1. ayanabirbd@gmail.com : deshadmin :
  2. hr.dailydeshh@gmail.com : Daily Desh : Daily Desh
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ১২:১৪ অপরাহ্ন

হেলাল হাফিজ রূপকথা

শারফিন শাহ
  • আপডেট টাইম :: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২০

তার নিজস্ব ঘর নেই। প্রেসক্লাবই তার ঘর। সকাল থেকে রাত অবধি সেখানেই ডুবে থাকা। কখনো ভক্তদের সঙ্গে আড্ডায় মুখর হওয়া আর নির্মোহ ভালোবাসায় সিক্ত হওয়া। কিন্তু হঠাৎই করোনা এসে তার পৃথিবী বদলে দিয়েছে। করোনা হানা দিতেই তার ভাই গাড়ি পাঠিয়ে তাকে বাসায় নিয়ে গেছেন। এখন সেখানেই কাটছে তার দিনরাত্রি।


বলছি কবি হেলাল হাফিজের কথা। গত মার্চ মাসে তার সাথে শেষ দেখা প্রেসক্লাবে। দীর্ঘ আলাপে জমে ওঠেছিল আমাদের বন্ধুত্ব। সেই বন্ধুত্ব থেকেই তার জীবনের নানা ঘটনার কথা জানিয়েছেন সানন্দে। সবকিছু শুনে মনে হয়েছে, আমরা কবির কবিতা পড়ে মোহিত হই, কিন্তু প্রতিটি কবিতার অন্তরালে লুকিয়ে থাকে অনিন্দ্য কোনো রূপকথা!
কবিকে ফোন দিতেই পাওয়া গেল। ওপাশ থেকে বললেন, হ্যাঁ, তোমাকে চিনতে পেরেছি। সাক্ষাৎকার নিয়েছিলে। কেমন আছ?
—ভীষণ ভালো। তবে পৃথিবীর অসুখে কিছুটা মন খারাপ!
—তা তো হবেই। আসলে আমাদের সবারই মন খারাপ। তবু করোনাকাল আমাদের কাছে নতুন বার্তা নিয়ে এসেছে। এরপরও আমরা যদি মানুষের সাথে বৈষম্য করি তবে আমাদের ধ্বংস অনিবার্য!
—আপনি তো বেশ সুখে আছেন মনে হয়!
—তা বলতে পার। ঘরের বাইরে সারা জীবন কাটিয়েছি। সেই ১৯৬৭ সালে নেত্রকোনা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এলাম। আব্বার সঙ্গে ঝগড়া করে। আব্বা চাইলেন আমি মেডিকেল পড়ি, আমি তো বাংলায় ভর্তি হয়ে গেলাম। এরপর ঈদে হল বন্ধ হলে বাড়িতে যাওয়া হতো। ইউনিভার্সিটি ছাড়ার পর তো প্রেসক্লাবেই কাটল ঈদ। নেত্রকোনায় আমাদের বাড়িটা আর না থাকায় যাওয়া হয়নি। তবে গত রোজার ঈদ, কোরবানির ঈদ ভাইয়ের বাসায় করেছি। করোনা না এলে এভাবে ঘরোয়া ঈদযাপন সম্ভব হতো না। জীবনের শেষে এসে মনে হচ্ছে, নাতি-নাতনি ও ভাইয়ের সঙ্গে থেকে আমার আয়ু বেড়ে যাচ্ছে!
—বাহ! বেশ ভালোই আছেন তবে। লেখালেখিও করছেন বেশ। আপনার কাপলেটগুলো ভাইরাল হচ্ছে। নতুন কবিতার বই ও আত্মজীবনীও লিখছেন বলে জানতে পারলাম। আর সম্প্রতি এক লেখায় বলেছেন, আপনি এই বয়সে এসে আবার প্রেমে পড়েছেন!
—হ্যাঁ, এক মাঝবয়সী রূপসী মহিলার প্রেমে পড়েছি আমি। এটাকে আবার খারাপ অর্থে নিওনা। এই বয়সে জৈবিক কারণে আমরা প্রেমে পড়িনি। আমি তার প্রেমে পড়েছি জ্ঞানচর্চা ও পড়ার বৈভবের কারণে। অনেক সুন্দরী, স্মার্ট ভক্ত আমার আছে। তবে এই নারীর ভেতর এমনকিছু আছে যা আমাকে তার প্রেমে পড়তে বাধ্য করেছে! রবীন্দ্রনাথের গল্পে আছে না, ‘আমি পাইলাম, ইহাকে পাইলাম’—সেই রকম আর কি!
—তার মানে আপনি আপনার আর প্রেমিকাদের ভুলে গেলেন!
