1. ayanabirbd@gmail.com : deshadmin :
  2. hr.dailydeshh@gmail.com : Daily Desh : Daily Desh
  3. enahidreza@gmail.com : NAHID REZA : NAHID REZA
শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন

বাংলা একাডেমির মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ প্রবন্ধ সাহিত্য পুরস্কার প্রাপ্তিতে

রফিক কায়সারকে অভিনন্দন

মোরশেদ শফিউল হাসান
  • আপডেট টাইম :: শুক্রবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২০

মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ (১৮৯৮-১৯৭৪) আমাদের শ্রেষ্ঠ গদ্যলেখকদের একজন । সমগ্র বাংলা সাহিত্যের বিচারেও তাঁর ‘পারশ্য প্রতিভা’ ও ‘মানুষের ধর্ম’ গ্রন্থ দুটি উল্লেখযোগ্য মননশীল রচনা হিসেবে বিবেচনার দাবি রাখে । এ দুটি গ্রন্থের জন্য তিনি বিভাগপূর্ব কালেই  সুধী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।  সেকালের হিন্দু-মুসলমান সম্পাদিত সকল প্রধান পত্রিকায় তাঁর গ্রন্থ দুটি উচ্চপ্রশংসিত হয় ।


সাহিত্যসেবাকেই তিনি জীবনের একমাত্র লক্ষ্য বা ব্রত করতে চেয়েছিলেন । পেশা হিসেবে বেছে নিতে চেয়েছিলেন শিক্ষকতা কিংবা সাংবাদিকতাকে । কিন্তু বাধ্য হয়ে তাঁকে সরকারি চাকরি গ্রহণ ও প্রশাসনিক সার্ভিসে যোগ দিতে হয় । এ প্রসঙ্গে পরে আত্মজীবনীতে দুঃখ করে লিখেছেন, ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১০০ টাকা বেতনে একজন সহকারী সম্পাদক নেওয়া হবে শুনে সে পদের জন্য তিনি আবেদন করেছিলেন, কিন্তু “কিছু হলো না । শুনলাম সম্পাদক ব্রাহ্ম হলেও তাঁর অফিসে মুসলমান নেওয়া হয় না ।” দেশ বিভাগের আগে ও পরে বিভিন্ন সময় মহকুমা ও জেলা প্রশাসক এবং শিক্ষা বিভাগের উপসচিবের দায়িত্ব পালন করেন । বাংলা একাডেমির গঠনপর্বে সরকার নিয়োজিত স্পেশাল অফিসার হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা, প্রতিষ্ঠা ও কার্যক্রম শুরুর ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন । সে অর্থে বলা যায় তিনিই ছিলেন একাডেমির প্রথম পরিচালক । পরে তিনি একাডেমির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন । তাঁর স্মৃতিতে প্রবর্তিত বাংলা একাডেমির এবারের সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন অধ্যাপক রফিক কায়সার ।

