারনা, বরফকল পচা পানি দিয়ে বরফ তৈরি করে। অনেক মা-ই সেটা বলতেন। কথা হয়ত সত্য, কিন্তু ফ্রিজের বোতলের ঠান্ডা জলে অন্তরের জ্বালা যে মেটে না। সেটা আমাদের মা-খালারা বুঝতেন না। ক্ষণে ক্ষণে জলদগম্ভীর “এই বরফ,” “এই বরফ” হাক শুনলে স্বাস্থ্যের কথা কার মনে থাকে?
মনে আছে, অনেকক্ষণ দীর্ঘশ্বাস ফেলার পর একদিন পেলাম দশ পয়সা। হ্যাঁ, ১৯৮০-৮৫ সালেো এদেশে ধাতব সে দশ পয়সা ছিলো। দু’লাফে সিঁড়ি বেয়ে নেমে দিলাম দৌড়। মাগরেবের আজান শুরু হতে দেরী নেই। গিয়ে দেখি বরফ প্রায় শেষ। প্রায় শেষ হয়ে আসা চাই থেকে তুলে দিল একখণ্ড বরফ। মাইকে টোকার শব্দ শোনা যাচ্ছে, ফুঁ দিচ্ছে। আজান হলো বলে। দে দৌড়। এদিকে কাঠের কুরো ভেদ করে বরফ আমার পাঞ্জাকে নীল করে ফেলছে। জমে যাচ্ছে হাতের তালু। টনটন করেছে ব্যাথায়। মন চাইছে, ফেলে  দেই। পড়িমড়ি করে বাসায় এলাম। ঊসান বোল্ট নির্ঘাত ফেল করতো সেদিন। চার লাফে সিঁড়ি ভেঙে দোতালায়। না, না! কিছু সময় বাকী আছে এখনো। কলের জলে ধুয়ে পানি ভরা ছোট পাত্রে ছেড়ে দিলাম বরফখন্ড। ছোট জাহাজের মত ভাসছে সাবমার্জ হয়ে। সে পানি দ্রুত মেশানো হলো শরবতে। আজান দিচ্ছে। চুমুক দিলাম গ্লাসে।
প্রায় সায়ত্রিশ বছর পরে, টেবিলে আজ ইফতারের কত উপাচার। নেই শুধু সেই থ্রীল, সেই স্বাদ। রমাজান মাসের গোধূলি যখন ম্যানহাটনের পশ্চিম আকাশে এগিয়ে আসে, কল্পনায় যখন শুনি মসজিদের মাইকে ফুঁ দেবার আওয়াজ, তালুর শিরাতে আজো টনটনে সে ব্যাথা অনুভব করি। এত বছর পরেও, মাগরেবের সে ব্রহ্মমুহুর্তে আত্মমগ্ন মনে দৌড় দেই আমি। আমার চৈতন্যে করতল গলে প্রবাহিত হয় টিপটিপ জলের ধারা। হাতের মুঠিতে আনমনে আমি কুরো খুঁজে বেড়াই।

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

বিশ্বে করোনা ভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৭৮২,১২৯
সুস্থ
৭২৪,২০৯
মৃত্যু
১২,২১১
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু

স্বত্ব @২০২১ দেশ

সাইট ডিজাইনঃ টিম দেশ