1. ayanabirbd@gmail.com : deshadmin :
  2. hr.dailydeshh@gmail.com : Daily Desh : Daily Desh
  3. enahidreza@gmail.com : sportsdesk : sports desk
  4. newsdesk.desh@gmail.com : Feroz Shahrier : Feroz Shahrier
মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৮:২৭ অপরাহ্ন

কলাম (পর্ব-০২)

কামিনী পরিবার

অগ্রদূত
  • আপডেট : রবিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২১

মিরপুর এগারোতে মিজান উকিলের মক্কেল তালুকদার ঢাকার কোর্টের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিল সকাল সাতটায়। মিজান উকিল কয়েকদিন থেকে তালুকদারকে স্মরণ করিইয়ে দিচ্ছে আজ কোর্টের হাজিরা। আজকের হাজিরাতে উপস্থিত থাকতেই হবে। তা-না হলে ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়ে যাবে।


তালুকদার আগের দুটো তারিখে হাজিরা দিতে পারেনি। প্রথম তারিখে বিশেষ কাজে দেশের বাড়িতে থাকতে হয়েযছিল। দ্বিতীয় তারিখে শরীর ভালো ছিলোনা।
বেচারা তালুকদারের ভাগ্যটাই খারাপ। সারারাত ধরে একটানা ঘ্যানর ঘ্যানর বৃষ্টি পড়ছে তো পড়ছেই। সারা আকাশ জুড়ে আলো নেই। মড়াত মড়াত করে মেঘের গর্জন, সেই সাথে বৃষ্টি  আর বৃষ্টি। মিরপুর দশ নম্বর থেকে শুরু হয়ে পুরো রোকেয়া সরণি  রাতের বৃষ্টিতে নদী হয়ে আছে। এতো সকালে গাড়ি ঘোড়া বের হয়নি। মাঝে মাঝে ঢাকা শহরের জীবন থমকে যায়। আজো তেমনি হয়েছে। মানুষ জন আজ ঘুমাচ্ছে।
বৃষ্টির  ক্রমাগত বর্ষণে নগরের জীবন যাত্রা অচল হয়ে গেছে। তবু তালুকদারকে আজ বের হতেই হবে। আজকে হাজিরা না দিতে পারলে বিপদ হতে পারে। দিনটা ভালো থাকলে তালুকদার বাসেই যেতো। মিরপুর বারো থেকে সদরঘাট ডাইরেক্ট বাস চলাচল করে। ভালো সিট নিয়ে যাওয়া যায়, ভাড়া ত্রিশ টাকা।
আজ ব্যাপারটা সে রকম নয়। ঝুম বৃষ্টিতে ঘর থেকে বের হওয়াই সম্ভব নয়। একান্ত বাধ্য হয়ে তালুকদার উবার ডাকলো।কাছেই উবার ছিলো। মোবাইলে দেখালো দুমিনিটের মধ্যে বাসায় পৌঁছাবে উবার। তালুকদার মনে মনে আল্লাহকে ধন্যবাদ দিল যে এই অসময়ে সে অন্তত গাড়ি পেয়েছে। ভাড়া অনেক, পাঁচশত পঞ্চাশ দেখাচ্ছে। সব সময়তো টাকার কথা চিন্তা করলে চলবে না! টাকার চাইতে আজ কোর্টের হাজিরা দেওয়াটাই বেশি জরুরি।
বৃষ্টি ঝরছে। সামনের উইন্ডশিল্ড পটাপট ডান বাম করছে। এতো বৃষ্টি যে উইন্ডশিল্ডটা একটু বিশ্রাম পর্যন্ত নিতে পারছে না।উবারের ড্রাইভারের নাম সুমন। তালুকদারই কথা শুরু করলো।
তা সুমন ভাই আমারে নিয়া কয়টা ট্রিপ মারলেন আজকে?
না স্যার বেশী না। সারা রাইত বৃষ্টি। বৃষ্টির মধ্যে মানুষ বাইরেই আসে নাই। আমি স্যার সারারাত গাড়ি চালাই। আজকে এই আপনারে নিয়া চার নম্বর ট্রিপ মারতেছি। কমলাপুর ষ্টেশন থাইকা রাজা বাজার একটা পাইলাম রাত বারোটায়, পরেরটা রাত  দুইটায় গেন্ডারিয়ায় আসগর আলী হাসপাতাল, গেন্ডারিয়া থাইকা ভোরে পল্লবী সাড়ে এগারেতে একটা। আর অহন আপনারে নিয়া যাইতাছি।
তা হলেতা আজকে লস আপনার, তালুকদার বলে।
হ স্যার, আজকে পুরাই লস। এর মধ্যে পঁচিশ পার্সেন্ট উবার নিয়া যাইবো। আমি কী পামু আর মালিকরে কী দিমু!