রফিক কায়সারকে আমরা চিনি আমাদের ছাত্রজীবন থেকে । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে আমরা যখন ভর্তি হই তখন তিনি খুব সম্ভব মাস্টার্স পরীক্ষার্থী । তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ পরিচয় তখনই। কিন্তু তার আগে থেকেই তাঁর নামটির সঙ্গে অল্পাধিক পরিচিত ছিলাম । বিভিন্ন পত্রপত্রিকা বিশেষ করে লিটল ম্যাগাজিনে তাঁর কিছু লেখা পাঠের সূত্রে । ওই তরুণ বয়সেই রফিক কায়সার তাঁর বিদ্যাবত্তা, রসবোধ, অনুসন্ধিৎসা এবং তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তির জন্য কেবল সমসাময়িকদেরই নয় — বয়োজ্যেষ্ঠ -বয়োকনিষ্ঠ নির্বিশেষে অনেকেরই মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হন । যাঁদের মধ্যে তাঁর অনেক শিক্ষক এবং দেশের জ্ঞানী-গুণী মানুষরাও ছিলেন । আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার অল্পদিনের মধ্যেই আবিষ্কার করলাম আমার বন্ধু মহলের অনেকেই তাঁর শিষ্যে পরিণত হয়েছে।  এ-সময় রফিক কায়সার তাঁর কমলকুমার অনুরাগের জন্য সুপরিচিত ছিলেন । বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিফ মিয়ার ক্যান্টিন কেন্দ্রিক তরুণ কবি-লেখকদের মধ্যে কমলকুমার প্রীতি সঞ্চারের ব্যাপারে তাঁর ভূমিকাই ছিল মনে হয় প্রধান বা সমধিক । সচেতন প্রয়াসে আমি নিজেকে তাঁর প্রভাব বলয়ের বাইরে রাখতে সমর্থ হলেও (ওই কমলকুমার উচ্ছ্বাসও যার একটা কারণ ছিল), তাঁর সঙ্গে আমার সৌহার্দ্যের সম্পর্কটা এতগুলো বছর পরও অটুট রয়ে গেছে । তাঁর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়া এবং তারপর ক্যাডেট কলেজ শিক্ষকতার শৃঙ্খলার মধ্যে পুরো কর্মজীবন কাটিয়ে দেওয়ার ফলে দেখাসাক্ষাতের সুযোগটা একেবারে কমে এলেও, ফোনে ও অন্যান্যভাবে যোগাযোগ ও মতবিনিময় অব্যাহত থেকেছে । তিনি চাকরি জীবন শেষ করে ঢাকায় আসার পর, কিংবা তার আগে ঢাকার বাইরে থাকতেও, যখন কোনো উপলক্ষে ঢাকায় এসেছেন, কোথাও দেখা ও আড্ডা হয়েছে । তিনিই আমাকে সাথে করে একবার পুরানো ঢাকায় আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের বাসায় নিয়ে গিয়েছিলেন।
আমাদের ছাত্রজীবনেই আমরা যখন ‘যুবরাজ’ নামে একটি সাহিত্যপত্রিকা বের করি, তখন সে পত্রিকার দ্বিতীয় সংখ্যায় তিনি আমাদের অনুরোধে কমলকুমার বিষয়ে একটি প্রবন্ধ লেখেন । তাঁর কমলকুমার চর্চা পরে ‘কমলপুরাণ’ নামে একটি বই প্রকাশের মধ্য দিয়ে পরিণতি লাভ করে । বাংলাদেশ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গেও বইটি কমলকুমার চর্চার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে সমাদৃত হয়েছে বলে জেনেছি । তাঁর ‘তিন পুরুষের রাজনীতি’ এবং ‘তোমার আকাশ তোমার বাতাস’ বই দুটিও আমাদের সমাজ-সংস্কৃতি, ইতিহাস ও রাজনীতি বোঝার ক্ষেত্রে খুবই মূল্যবান দুটি গ্রন্থ। এছাড়া তাঁর  আরও কটি প্রবন্ধগ্রন্থ ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।
আত্মপ্রচারের ঢক্কানিনাদ মুখর এই সময়ে ও সমাজে রফিক কায়সার বলা যায় লোকচক্ষুর অন্তরালে বসে, সাধকের নিষ্ঠায়, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নীরবে-নিভৃতে বিদ্যা ও মননচর্চার কাজটি করে চলেছেন । নতুন প্রজন্মের সাহিত্যকর্মী ও পাঠক অনেকে যারা হয়তো তাঁর রচনা বা নামের সঙ্গে পরিচিত, ব্যক্তি মানুষটিকে চেনেন না । বাংলা একাডেমি এমন একজন জ্ঞান সাধককে এবার মোহাম্মদ বরকতুল্লাহর নামাঙ্কিত পুরস্কারের জন্য নির্বাচন করে নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় কাজ করেছে । এজন্য  বাংলা একাডেমি এবং পুরস্কার কমিটির সদস্যদের ধন্যবাদ জানাই । যদিও ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, আরো বড় স্বীকৃতি তাঁর পাওনা ছিল ।
আমাদের যাদের কোনো না কোনোভাবে রফিক কায়সারের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ হয়েছে এবং সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা তাঁর অগণিত ছাত্র, সহকর্মী, ভক্ত-অনুরাগী — লেখালেখির বাইরেও — যাদের মধ্যে বিদ্যাচর্চার প্রতি আগ্রহ, বিচিত্র বিষয়ে কৌতূহল ও জিজ্ঞাসা প্রবৃত্তি সঞ্চারে তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অবদান রেখেছেন, তাঁর এই স্বীকৃতিতে আমরা আনন্দিত । তাঁকে অভিনন্দন । তাঁর দীর্ঘ পরমায়ু এবং অব্যাহত সক্রিয় ও সৃষ্টিশীল জীবন কামনা করি।

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

বিশ্বে করোনা ভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৫৩০,৮৯০
সুস্থ
৪৭৫,৫৬১
মৃত্যু
৭,৯৮১
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
৯৬,৭৪১,৮৫০
সুস্থ
৫৩,০৬৮,১০৩
মৃত্যু
২,০৭০,৮৩০

নামাজের সময়সূচীঃ

    Dhaka, Bangladesh
    শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২১
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৫:২৩
    সূর্যোদয়ভোর ৬:৪২
    যোহরদুপুর ১২:১০
    আছরবিকাল ৩:১৬
    মাগরিবসন্ধ্যা ৫:৩৮
    এশা রাত ৬:৫৭

স্বত্ব @২০২০ দেশ

সাইট ডিজাইনঃ টিম দেশ