—আর প্রেমিকাদের ভুলে যাওয়া তো সম্ভব নয়। তবে আমি যাদের প্রেমে পড়েছি তারা সবাই যে আমার কবিতাকে বুঝতে পেরেছে তা নয়। নিতান্ত জৈবিক কারণে ওদের সঙ্গে মিশেছি। এই মেয়েটি আমার কবিতা চমৎকার  বুঝে। আমি প্রতিবার মুগ্ধ হই আর তার প্রেমে পড়ি! এমনকি হেলেন, যে মেয়েটির জন্যে আমার এই বোহেমিয়ান জীবন সেও কিন্তু আমার কবিতা এই মেয়েটির মতো বুঝতো না! বুঝলে তো আর আরেকজনকে বিয়ে করতো না!
—তাহলে নতুন প্রেমে নতুন জীবন পেয়েছেন বলা যায়!
—হ্যাঁ, তা ঠিক। তবে আরও কিছু কারণে আমি খুব আনন্দে আছি। এক সাংবাদিক আমার কোন এক সাক্ষাৎকারে ফোন নেই জেনে এই দুর্যোগে আমার জন্যে ফোন কিনে পাঠিয়েছেন!—ভাবতে পারো! এরকম ভালোবাসায় আমি সারাজীবন অত্যাচারিত হয়েছি। ভালোবাসার অবিরাম অত্যাচারে আমি বড় বিব্রত হয়ে পড়ি! আজকাল তো ভালোবাসা নেই বলেই এত দুর্যোগ, মানুষ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন। কেবল অকারণ সন্দেহ! আর এ থেকেই জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠেছে! মানুষের কাছে আসা, কথা বলা, ভাব বিনিময় সমাজকে সুন্দর করে, সারাক্ষণ ফেসবুক নিয়ে থাকলে তো আর বন্ধুত্বের স্পর্শ আসেনা। আত্মীয়রাও এখন আত্মীয়র বাড়ি বেড়াতে যায়না! এতোটাই ভালোবাসাহীন হয়ে পড়েছি আমরা। কেবল অন্ধের মতো ছুটছি আর ছুটছি! আমার সৌভাগ্য যে, জীবনের গভীর সংকটকালেও ভালোবাসা পেয়েছি, আজও পাচ্ছি!
—তাহলে এই বিষণ্ণতার কালেও আপনার জীবনে মন্দা আসেনি!
—না, আমার সব বিষণ্ণতা, অস্থিরতা দূর করে দিয়েছে আমার নতুন প্রেম! আমি বড় আনন্দে আছি!
কবি যে সত্যিই আনন্দে আছেন তা তার কথায় সুষ্পট। বেঁচে থাকলে, একটি তৃণখন্ডের মতো বেঁচে থাকলেও জীবন কখনো হাতে তুলে দেয় সোনার আশ্চর্য প্রতিমা! যেমন হেলাল হাফিজ জীবনের শেষবেলায় খুঁজে পেয়েছেন তার আজন্মলালিত প্রেমকে!
আমি সসংকোচে জিজ্ঞেস করলাম—আপনার কি ইচ্ছে করে নতুনভাবে নতুন প্রেমিকাকে নিয়ে নতুন ঘরে ফিরতে?
তিনি সহাস্যে বললেন—তা আর হয় কি! তবে মনে হয়, এমন মেয়ে যৌবনে পেলে আমারও ঘর হতো! আমি প্রতিদিন ঘরে ফিরতাম! ঘরের মানুষদের ভালোবাসায় সিক্ত হতাম!
কবির কথায় মনে হলো—আর কিছু নয়, মানুষের কাছে ঘরই সব। দিনশেষে সবাই ঘরেই ফিরতে চায়! ঘর ও ঘরের মানুষগুলোই মানুষকে আগলে রাখে, পরম মমতায় ডুবিয়ে রাখে! ঘর হারালেই যেন মানুষের মৃত্যু আসে!
বাঁচার স্বার্থে কবিও তাই ঘরে ফিরেছেন। তিনি এখন তার ভাইয়ের বাসায় আনন্দঘন এক জীবন পেয়েছেন। নতুন প্রেমে মজে প্রতি মুহূর্তে তার জীবনের দৈর্ঘ্য বেড়ে যাচ্ছে!
প্রিয় কবি, আপনার জীবনের দৈর্ঘ্য বাড়তেই থাকুক! বাড়তে বাড়তে শতায়ু হোক!

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

নামাজের সময়সূচীঃ

    Dhaka, Bangladesh
    মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২০
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৪:৪২
    সূর্যোদয়ভোর ৫:৫৮
    যোহরদুপুর ১১:৪৩
    আছরবিকাল ৩:০১
    মাগরিবসন্ধ্যা ৫:২৮
    এশা রাত ৬:৪৪

@ স্বত্ত দৈনিক দেশ, ২০১৯-২০২০

সাইট ডিজাইনঃ টিম দেশ