1. ayanabirbd@gmail.com : deshadmin :
  2. hr.dailydeshh@gmail.com : Daily Desh : Daily Desh
  3. enahidreza@gmail.com : NAHID REZA : NAHID REZA
শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:৩৯ অপরাহ্ন

কলঙ্কের কালি লেপন করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

আতাহার খান
  • আপডেট টাইম :: বৃহস্পতিবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২১

ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার ইতিহাসে শেষ অবধি কলঙ্কের কালো কালি লেপে দিলেন। যে রাষ্ট্র গোটা দুনিয়ায় গণতন্ত্রের সবক দিয়ে বেড়াত, সেই দেশের আইনসভায় হানাদারদের বেপরোয়া আক্রমণের ঘটনা বিশ্বব্যাপী রীতিমত বিপুল উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একইসঙ্গে সৃষ্টিও করে ভয় ও উদ্বেগ। প্রশ্ন উঠতে পারে, এই আক্রমণ কি আকস্মিক না পরিকল্পিত ছিল? এর উত্তরের জন্য হয়ত আমাদের আরো কিছু দিন, অন্তত তদন্ত না-হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।


কারো কারো অভিমত, ক্যাপিটলে হামলার ঘটনার পেছনে ছিল পরিষ্কার উসকানি ও পরিকল্পিত প্রস্তুতি। তার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল হিংস্যা, বিদ্বেষ, অসহিষ্ণুতা আর স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতা।

ক্যাপিটলে এই তাণ্ডব চালানোর পর থেকে গোটা বিশ্বের অভিযোগ ওঠে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে। শুধু একারণে তিনি এক ভিডিও বার্তায় নতুন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি হয়েছেন, এটা মনে করবার কোনো যুক্তি নেই। প্রকৃত কারণ হল, হাউসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির হুঁশিয়ারি। তিনি বলেছেন, ক্যাপিটলে হামলার পর ট্রাম্প নিজ থেকে ইস্তফা না-দিলে তাঁকে ইমপিচ করা হবে। প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের শেষ মুহূর্তে এসে বরখাস্ত হওয়ার ঝামেলা এড়ানোর জন্যই হয়ত ট্রাম্প ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন। অনেকটা অনন্যোপায় হয়েই এই হামলা নিয়ে মুখ খুললেন আমেরিকার বিদায়ী প্রেসিডেন্ট। ৩ মিনিটের একটু কম সময়ের ঐ ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “আমার এখন লক্ষ্য ক্ষমতা হস্তান্তর। ২০ জানুয়ারি নতুন প্রশাসন কাজ শুরু করবে। তার আগে আমি সব কিছু বুঝিয়ে দিতে চাই।”

ক্ষমতা হস্তান্তরের এই স্বীকারোক্তির আগে ক্যাপিটলের চাপ ছিল ট্রাম্পের উপর। বিভিন্ন মহল থেকে তাঁকে ইমপিচমেন্টের দাবিও তোলা হচ্ছিল। ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ায় নিযুক্ত আমেরিকার অ্যাটর্নি জেনারেল মাইকেল শেরউইন ইতিমধ্যেই ক্যাপিটল হামলার ঘটনা নিয়ে ১৫টি মামলা দায়ের করেন উন্মত্ত ট্রাম্প সমর্থকদের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, “হামলাকারীদের বিরুদ্ধে যত সংখ্যক মামলা করা যায় আমরা করব।’’ ক্যাপিটলে হামলার পর ডেমোক্র্যাটরাসহ কেনো কোনো রিপাবলিকানও ট্রাম্পের ইমপিচমেন্টের কথা তুলেছিলেন। ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হলে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর সাহায্য নিতে হবে। তাই ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের প্রতি ডেমোক্রাট নেতারা তো বটেই, কিছু রিপাবলিকান নেতাও আহ্বান জানিয়েছেন।

