1. ayanabirbd@gmail.com : deshadmin :
  2. hr.dailydeshh@gmail.com : Daily Desh : Daily Desh
শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১১:২৪ পূর্বাহ্ন

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাই বাসযোগ্য পৃথিবী

আতাহার খান    
  • আপডেট টাইম :: বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২০

জীবাশ্ম জ্বালানির প্রধান দুটি পদার্থ হল কয়লা আর ডিজেল। এই দুটি পদার্থের ব্যবহার এখন পৃথিবীতে সব থেকে বেশি। ফলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের নিঃসরণ বেড়ে গেছে ব্যাপকভাবে। এই কার্বন নিঃসরণ যদি কমিয়ে আনা না-যায় তাহলে ২০৫০ সালের মধ্যে বছরে এক বার করে ৩০ কোটি মানুষ বসবাসের বিশাল এলাকা সমুদ্রের পানিতে তলিয়ে যাবে।


এই অঞ্চলগুলোর মধ্যে আছে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বড় বড় শহর। দেড় শতাধিক দেশের ১১ হাজারের বেশি বিজ্ঞানী এই সতর্ক বাণী উল্ল্খে করে আরো জানিয়েছেন, পরিবেশপ্রশ্নে প্রচলিত পথ না-পাল্টালে মানব জাতির ওপর নেমে আসবে ভয়াবহ বিপর্যয়। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেসের মাসিক বিজ্ঞানবিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী নেচার কমিউনিকেশন-এর একটি সংখ্যায় প্রকাশিত এই খবর রীতিমত উদ্বেগজনক এবং বিশ্ববাসীর জন্য দুশ্চিন্তারও বটে!

আমরা জানি, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র তার নাম সরিয়ে নেয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের প্রধান পরাশক্তিকে বাইরে রেখে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি কিছুতেই সফল করা যাবে না। তবে সুখবর হল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটপ্রার্থী জো বাইডেন বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার পক্ষপাতী। ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট  নির্বাচনের আগে সর্বশেষ টেলিভিশন বিতর্কে তিনি সে কথাটাই মুখ-ফুসকে হঠাৎ বলে ফেলেছিলেন। বাইডেন বলেছিলেন, তিনি নির্বাচিত হলে তাঁর প্রশাসন জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসবে এবং সৌরশক্তি ও বাতাসে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের দিকে মনোযোগ দেবে। কথাটা বলবার পরই তাঁর বোধোদয় হয়, এটা এসময়ে বলা তাঁর ঠিক হয়নি। কারণ পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় দুই কোটি মানুষের রুজি-রুটি হুমকিকবলিত হয়ে পড়বে। তাই বাইডেন বিতর্ক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তিনি নির্বাচিত হলে তার প্রশাসন তেল-গ্যাসের ব্যবহার বন্ধ করবে না।

এখন সে-অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে। আশা করা যায়, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের ১৮৭টি দেশের সঙ্গে একমত হয়ে প্যারিসে যে-জলবায়ু চুক্তি করেছিল সেখানে সে আবার ফিরে আসবে। চুক্তিতে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়ন যুগের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলা ছিল। ভবিষ্যতে এই পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে রাখতে হলে জীবাশ্ম জ্বালানির ইচ্ছেমাফিক ব্যবহার থেকে প্রতিটি দেশকেই সরে আসতে হবে।

তাই প্রশ্ন উঠছে যে, যুক্তরাষ্ট্রকে বাইরে রেখে এ চুক্তির মূল উদ্দেশ্য কি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে? আমরা জানি, বৈশ্বিক উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ায় ধীরে ধীরে পাল্টে যাচ্ছে জলবায়ু, দক্ষিণ ও উত্তর মেরুর বরফ গলার পরিমাণও গেছে বেড়ে, এতে সমুদ্রের পানি দিন দিন বেড়ে উঠছে। তার ওপর আবার বহুগুণ বেশি দেখা দিয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এ সব কারণ চিহ্নিত করে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির হার বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় শিল্পোন্নত দেশগুলো মাত্রাতিরিক্তভাবে ব্যবহার করছে কয়লা, ডিজেল। এতে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের উদ্গীরণ বেড়ে গেছে ভয়াবহরকম। এই কার্বন-ডাই-অক্সাইডই পৃথিবীর গড় উষ্ণতা বাড়িয়ে দিয়েছে, পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে বায়ুমণ্ডলে অবস্থিত ওজোন স্তরকে।

