1. ayanabirbd@gmail.com : deshadmin :
  2. hr.dailydeshh@gmail.com : Daily Desh : Daily Desh
  3. enahidreza@gmail.com : NAHID REZA : NAHID REZA
শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:৪০ অপরাহ্ন

উড়াল-পর্ব ১৮

সোনার পাহাড়

শামীম আজাদ
  • আপডেট টাইম :: রবিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২১

দেশ থেকে বাইরে দূরে বিলেতে থাকি। জানি দেশে আমার মাপের যে কবিগন আছেন তাদের পাওয়া অনেক সাহিত্যিক সুযোগ সুবিধা থেকে পাই না। কিন্তু এও জানি গত তিন দশকে বিদেশ থেকে যা পেয়েছি তাও অবিশ্বাস্য। তবে  এর কিছুই পাওয়া হত না আমার সব রকমের পাঠকের মমতা আর প্রণোদনা ছাড়া। তাই ভাগ্য মানি আর নমিত হই আপনাদের কাছে। তো কী নিয়ে এত গদ গদ এবার সে গল্পটাই বলছি। গল্পটা ২০১৯ সালের মে মাসের। এথেন্সের।


কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর তাঁর বিদ্যাসুন্দর কাব্যে লিখেছিলেন, ‘শিলা জলে ভাসি যায়, বানরে সঙ্গীত গায়, দেখিলেও না হয় প্রত্যয়’। কিন্তু প্রত্যয় না করেই বা আমার উপায় কি? আমি চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি ঝকঝকে কাঞ্চন বর্ণ  এক পাহাড়।  সোনার পাহাড়।  এর নাম এ্যক্রোপ্লিস। সেখানেই এ্যথেনা দেবীর থান, পার্থেনিন আর সে উপাসনালয়েই নাকি সক্রেটিসের হাতে গড়া ভাস্কর্যও রয়ে গেছে! আর আমি কিনা তা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সেই পাহাড় দেখছি আমারই ব্যালকনি থেকে!

সত্যজিৎ রায়ের ‘সোনার কিল্লা’র কাহিনী কবে পড়েছিলাম মনে ছিল না। বাস্তবে তা নেই জানতাম। কিন্তু কল্পনায় তো আমি রাজা। আমার ভাবনা জগতে যে সোনার কিল্লার ইমেজ তৈরি করেছিলাম তা মনে ছিল। আমার কিল্লার রঙ ছিল ডাসা কাঁচা হলুদের মত গলা সোনা। এতো অবিকল তাই। মাথার উপরে প্রবল জোছনা। নিচে মিনিসেক্লিউসের মার্বেক পাথুরে সিঁড়ি। সে সিঁড়ি ধাপে ধাপে উঠে গেছে ঐ এ্যাক্রোপ্লিসের চূড়া অবধি। আমি কবি, যেখানে যাই মুগ্ধ হয়ে যাই। আর এ হচ্ছে গ্রিসের এথেন্স!

এসেছি এথেন্সের খ্যাতিমান কাব্য-সংগঠন এ্যা পোয়েটস আগোরাতে। শিল্প-সাহিত্য ও সভ্যতার অন্যতম জন্মভূমি ঐতিহাসিক এথেন্সে এ একটি অনন্যসাধারন কবিতার সংগঠন। আমি কবি হিসেবে লাভ করেছি তার সম্মানীয় আবাসিকত্ব। জানতাম এর জন্য আমার আবাস হবে পুরোনো এথেন্সের ঐতিহাসিক এক অংশ  প্লাকায়। থাকব ১৮০১ সালের একটা নিওক্ল্যাসিকাল কূটজালেক্সিস এর দ্বিতল বাড়ীর দোতলায়। যেখানে গ্রিসে সামরিক শাসনের সময়ে সামরিক জান্তার রোষানল থেকে বাঁচতে অনেক স্বাধীন-চেতা শিল্পী-সাহিত্যিকগন আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাই বলে তা থেকে এভাবে সোনার পাহাড়ও দেখতে পাবো?

