1. ayanabirbd@gmail.com : deshadmin :
  2. hr.dailydeshh@gmail.com : Daily Desh : Daily Desh
  3. enahidreza@gmail.com : sportsdesk : sports desk
  4. newsdesk.desh@gmail.com : Feroz Shahrier : Feroz Shahrier
মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৭:৪৩ অপরাহ্ন

দোকানপাট-শপিংমলের ভিড়, কি বার্তা দিচ্ছে?

মারুফা মোহসেনা
  • আপডেট : সোমবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২১

করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে চলমান কঠোর লকডাউনের মধ্যেই খুলে দেওয়া হয়েছে মার্কেট-দোকানপাট। টানা ১১ দিন পর তাই গতকাল রবিবার রাজধানীর মার্কেটপাড়াগুলোতে দেখা গেছে বেশ ব্যস্ততা। এদিন সকালে ক্রেতাসাধারণের আনাগোনা কম থাকলেও বিকাল নাগাদ বাড়তে থাকে ভিড়। ফলে রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকার রাস্তাঘাটে দেখা দেয় বেশ যানজট।


এদিকে রাজধানীতে মার্কেট-দোকানপাট বিকাল ৫টার পরিবর্তে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।

গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় পুলিশের পদস্থ এক কর্মকর্তা দেশ’কে বলেন, ‘রমজান মাসে ইফতারের পর মূলত মার্কেটে কেনাকাটা করতে যান ক্রেতারা। ব্যবসায়ীরা সময় বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেছেন। তাই বিকাল ৫টার পরিবর্তে রাত ৯টা পর্যন্ত মার্কেট খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। তবে খুব শিগগির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।’

কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে রবিবার থেকে মার্কেট-দোকানপাট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে গত ২৩ এপ্রিল প্রজ্ঞাপন জারি করে বলা হয়, ব্যাপকসংখ্যক মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখা যাবে। সে ক্ষেত্রে মানতে হবে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি। আর সেটি প্রতিপালনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাজার বা সংস্থার ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

যদিও গতকাল বিভিন্ন মার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বড় শপিংমলগুলো ছাড়া তুলনামূলক ছোট মার্কেটগুলোতে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি ছিল অনেকটাই উপেক্ষিত। এমনকি লকডাউনকালে মার্কেটে যেতে মুভমেন্ট পাসের নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে। তবে মার্কেট এলাকাগুলোর সড়কে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মুভমেন্ট পাস চেক করতে দেখা যায়নি পুলিশ সদস্যদের।

এদিকে লকডাউনের মধ্যেই মার্কেট-শপিংমল খুলে দেওয়ার সমালোচনা করে প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. লেলিন চৌধুরী দেশ’কে বলেন, ‘লকডাউন তুলে নেওয়ারও প্রক্রিয়া রয়েছে। কিন্তু তা না করে কড়াকড়ি লকডাউনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ঠিক কী কারণে মার্কেট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তা বোধগম্য নয়। এটা অযৌক্তিক ও অবৈজ্ঞানিক। অসংখ্য ব্যবসায়ীর জীবিকা এর সঙ্গে জড়িত ঠিক আছে, কিন্তু এর জন্য তো জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলা যাবে না। কারণ অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের ফলে লকডাউন ব্যর্থতায় পরিণত হতে পারে।’

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন দেশ’কে জানান, করোনার কারণে ব্যবসায়ীরা বড় ক্ষতির মুখে রয়েছেন। সামনে ঈদের মৌসুম। এ উপলক্ষে ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে বিপুল টাকা বিনিয়োগ করেছেন। অনেকেই ঋণ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ থাকলে পথে বসে যাবেন তারা। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনেই দোকানপাট খোলা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে এবার কোনো ছাড় নেই।

গতকাল সকালে নিউমার্কেট, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট, নিউসুপার মার্কেট ও চাঁদনীচকসহ ওই এলাকার সব শপিংমল ও দোকানপাট খোলা দেখা গেছে। নিউমার্কেট, চন্দ্রিমাসহ অধিকাংশ মার্কেটের সামনেই চোখে পড়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা রাখার বিষয়টি। কয়েকটি মার্কেটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য মাইকিংও করতে দেখা গেছে। তবে বেশ কিছু দোকানেই ছিল না হাত জীবাণুমুক্তকরণের উপকরণ। মাস্ক পরার ক্ষেত্রেও দেখা গেছে ক্রেতা-বিক্রেতার উদাসীনতা। বিশেষ করে ফুটপাতের দোকানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধিকে শিঁকে তুলেই চলছে বেচাকেনা।