মিরপুর দশ রীতিমত নদী হয়ে গেছে। ড্রাইভার সুমন দশ নম্বর গোলচক্করের বাঁয়ে ঢুকে পড়লো। কচু ক্ষেত হয়ে ক্যান্টনমেন্টের ভিতর দিয়ে এয়ারপোর্ট রোডে উঠলো। এখন মহাখালী হয়ে তেজগাঁও শিল্প এলাকা ধরে সাত রাস্তার ওখান থেকে ফ্লাইওভারে সোজা মগবাজার হয়ে গুলিস্তানের পাশ দিয়ে জনসন রোড। তারপর ডাইনে মোড় নিয়ে উবার আজাদ সিনেমা হলের সামনে থামলো। তালুকদার সুমন ড্রাইভারকে অনুরোধ করলো একটু সামনে স্টার রেস্তোরাঁয় গিয়ে থামাতে। ওখানে সোজা হোটেলের ভিতরে ঢোকা যাবে। বৃষ্টি লাগবেনা।
উবারের মিটারের বিল শো করলো ছয়শত দশ টাকা। তালুকদার বুঝলো, ঘুরে আসার কারনে বিল বেশি উঠেছে।
তালুকদার সকালে নাস্তা করে নি আজ। অত সকাল বাড়ির সবাই ঘুমাচ্ছিলো। বুয়াও কাজে আসতে আসতে সকাল আটটা হয়ে যায়। কোর্ট কাচারির ঠিক উল্টো দিকেই স্টার রেস্তোরাঁ। নানা কিসিমের মানুষে এই রেস্তোরাঁয় গিজ গিজ করে। মোটামুটি আরামদায়ক। অবশ্য আজ রেস্তোরাঁ একেবারে ফাঁকা।
তালুকদার যুত মতো সুন্দর একটা টেবিলে গিয়ে বসলো। ঝুম বৃষ্টি যাতে দেখা যায়। এখন বৃষ্টি দেখতেও সুখ, কারন তালুকদার গন্তব্যে পৌঁছে গেছে। কোর্টের হাজিরা মিস হওয়ার সুযোগ নেই। মিজান উকিলও কটমটি করার চান্স পাবে না। এও এক ধরনের প্রশান্তি। তালুকদার টেবিলে বসার একটু পরেই বেয়ারা খাবারের অর্ডার নিতে এলো। তালুকদার এখন কী খাবে এটা তার মুখস্ত। দুটো কম তেলে ভাজা পরাটা আর মিক্সড সবজি। এক বোতল পানি। ব্যাস।
খাবার শেষ করে এক কাপ চা অর্ডার দিলো তালুকদার। বসে বসে দেখলো সদরঘাট রোড, ঝাঁপি বন্ধ করা দোকান, পলিথিন গায়ে মুড়ি দেয়া রিক্সাওয়ালা, দুএকটা প্রাইভেট গাড়ি আর কোর্ট কাচারির ভিজতে থাকা দালান। হাজার রকমের মানুষ, টাউট বাটপারের যায়গা এই কোর্ট কাচারি। চা খাওয়া শেষ করে রেস্তোরাঁর দেয়ালে টাঙানো ঘড়ি বলছে সকাল সাড়ে আট। তালুকদার ভাবছে এবার উঠা দরকার। মিজান উকিলের চেম্বারে গিয়ে বসে থাকা ভালো। একটু পরে কোলাহল বাড়লে রিক্সা পাওয়াও মুস্কিল আছে। আর এখন রিক্সা নিয়ে একেবারে রাজার দেউড়ি গলির ভিতর দিয়ে ‘কামিনী বাড়ি’ যেখানে মিজান উকিলের চেম্বার পর্যন্ত যাওয়া যাবে। বৃষ্টি যেন একটু দম নিচ্ছে তারপরও একেবারে থামেনি। পূবের আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢাকা। বুড়িগঙ্গার ওপারে মনে হয় এখনো মারদাঙ্গা বৃষ্টি হচ্ছে।
“কামিনী বাড়ি” ভিজছে। কলাপ্সিবল গেটে টুলে বসে বুড়ো দারোয়ান ঝিমোচ্ছে। তালুকদারকে দেখে বিরক্ত যেন। গেট খুলতে খুলতে বললো কোন উকিল আসে নাই। সব চেম্বার বন্ধ। আপনে বসবেন কই, এখানেই ওই চেয়ারে বসে থাকেন। তালুকদার চেয়ারে বসে বিরক্ত হয়ে বললো, কামিনী খালা নাই?
আছে, হেয় যাইবো কই, বাইত আছে।
চেয়ারে বসে তালুকদার ফোন দিল মিজান উকিলকে।
আমিতো বসে আছি নিচে কামিনী বাড়ির গেটে। আপনি কই?
আপনি চলে আসছেন, আমিতো ঘুম থেকে  উঠছি। অপেক্ষা করেন।
মানে? কতক্ষণ অপেক্ষা করবো। অফিস খোলার ব্যবস্থা করেন, বিরক্ত তালুকদার।
আপনি এক কাজ করেন, কামিনী খালার বাসায় যান। উনার ড্রইংরুমে বসেন। আমি বলে দিচ্ছি। আমার আসতে দেরি হবে। এই বৃষ্টির মধ্যে আসাটাই কী মুস্কিল।