আমাকে হতভম্ব করারই ইচ্ছা ছিল সংগঠনের আধিকারিক ক্যারিন এ্যান্সেলিনের। তাই কোথায় থাকবো, কি করবো তার সব বুঝিয়ে দিয়ে যাবার আগে সন্ধ্যে হলেই বলেছিলেন, শামীম এখন তোমাকে ব্যালকনিতে নিয়ে একটা জিনিস দেখাব। তুমি চোখ বন্ধ কর। চোখ খোলার পরতো আমার মাথা ঘুরে গেল। কারিনের যাবার সময়। গায়ে হাত দিয়ে বল্লেন, তোমার কাছেই কিন্তু সক্রেটিসের বাড়ি আর তাঁর আড্ডার  জায়গা আগোরাও!

বিছানায় শুয়ে পড়ার পর  রাত ঘন হয়ে এলে হঠাত ঘুম ভেঙে  চোখ খুলে দেখি ফ্রেঞ্চ উইন্ডো। সাদা খড়খড়ি। মার্বেল মেঝে। কোথাও থেকে ভেসে আসছে গ্রীক গায়কের গাঁথা। বুঝি, এ আসলে বাস্তব। তা হলে আমার সোনার পাহাড়? লাফিয়ে নামি বিশাল বিছানা হতে। তারপর দৌড়ে ছুটে যাই ঝুল বারান্দায়। নাহ, আছে। আমার সোনার পাহাড় আছে। কি আনন্দ! কাল শুধু নৈশভোজে পরিচিতি। তাতে থাকবেন ম্যান বুকার নমিনেশন পাওয়া  কবি এ্যালিসিয়া স্টারলিং, তাঁর বিখ্যাত সাংবাদিক স্বামী জন স্টারলিং, কবি মিরিসিনি গানা, অর্ফেয়ুস এ্যাপারগিস, এ্যাড্রিয়ানা কালফাপুলো। প্রথম দিন বলে সারাদিন ছুটি। কিন্তু নিজের লেখার বিষয়বস্তু আবিষ্কার করা। জল খেয়ে সোনার পাহাড়ে সিথান দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।

আমার আবাসিকত্বের মাত্রিকতা বা লক্ষ্য  ছিল তিনটি। এক, আমি ওঁদের সৌজন্যে আয়জিত নৈশভোজে দুটি বক্তৃতা দেবো। পরিচিতি ও সংযোগ ঘটবে গ্রীসের সম্মানীত কবিকূলের সঙ্গে। দুই, এ আবাসিকত্ব আমাকে আমার চিন্তা-চেতনার, লেখালেখির একটি ভাবনাবিহীন নির্জন সুযোগ দেবে। তিন, ঐ সুযোগে গ্রীসকে পটভূমিতে রেখে আমাকে লিখতে হবে কিছু ইংরাজী কবিতা যা প্রকাশিত হবে A Poets’ Agora’ র প্রকাশনীতে।

সকালে কফি হাতে স্লিপার পায়েই আবার  গিয়ে দাঁড়ালাম ঝুল বারান্দায়। পাহাড়ের আলো নেভানো। মনেহল ধূসর কতগুলো কংক্রিট ফ্রেম। তার মাঝে পিপিলিকার মত মানুষ। কি করে উঠলো এত উঁচুতে? নিচে তাকিয়ে দেখি একটি মনোহারি দোকান ঠিক আমার গেটের কাছেই। নেমে গিয়ে বেদানা ও দুধ কিনে নিলাম আর এলাকাটা নিয়ে একটু ধারনা পেলাম।

যেদিক থেকে গান ভেসে আসছিল সে আমার দালানের পেছন দিক। সরু পথ দিয়ে  এগুতে থাকতে থাকলে দেখি আঙুর লতার ছাদের নিচে এক রেস্তোঁরা আর পাশেই প্রাচীন এক বৃক্ষ। গায়ে তার বয়স লেখা। প্লাতানস ৪৮। আরেকটু এগুতেই পেয়ে গেলাম পুরানো আগোরা আর বায়ুঘড়ি। বিশাল বিশাল পিলার। বড় বড় পাথর আর ভাঙা দেয়াল। ফাঁকে ফাঁকে ফুটে আছে বাংলাদেশের মত এক ধরনের বুনোফুল। পথে পোলিশ শিল্পী বসে জল রঙে ওই বায়ুঘরই আঁকছেন। পর্যটকরা লাইন ধরে আছেন। আঁকা হলেই পঁচিশ ইউরো দিয়ে নিয়ে নিচ্ছেন।