আসলে ট্রাম্প হলেন আপাদমস্তক বর্ণবাদী এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বীর প্রতি অসহিষ্ণু এক ব্যক্তি। এক এক সময়ে এক এক ধরনের কথা বলেন। তাঁর শেষ কথা হল, তাঁকে অভিশংসন করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ রাজ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়বে। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, ট্রাম্প ইচ্ছে করেই এই হুমকি দিয়ে রাখলেন। অত্যন্ত আক্রমণাত্মক আচরণ তাঁর। তা না-হলে গণতন্ত্রের দুশ বছরের ঐতিহ্য নিয়ে গর্বিত যুক্তরাষ্ট্রের মাথা বিশ্ববাসীর সামনে এভাবে তিনি নত করে দিতে পারতেন না। খুবই খামখেয়ালি মানুষ। এক সময়ে তো রেসলিংয়ের রিংয়ের পাশে প্রায়ই হাঙামায় জড়িয়ে পড়তে দেখা যেত তাঁকে। তাঁর এই উচ্ছৃঙ্খলতা ছেলেবেলাতেও দেখা গেছে। নানা অপরাধ করে বেড়িয়েছেন তিনি। কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়েও আছে তাঁর মস্ত বড় এক‘কিন্তু’। পরবর্তীতে ব্যবসায়ী ট্রাম্পকে কর ফাঁকি দেওয়ার অপরাধের সঙ্গে  জড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে।

মানতেই হবে, এই নিন্দিত মানসিকতা কাজে লাগিয়ে চার বছর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিলারিকে পরাজিত করেছিলেন। বিভাজনের বিদ্বেষ ছড়িয়ে পুরো জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করার উন্মত্ত খেলায় মেতে ছিলেন । খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই সেসময়ে উদার গণতান্ত্রিক বহুত্ববাদী সমাজ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়। যেখানে বর্ণবিভাজনের পর্ব পার হয়ে একটা স্বচ্ছ্ব-সুন্দর পরিবেশ তৈরির প্রশংসিত উদাহরণ তৈরি করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সেখানে ছড়িয়ে দেওয়া হয় জাতিগত বিভেদের দাহ এবং তা মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে চারদিক। শুধু কি তাই, ক্ষমতা হাতে পেয়ে ট্রাম্প পার করে আসা চার বছরে কী-না করেছেন । তার বর্ণবাদী, ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক এবং আক্রমণাত্মক অরাজনৈতিক  কথাগুলো বলতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের শৃঙ্খলা ও নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর হানে মারাত্মক আঘাত। ট্রাম্পের পক্ষের লোকজন এতটাই সহিংস হয়ে ওঠে যে তারা মিসিসিপি রাজ্যে কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত এলাকার একটি গির্জা ও অসংখ্য বাড়িঘরে আগুন পর্যন্ত ধরিয়ে দেয়।

ট্রাম্পের এসব কর্মকাণ্ড আর কথাবার্তা আপাতদৃষ্টিতে এক বেয়াকুবের অসংলগ্ন আচরণ বলে মনে হতে পারে। এ নিয়ে হয়ত ঝুঁকি থাকতে পারে অস্থিরতা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার। কিন্তু বিষয়টি এভাবে সরলীকরণের অর্থ হল ট্রাম্পের মূল উদ্দেশ্য আড়াল করা। আমাদের মনে রাখতে হবে, এসব প্রশ্ন তারাই বেশি তুলেছেন যারা ডেমোক্র্যাট, সমাজতন্ত্র ও উদারনৈতিক গোষ্ঠিগুলোর সমর্থক। হ্যাঁ, ট্রাম্পের উগ্র কথা-বার্তা আর নোংরা জাত্যাভিমান ছড়ানোর পেছনে বিশেষ একটি পরিকল্পনা সক্রিয় ছিল। সেটি হল তিনি সচেতনভাবেই চেয়েছেন মার্কিনিদের মধ্যে শ্বেতাঙ্গ ও অশ্বেতাঙ্গ বিভেদরেখা, বর্ণবিভাজনের গণ্ডি পরিষ্কার রূপ নিয়ে বিকশিত হোক। জাতিগত বিতৃষ্ণা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন ট্রাম্প। প্রায় ৭০ শতাংশ সাদা মানুষ ছিল তার লক্ষ্য। তিনি চেয়েছিলেন জাতিগত নিপীড়নের মধ্য দিয়ে শাদাদের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে। মানুষকে উসকিয়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর কোনো  জুড়ি মেলা ভার।