এটা কথা হলো! আপনি যে ভাবে বললেন, মনে  হলো আজকে হাজিরা না দিলে ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়ে যাবে। দুনিয়ার ঝামেলা করে এসেছি আমি।
মিজান উকিল বললো, কামিনী খালার কাছে যান। আমি ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।
সিঁড়ি বেয়ে কামিনীর কাছে এলো তালুকদার। মুখে রাজ্যের দুশ্চিন্তা। চেক ডিজঅনারের মামলা। ওয়ারেন্ট হয়ে গেলে থানার লোকজন নাস্তানাবুদ করে।
খালা দেখেনতো আজ আমার হাজিরা। উকিল যে ভাবে বললো মনে হলো আমার জীবন একদিকে আর কোর্টের হাজিরা একদিকে। এখনতো মিজান সাহেবই আসেননি।
কামিনী একটু হাসলো। অতো উত্লা হইছো কেলা। বহ। বহ, আমি আছি না? এক কাপ চা পিলাই তোমারে। কোর্ট বইতে অহনো ছময় আছে। চিন্তা কইরো না, কাম অয়া যাইবো।
কামিনী তার ছেলে আকবরকে ডাকলো। আকবর মিজান উকিলের মহুরি। হাজিরার কাগজ মিজান উকিল আগেই তৈরি করে রেখেছিল। তালুকদার সই করে দিল। কামিনী ছেলেকে পাঠিয়ে দিল তিন নম্বর কোর্টে।
তালুকদার বললো, আমি কী যাব খালা?
কামিনী বললো, না বাপ তোমার যাওনের কাম নাই।
প্রায় এক ঘন্টা পর কামিনীর ছেলে আকবর ফিরে আসলো। ঘরে ঢুকতেই মিজান উকিলের ফোন।
তালুকদার ভাই, কাজ হইছে, খালার হাতে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে দেন।
তালুকদার আচ্ছা ঠিকাছে বলে, ফোন রেখে দিল।
আকবর গদগদ হয়ে তালুকদারকে বললো, স্যার, আপনার কপাল ভালো। মেজিষ্টেট সাব কোর্টে উইঠাই জানাই দিল, যারা জামিনে আছেন তাদের সকলকেই অটো জামিন দেয়া হলো।
তাই আমি হাজিরা দিয়াই চইলা আইছি।
যাক আপাতত কয়েকদিনের জন্য শান্তি, ভাবলো তালুকদার।
আকবরকে জিজ্ঞেস করলো, কত খরচ হলো? আকবর বিনয়ের সাথে বললো, পাঁচশ টাকা। তালুকদার  খুশি হয়ে আকবরকে একহাজার টাকার একটা নোট দিয়ে বললো, খুশী?
আকবর কানের কাছে মাথার চুল চুলকাতে-চুলকাতে বললো, খুশি স্যার।
একটু পরে মিজান উকিলের ফোন, খালার হাতে টাকা দিছেন?
না দেইনি।আজ কোর্ট বসেনি,অটো জামিন হয়েছে। আপনার জন্য এক হাজার টাকা খালার কাছে রেখে যাচ্ছি।
মিজান উকিল বললো, খা লারে দেন তো?
কামিনী খালা ফোন নিয়ে, মিজান উকিলকে বললো, বাপ এক হাজার ঠিকই আছে। মক্কেলরা তুমাগো পেটের ভাত দেয়, এত্ত চিপাইসনা বাপ।
কামিনী ফোন কেটে দিল। তালুকদারকে বললো, ঠিক আছে এক হাজারই  দেন। আমি মিজান উকিলরে সামলামু।
কামিনীকে সালাম দিয়ে ফিরে এলো তালুকদার। রাস্তায় তখনো বৃষ্টি। রাজার দেউড়ির সব দোকান খোলেনি। ছাতা মাথায় একটা মাঝবয়সী লোক গুঁজো হয়ে গলির মোড়ে বসে আছে এক ডালি নিয়ে। ডালিতে এক ডজন জবা ফুল, বেলী ফুল কয়েয়কটা আর তুলসীপাতা। ডালিতে আর কিছু ছিলোনা।তালুকদার ভাবলো, এই ফুল কে কিনতে আসবে এই বৃষ্টির মধ্যে? আর ফুলের দামইবা কত হবে?
(চলবে………………)

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

বিশ্বে করোনা ভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৭৮২,১২৯
সুস্থ
৭২৪,২০৯
মৃত্যু
১২,২১১
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
১৬২,৮২৩,২৩৭
সুস্থ
৯৯,০৩৭,২৩৬
মৃত্যু
৩,৩৭৬,৯২২

স্বত্ব @২০২১ দেশ

সাইট ডিজাইনঃ টিম দেশ