আমরা জানি, পৃথিবীর চারদিক ঘিরে থাকা বায়ুমণ্ডল বেশকিছু গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত। এসব গ্যাস মশারির মতো পরম যত্নে ঘিরে রাখে এই পৃথিবীকে। হ্যাঁ, প্রশ্ন দেখা দিতে পারে, কোন কোন গ্যাসের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে বায়ুণ্ডেল? বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সেই গ্যাসগুলো হল অক্সিজেন, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন, হিলিয়াম, ওজোন ইত্যাদি। এ কথা স্বীকার না-করে উপায় নেই, জীব জগতের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে বায়ুমণ্ডলের গুরুত্ব সীমাহীন। কিন্তু দুশ্চিন্তার কারণ, পৃথিবীকে আবৃত করে থাকা বায়ুমণ্ডল দিন দিন তার স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলছে।

মানুষ তার কৃতকর্মের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল দিন দিন অনিরাপদ করে তুলছে। তারপরও পরিবেশ ও প্রকৃতিকে রক্ষার জন্য প্রাকৃতিকভাবেই কিছু রক্ষাবর্ম আছে। তার মধ্যে একটি ওজোন স্তর। বায়ুমণ্ডলে অবস্থিত ওজোন আবার দুটি স্তরে বিভক্ত। প্রথম স্তর ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০-১৬ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত, এই অংশকে বলা হয় ট্রপোস্ফিয়ার। সেখানে ১০ শতাংশ ওজোন বিরাজ করে। আর দ্বিতীয় স্তর ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার উচ্চতা থেকে শুরু করে ৫০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত, এই দ্বিতীয় অংশকে বলা হয় স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার।

সাধারণভাবে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের অংশটাই হল ওজোনস্তর। সেখানে ৯০ শতাংশ ওজোন বিরাজ করে। এই দ্বিতীয় স্তরটি ওজোন গ্যাস দিয়ে তৈরি এক ধরনের বিশেষ আচ্ছাদন, যাকে বলা হয় ছাকনি। এর মধ্য দিয়ে সূর্যের রশ্মি পরিশোধিত হয়ে পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়। ফলে ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা পেয়ে যাচ্ছে জীব জগৎ। তাই গুরুত্বপূর্ণ ওজোন স্তরকে রক্ষা করার পবিত্র দায়িত্ব আমাদেরই।

ওজোন গ্যাস যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে মানুষ, প্রাণী ও উদ্ভিদ জগতের শৃঙ্খলিত নিয়ম ভেঙে পড়বে। এলামেলো হয়ে যাবে সব কিছু। মানুষের ত্বকে ক্যান্সার, চোখে ছানি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস ইত্যাদি ঝুঁকি বেড়ে যায়। শ্বেতবর্ণের মানুষের ত্বকে ক্যান্সারের জন্য অতিবেগুনি রশ্মি দায়ী। সামুদ্রিক প্রাণিকুলও অতিবেগুনি রশ্মির কারণে মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হতে পারে। সে অবস্থা যদি সত্যই দেখা দেয়, তাহলে মানুষের জন্য প্রকট হয়ে উঠবে প্রটিন ঘাটতি। সামুদ্র থেকে আহরিত খাদ্যশৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।

সূূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধিতে বাধা দান করে। ফলে শস্যের উৎপাদন হ্রাস পায় এবং বনাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা জানি, উদ্ভিদ ও বন বাতাসের কার্বন ডাই অক্সাইড শোধন করে। যদি উদ্ভিদ ও বনাঞ্চল ছোট হয়ে আসে তবে বায়ুমণ্ডলের অতিরিক্ত কার্বন ডাই অক্সাইড বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ত্বরান্বিত করবে। আজ, আমরা আসলেই সেই মারাত্মক ঝুঁকির মুখোমুখি এসে পড়েছি।

(বাকি অংশ আগামী বৃহস্পতিবার)

 

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, দেশ, মুক্তিযোদ্ধা, কবি

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

বিশ্বে করোনা ভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৪৫৭,৩৬৪
সুস্থ
৩৭১,৭১৫
মৃত্যু
৬,৫১৬
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
৬০,৯৬৪,৮৬৪
সুস্থ
৩৯,০৬২,৩৫৩
মৃত্যু
১,৪৩১,৯৫৫

নামাজের সময়সূচীঃ

    Dhaka, Bangladesh
    শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৫:০২
    সূর্যোদয়ভোর ৬:২২
    যোহরদুপুর ১১:৪৬
    আছরবিকাল ২:৫০
    মাগরিবসন্ধ্যা ৫:১১
    এশা রাত ৬:৩০

স্বত্ব @২০২০ দেশ

সাইট ডিজাইনঃ টিম দেশ