1. ayanabirbd@gmail.com : deshadmin :
  2. hr.dailydeshh@gmail.com : Daily Desh : Daily Desh
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ০১:৩১ অপরাহ্ন

ভাড়ায় চালিত তেলভিত্তিক কেন্দ্রের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত

আর বাড়ছে না ব্যয়বহুল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ

সামিউল ইসলাম
  • আপডেট টাইম :: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২০

মানুষের আস্থা জয় করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ২০০৯ সালে যখন ক্ষমতায় আসে, তখন দেশে মাত্র সাড়ে চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো। এ সংকট কাটিয়ে দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন-২০১০’ প্রণয়ন করে সরকার


এ আইনের অধীনে কোনো দরপত্র ছাড়াই ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়। সেই থেকে চালু ব্যয়বহুল এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র এখনো চলছে। ফলে এ খাতে অনেক বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে। এ নিয়ে সরকারের বিস্তর সমালোচনাও হয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বরাবরই বলে আসছিলেন, গ্যাস ও তেলভিত্তিক ব্যয়বহুল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো যত দ্রুত সম্ভব বন্ধ করে দেওয়া উচিত। কারণ এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণেই বিদ্যুতের দাম দফায় দফায় বাড়ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আনতে সরকার ব্যর্থ, এমন সমালোচনাও করেছেন তারা।

সর্বশেষ, রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয়েরপথ থেকে বেরিয়ে আসতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার। সরকার বলছে, ভাড়াভিত্তিক আর কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানো হবে না। সেক্ষেত্রে আগামী ১০ বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০৩০ সালের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাবে বেসরকারি খাতের প্রায় ৪২০০ উৎপাদন সক্ষমতার ৪২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র তিন বছর থেকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের চুক্তিতে উৎপাদনে এলেও পরবর্তী সময়ে অধিকাংশেরই মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। অথচ সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী উৎপাদনে আসেনি বড় বড় সাশ্রয়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র।

পিডিবি বলছে, ইতোমধ্যে পায়রার ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে চলে এসেছে। পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে মাতারবাড়ী, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বড় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন শুরু হবে। ফলে ক্ষুদ্র বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ নেওয়ার কোনো দরকার হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা যায়, যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২১ সাল থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে; বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশে পিডিবি সেসব কেন্দ্রের তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে গ্যাস, ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলভিত্তিক ৪২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এগুলোর সঙ্গে আর মেয়াদ বাড়ানোর চুক্তি করতে চাইছে না পিডিবি।

তালিকায় ব্যক্তিমালিকানাধীন অর্থাৎ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট (আইপিপি) রয়েছে ১৯টি। এগুলোর মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৭৮৯ মেগাওয়াট। কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট রয়েছে ১১টি, মোট উৎপাদনক্ষমতা ৯৩০ মেগাওয়াট; ভাড়াভিত্তিক বা রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট (আরপিপি) ৮টি, উৎপাদনক্ষমতা ৩২১ মেগাওয়াট এবং সরকারি-বেসরকারি যৌথ মালিকানাধীন (এআইপিপি) পাওয়ার প্ল্যান্ট ৪টি; উৎপাদনক্ষমতা ৯৯ মেগাওয়াট।

আইপিপির মধ্যে গ্যাসচালিত ২১০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার আরপিসিএল কম্বাইন্ড সাইকল পাওয়ার প্ল্যান্টের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৯ সালের ১৮ জুলাই; ৩৬০ মেগাওয়াটের হরিপুর কম্বাইন্ড সাইকল পাওয়ার প্ল্যান্টের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর; ৪৫০ মেগাওয়াটের মেঘনাঘাট কম্বাইন্ড সাইকল পাওয়ার প্ল্যান্টের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর এবং ৫১ মেগাওয়াটের আশুগঞ্জ মিডল্যান্ড পাওয়ার প্ল্যান্টের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৮ সালের ৬ ডিসেম্বর। গ্যাসভিত্তিক আরও যেসব কেন্দ্র রয়েছে, সেগুলো হচ্ছে; আশুগঞ্জ মডিউলার ১৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেয়াদ ২০৩০ সালের ৭ মে পর্যন্ত; ঘোড়াশালের (রিজেন্ট) ১০৮ মেগাওয়াটের মেয়াদ ২০২৯ সালের ১৫ জুলাই পর্যন্ত এবং মালঞ্চ চিটাগংয়ের মেয়াদ রয়েছে ২০২১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