আমিও লাইন দিলাম। ঠিক লাইনে না দাঁড়িয়েই। রাস্তার পাশে ফুটপাতে বসে পড়ে। আর আশ্চর্য তখনি এবার গান ভেসে এল। সেই একই গায়কের ক্রুন গাঁথা। মাথা ঘুরিয়ে দেখি বেশ বড় এক জল্পাই গাছের নিচে তিনি কি একটা গ্রিক যন্ত্র বাজিয়ে আপন মনে গেয়ে যাচ্ছেন সেই রাতেরই গান। তার অমসৃণ গলার স্বরে কি অদ্ভূত আবেদন। আর যন্ত্রটার কি মিষ্টি টুনটান!

ছবি কিনে পুরো আগোরার পাথরে পাথরে পা রেখে রেখে বুঝি অসম্ভব গরমের কারণে আগেই খিদে পেয়ে গেছে। কিন্তু আমার তো দেখা শেষ হয়নি। তাই উপরে উঠে এমন এক খোলা রেস্তোঁরায় বসলাম যেখান থেকে লোহার ফেন্স গলিয়ে আগোরা দেখা যায়। অর্ডার দিলাম গ্রিক ফেটা চিজের সালাদ ও চা। ওরা দিল সঙ্গে গরম গরম রুটি। আমি আবার ওবাক হয়ে ভাবি, কবিত্ব দিইয়ে এমন এক অর্জন হবে ভেবেছি কখনো?  একদম না।

নিচে তাকাই আর ভাবি এসব যায়গায় সক্রেটিস প্লেটো হেঁটে গেছেন। ওই যে দেখা যাচ্ছে প্রাচীন হেইড্রিয়ান লাইব্রেরি। সামনেই কমলালেবুর গাছ। এখানে নাকি তারই বাগান ছিল। তিনি গিয়ে আগোরাতেই বসতেন। সুদর্শন ছিলেন না। এ নিয়ে নাকি তিনি নিজেকে নিয়েই রসিকতাই করে বলতেন, “নাসারন্ধ্রটি বড়ো হওয়ায় ঘ্রাণ নেওয়ার বিশেষ সুবিধা হয়েছে; নাকটি বেশি চ্যাপ্টা হওয়াতে দৃষ্টি কোথাও বাধা পায়না।”

তাঁর কথাবার্তা ও চরিত্র সৌন্দর্যেই মানুষ মুগ্ধ হয়ে আঠার মত তাঁর সঙ্গে লেগে থাকতো। সক্রেটিস ছিলেন দ্বান্দ্বিক পদ্ধতিতে বিশ্বাসী। প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমেই দার্শনিক আলোচনা করতেন রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজারে – এ্যাগোরাতে। এই ছিল তার শিক্ষায়তন।

আমি ফেটা চিজ, টমেটো দিয়ে করা গ্রীক সালাদ ও গরম গরম রুটি রেখে নিচে সেই দিকে তাকিয়ে থাকি। তাঁর বানীগুলো মনে পড়েঃ ‘আমি কাউকে কিছু শিক্ষা দিতে পারবনা, আমি শুধু তাদের চিন্তা করাতে পারব’। ‘বিস্ময় হল জ্ঞানের শুরু’। ‘তুমি কিছুই জানোনা এটা জানা-ই জ্ঞানের আসল মানে’। ‘তুমি যা হতে চাও তা-ই হও’।

 

আহা এথেন্স এর এ্যা পোয়েটস আগোরা, আমি যা হতে চেয়েছি তাই হবার সুযোগ দিয়েছো।

১০.১.২১

লন্ডন  

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

বিশ্বে করোনা ভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৫৩০,৮৯০
সুস্থ
৪৭৫,৫৬১
মৃত্যু
৭,৯৮১
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
৯৬,৭৪১,৮৫০
সুস্থ
৫৩,০৬৮,১০৩
মৃত্যু
২,০৭০,৮৩০

নামাজের সময়সূচীঃ

    Dhaka, Bangladesh
    শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২১
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৫:২৩
    সূর্যোদয়ভোর ৬:৪২
    যোহরদুপুর ১২:১০
    আছরবিকাল ৩:১৬
    মাগরিবসন্ধ্যা ৫:৩৮
    এশা রাত ৬:৫৭

স্বত্ব @২০২০ দেশ

সাইট ডিজাইনঃ টিম দেশ