বাইডেনের কাছে  সুস্পষ্ট ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার পরও, জনগণের ম্যান্ডেড না-মানার মধ্য দিয়ে ট্রাম্প কার্যত তাঁর উৎকট জবরদস্তি মানসিকতাকেই বড় করে তুলে ধরেছেন। শেষ অবধি তিনি নিজেকে এমন এক চরম জায়গায় নিয়ে গেছেন, যেখানে অর্থাৎ হোয়াইট হাউসে দাঁড়িয়ে তিনি আপন ‘সমর্থক’ বাহিনীকে কার্যত ক্যাপিটল আক্রমণে প্ররোচিত করছেন। ৬ জানুয়ারির উন্মাতাল লঙ্কাকাণ্ডই তার প্রমাণ।

যে বিষাক্ত বিদ্বেষ ছড়ানো হয়েছে মার্কিনিদের ভিতরে, বাইডেনের আনুষ্ঠানিক অভিষেকে এবং সেই অভিষেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘স্বীকৃতি’ দানের মধ্য দিয়ে তার সমাপ্তি ঘটবে, এটা আশা করা কোনো মতেই ঠিক হবে না। সমাজের ভিতরে, বিশেষ করে শেতাঙ্গদের একটা বড় অংশের মানসিকতায় ট্রাম্প বিভাজনের বীজ বপন করে গেছেন। এই গভীর ও জটিল রোগ সারাবার দায়িত্ব বহন করতে হবে প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে এবং কংগ্রেসের দুই সভায় চালকের আসনে অধিষ্ঠিত ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধিদের। এটি একটি কঠিন পরীক্ষা। এর চেয়ে আরো বড় পরীক্ষার মুখোমুখি এখন রিপাবলিকান পার্টি। এই দলের অনেক নেতাই ট্রাম্প ও তাঁর বাহিনীর আচরণে তীব্র প্রতিবাদমুখর। তারা জানেন, ট্রাম্পের এই স্বৈরাচারী মনোভাবকে উৎখাত করতে না-পারলে নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের কাছে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি তো হতেই হবে, এমনকি তাদের আস্থা হারানোর ঝুঁকিও দেখা দিতে পারে। তাই রিপাবলিকান পার্টির কোনো কোনো নেতা  ট্রাম্পের দেখানো অসহিষ্ণু ও হিংস্র বিদ্বেষের পথ থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছেন এবং গণতান্ত্রিক আমেরিকার ভবিষ্যৎ সুস্থ  ও সুন্দর করার লক্ষ্যে গণতন্ত্রের পক্ষে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছেন। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর শিবিরের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির ক্রমাগত লড়াই, প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ ছিল সত্যই প্রশংসনীয়।

তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ-দেহে যে-বিষবৃক্ষ রোপিত হয়েছে, সেই অতিবিভাজনের ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে, ২০ জানুয়ারি থেকে খুব সতর্কভাবে পা ফেলে লক্ষ্যাভিমুখে এগুয়ে যেতে হবে জো বাইডেনকে।

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক [] দেশ, মুক্তিযোদ্ধা, কবি

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

বিশ্বে করোনা ভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৫৩০,৮৯০
সুস্থ
৪৭৫,৫৬১
মৃত্যু
৭,৯৮১
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
৯৬,৭৪১,৮৫০
সুস্থ
৫৩,০৬৮,১০৩
মৃত্যু
২,০৭০,৮৩০

নামাজের সময়সূচীঃ

    Dhaka, Bangladesh
    শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২১
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৫:২৩
    সূর্যোদয়ভোর ৬:৪২
    যোহরদুপুর ১২:১০
    আছরবিকাল ৩:১৬
    মাগরিবসন্ধ্যা ৫:৩৮
    এশা রাত ৬:৫৭

স্বত্ব @২০২০ দেশ

সাইট ডিজাইনঃ টিম দেশ