গ্যাসভিত্তিক স্মল আইপিপির মধ্যে রয়েছে; রিজেন্টের বাড়বকুণ্ড ২২ মেগাওয়াট, ডরিন পাওয়ারের ফেনী ২২ মেগাওয়াট, সামিটের জাঙ্গালিয়া ৩৩ মেগাওয়াট ও ডরিনের টঙ্গী ২২ মেগাওয়াট। এগুলোর মেয়াদ আছে ২০২৪ সাল পর্যন্ত।

জ্বালানি হিসেবে ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে; রাজলঙ্কা ৫২ মেগাওয়াট, বারাকাতুল্লা পাওয়ারের পতেঙ্গা ৫০ মেগাওয়াট, অরিয়নের গঙ্গানগর ৫০ মেগাওয়াট, জাঙ্গালিয়া ৫২ মেগাওয়াট, চিটাগং (ইসিপিভি) ১০৮ মেগাওয়াট ও কাঠপট্টি ৫১ মেগাওয়াট।

২০২১ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে মেয়াদ শেষ হবে এমন ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে; দাউদকান্দি ২০০ মেগাওয়াট, বাংলা ট্রাকের নোয়াপাড়া ১০০ মেগাওয়াট, এগ্রিকোর ব্রাহ্মণনগর ১০০ মেগাওয়াট, এগ্রিকোর আওয়াহাটি ১০০ মেগাওয়াট, কেরানীগঞ্জে এপিআর এনার্জির ৩০০ মেগাওয়াট, প্রামাউন্টের বাঘাবাড়ী ২০০ মেগাওয়াট।

রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের মধ্যে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ৮টি, যেগুলোর মেয়াদ শেষ হবে আসছে নভেম্বর মাস থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে। এগুলো হলো; এনার্জি প্রিমিয়ার বগুড়া ২০ মেগাওয়াট, প্রিসিশনের আশুগঞ্জ ৫৫ মেগাওয়াট, এনার্জি প্রিমিয়ারের ফেঞ্চুগঞ্জ ৪৪ মেগাওয়াট, বগুড়া ২২ মেগাওয়াট, বারাকাতুল্লার ফেঞ্চুগঞ্জ ৫১ মেগাওয়াট, শাহজীবাজার ৮৬ মেগাওয়াট এবং দেশ এনার্জির সিলেট ১০ মেগাওয়াট।

কুইক রেন্টালভিত্তিক ১১টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অধিকাংশেরই মেয়াদ শেষ হবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে; ঘোড়াশাল ৭৮.৫ মেগাওয়াট এবং এগ্রিকোর ভোলা ৯৫ মেগাওয়াট। এ দুটির জ্বালানি হিসেবে গ্যাস ব্যবহার করা হয়।

এ ছাড়া ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে; সামিটের মদনগঞ্জ ১০২ মেগাওয়াট, মেঘনাঘাট আইইএল ১০০ মেগাওয়াট, সিদ্ধিরগঞ্জ (ডাচ্-বাংলা) ১০০ মেগাওয়াট, কেরানীগঞ্জ ১০০ মেগাওয়াট, খানজাহান আলীর নোয়াপাড়া ৪০ মেগাওয়াট, কেপিসিএল খুলনার ১১৫ মেগাওয়াট, আমুরা ৫০ মেগাওয়াট, নর্দান কোম্পানির কাটাখালী ৫০ মেগাওয়াট এবং একর্ন পাওয়ারের জুলদা ১০০ মেগাওয়াট।

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

বিশ্বে করোনা ভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৪০৬,৩৬৪
সুস্থ
৩২২,৭০৩
মৃত্যু
৫,৯০৫
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
৪৫,৫৭৬,৯৯০
সুস্থ
৩০,৫৩৮,১৯৪
মৃত্যু
১,১৮৮,৭৮৭

নামাজের সময়সূচীঃ

    Dhaka, Bangladesh
    শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২০
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৪:৪৭
    সূর্যোদয়ভোর ৬:০৪
    যোহরদুপুর ১১:৪২
    আছরবিকাল ২:৫৬
    মাগরিবসন্ধ্যা ৫:২০
    এশা রাত ৬:৩৭

স্বত্ব @২০২০ দেশ

সাইট ডিজাইনঃ টিম দেশ