গতকাল সকালে অবশ্য ওই এলাকায় ক্রেতার চেয়ে ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতির তোড়জোড়ই ছিল বেশি। দোকানপাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নের পাশাপাশি ও নতুন পণ্য তোলার কাজেই ব্যস্ত ছিলেন ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা। বিকালের পর মার্কেটগুলোতে ক্রেতার ভিড় বেড়ে যায়। এ সময় সায়েন্সল্যাব মোড় থেকে নীলক্ষেত পর্যন্ত বেঁধে যায় রিকশা, সিএনজি ও ব্যক্তিগত গাড়ির জটলা। নিউসুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘মার্কেট খুললেও প্রথম দিন গোছগাছেই কেটেছে। ক্রেতাদের দেখা পাচ্ছি না তেমন। রমজানে মূলত ইফতারের পর ক্রেতা বেশি আসেন। তার পরও দোকান খুলতে পেরে আমরা বেশ খুশি।’

একই চিত্র দেখা গেছে গুলিস্তান এলাকাতেও। তবে ওই এলাকায় সকাল থেকেই ছিল ক্রেতার ভিড়। দিনভর তাই ব্যস্ত সময় পার করেছেন মহানগর কমপ্লেক্স, ফুলবাড়িয়া সুপারমার্কেট-২, ঢাকা ট্রেড সেন্টার মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। বেলা ১১টা থেকেই মার্কেটগুলো ঘিরে ভিড় বেড়ে যাওয়ায় আশপাশের সড়কগুলোতে রিকশা, সিএনজি ও কাভার্ডভ্যান-পিকআপের জট বেঁধে যায়। ফুটপাতগুলোতেও ছিল বেশ ভিড়। মূলত ঢাকা ট্রেড সেন্টার ও মহানগর কমপ্লেক্সের কাপড়ের পাইকারি দোকানগুলোতেই বেশি ক্রেতা ছিল।

ঢাকা ট্রেড সেন্টারের ব্যবসায়ী মো. নাসির ভুঁইয়া বলেন, ‘লকডাউনের কারণে পাইকারি বাজারের ঈদ মৌসুমের কেনাকাটা এবার ব্যাহত হয়েছে। ফলে খুচরা বিক্রেতারা এখনো দোকানে পণ্য তুলতে পারেননি। তাই মার্কেট খোলার সঙ্গে সঙ্গেই খুচরা বিক্রেতারা মার্কেটে আসছেন কেনাকাটা করতে। কিন্তু লকডাউনের কারণে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় ঢাকার বাইরের ব্যবসায়ীরা আসতে পারছেন না। এতে করে পাইকারি মার্কেটে বিক্রি কম হবে।’

মৌচাক মার্কেট এলাকায় গতকাল বিকাল ৪টায় ঘুরে দেখা গেছে, মার্কেটের কাপড়ের দোকানগুলোতে বেশি ভিড় করছেন ক্রেতারা। নারীদের ভিড়ই বেশি। বিকালে মার্কেট ঘিরে মালিবাগ মোড় থেকে মগবাজার পর্যন্ত ছিল বেশ যানজট। কথা হলে ক্রেতা শাহনাজ আক্তার বলেন, ‘অনেক দিন মার্কেট বন্ধ থাকায় প্রয়োজনীয় কাপড় কেনা হয়নি।

প্রয়োজন না হলে আসতাম না। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কেনাকাটা করছি। নিজের ও বাচ্চাদের জন্য কিছু কাপড় কিনেছি।’

এদিকে নিউমার্কেট ব্যবসায় সমিতির সম্পাদক দেওয়ান আমিনুল ইসলাম দেশ’কে বলেন, ‘অল্প সময়ের জন্য মার্কেট খোলা থাকলে মানুষের ভিড় ও হুড়োহুড়ি বেশি থাকে। অন্যদিকে দীর্ঘ সময় খোলা রাখলে এমন বিপত্তি ঘটে না। তা ছাড়া স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলাতেও সুবিধা হয়। তাই মার্কেট খোলা রাখার সময় বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেছি আমরা।

মৌখিকভাবে রাত ৯টা পর্যন্ত অনুমতিও মিলেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে।’

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

বিশ্বে করোনা ভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৭৮২,১২৯
সুস্থ
৭২৪,২০৯
মৃত্যু
১২,২১১
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু

স্বত্ব @২০২১ দেশ

সাইট ডিজাইনঃ টিম দেশ