1. ayanabirbd@gmail.com : deshadmin :
  2. hr.dailydeshh@gmail.com : Daily Desh : Daily Desh
শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন

হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী: চিরস্মরণীয় একজন

অপূর্ব শর্মা
  • আপডেট টাইম :: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০

সিলেটবাসী চিরদিন যাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে তাদেরমধ্যে অন্যতম একজন হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী। তাঁকে আধুুনিক সিলেটের রূপকার বললে অত্যুক্তি হবে না। সিলেটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযাত্রায় তিনি ছিলেন অগ্রপথিক। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামেও তাঁর অবদান অতূলনীয়। দেশ গড়ায় এবং দেশের অগ্রতিতেও হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীর অবদান কোনো অংশেই কম নয়।


১৯২৮ সালের ১১ নভেম্বর হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতা আব্দুর রশীদ চৌধুরী এবং মাতা সিরাজুন্নেসা চৌধুরী। তারা দুজনেই ছিলেন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ। জনকল্যানমুখি রাজনীতি ছিল তাদের মর্মমূলে। অসাম্প্রদায়িক চেতনা লালনকারী এই দম্পতির মতো হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীর জীবনের পুরোটাই সাফল্যে ভরপুর। ব্যর্থতা ছিলোনা তার জীবন অভিধানে।
হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী ১৯৪৪ সালে ৮টি ক্রেডিটসহ সিনিয়র ক্যামব্রিজ পাশ করেন। উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য ভর্তি হন ভারতের আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে ১৯৪৭ সালে মৃত্তিকা বিজ্ঞান, রসায়ন ও ভূগোল বিষয় নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি ইংলিশ বার-এ আইন শাস্ত্র অধ্যয়ন শুরু করেন এবং লন্ডনস্থ ইনার টেম্পোলের সদস্য হন। তিনি লন্ডনে ইন্সটিটিউট অব ওয়াল্ড এফেয়ার্স থেকে লাভ করেন আন্তর্জাতিক বিষয়ে ডিপ্লোমা। ছাত্ররাজনীতির সাথেও সম্পৃক্ত হন ছিলেন তিনি। ১৯৫১ সালে যুক্তরাজ্যস্থ পাকিস্তান ছাত্র ফেডারেশনের সম্পাদক এবং ১৯৫২ সালে এই সংঘটনের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।
১৯৫৩ সালে হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসে যোগদান করেন। অত্যন্ত দক্ষতা এবং সততার সাথে পাকিস্থান ফরেন সার্ভিসে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু বাঙালিদের উপর পাক সরকারের দমন নিপীড়ন দেখে ব্যথাতুর হয়ে উঠে তাঁর হৃদয়। পূর্ববাংলার অর্থনৈতিক বঞ্চনায় ক্ষুব্ধ হতে থাকে তাঁর সত্তা। বাঙালিরা যখন পাক সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু করে তখন তাতে মৌন সমর্থন দেন তিনি। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে পাকহানাদার বাহিনী। বাঙালি নিধনযজ্ঞ দেখে তাৎক্ষনিকভাবে পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসের চাকুরি ছেড়ে মুক্তিসংগ্রামে যোগ দেন হুমায়ূন রশীদ। নতুন দিল্লীস্থ বাংলাদেশ মিশনের প্রধানের দায়িত্ব গ্রহন করেন। বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে শুরু করেন আলোচনা। তাঁর সফল কুটনৈতিক তৎপরতায় ভারত ও ভুটান চূড়ান্ত বিজয় লাভের পূর্বেই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে ভারতের সংসদে এক যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেয়ার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি। বাংলাদেশের সহায়তা সংক্রান্ত প্রথম চুক্তির ব্যাপারেও আলোচনা করেন হুমায়ূন রশীদ।
দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। স্বাধীনতা অর্জনের পর তিনি আত্মনিয়োগ করেন দেশ পুনর্গঠনে। ১৯৭২ সালে তাঁকে জার্মানীতে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। এসময় তিনি বাংলাদেশের জন্য প্রথম জার্মান অর্থনৈতিক সহায়তার ব্যাপারে ফলপ্রসু আলোচনা চালান। একই সাথে তিনি সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া হলিসী’র রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থা (আই.এ.ই.এ) এবং জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক উন্নয়ণ সংস্থায় (ইউনেস্কো) বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন। এই দুটি সংস্থার স্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্বপালনের সময় তাকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। কারন যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের অগ্রগতিতে দাতাদের সাহায্য সহযোগিতা আদায়ে দূরদর্শীতার সাথে তাকে নানা পদক্ষেপ গ্রহন করতে হয়েছিল।
বঙ্গবন্ধুর সাথে হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীর খুবই ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিলো। বঙ্গবন্ধুর প্রিয়পাত্রদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন হুমায়ূন রশীদ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হলে তার দুই কন্যাকে আশ্রয় দিতে তিনি কুন্ঠা বোধ করেননি। এ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য ছিলোÑ ‘‘আমি শেখ মুজিবুর রহমানের মেয়েদের আশ্রয় দিয়েছি। এটা আমার কর্তব্য। এর জন্য আমি ভীত নই। বিপদেই তো মানুষ মানুষকে সাহায্য করে। এটাই তো মানবিকতা।’’
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যখন সপরিবারে হত্যা করা হয়, তখন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ছিলেন বেলজিয়ামে। দেশে না থাকায় বেঁচে যান তারা। তবে জীবন সংশয় ছিল দেশের বাইরেও। ওই সময় ঝুঁকি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়েকে জার্মানিতে (তখনকার পশ্চিম জার্মানি) আশ্রয় দেন। ’৭৫ সালে  তিনি সেখানকার রাষ্ট্রদূত ছিলেন। শুধু তাই নয়, তাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ভারতে পাঠানোর ব্যবস্থাও করেন তিনি। ১৬ আগস্ট ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। ইন্দিরা গান্ধীকে তিনি টেলিফোন করে বলেনÑ‘আপনি তো সব কিছু জানেন ম্যাডাম। ইন্দিরা গান্ধীর জবাব ছিল, হুমায়ূন, তুমি শীঘ্রই ওদের পাঠিয়ে দাও আমার কাছে। ইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের ব্যবস্থাপনায় হাসিনা ও রেহানা যান নয়া দিল্লীতে।
শেখ হাসিনা ও রেহানাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীকে বিড়ম্বনার সম্মোখিন হতে হয়। সংকটে পড়ে তার জীবন। খন্দকার  মোশতাক আহমেদ একটি মার্ডার লিস্ট তৈরী করেছিলো তাতে পাঁচ নম্বরে নাম ছিলো হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীর। তাকে রিকল করে দেশে এনে মেরে ফেলার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নানা পটপরিবর্তনের কারনে পরিস্থিতি সেদিকে ধাবিত হয়নি। তারপর, ওএসডি করে তাকে দেশে নিয়ে আসা হয়। ১১ মাস ওএসডি ছিলেন।
সবকিছু হটাৎ করেই উলট-পালট হয়ে গেল। কি করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না। তাকে যখন সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত করা হলো তখন তিনি সিদ্ধান্ত নেন প্রজাতন্ত্রের একজন হিসেবে নিজ দায়িত্ব পালন করে যাবেন। সেই উদ্দেশ্যে সফলও হন। বাংলাদেশের জন্যে সৌদি অর্থনৈতিক সহায়তা অর্জনে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করে সৌদি সহায়তাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যান, যার ফলে বাংলাদেশের প্রধানতম দাতাদেশ হিসেবে সৌদি আবির্ভূত হয়। সৌদি আরবে বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশী শ্রমিক পাঠানোর উদ্যোক্তাও তিনি।
১৯৮১ সালে তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। একই সাথে মেক্সিকো, কলাম্বিয়া ও ইকুয়েডরের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও ছিলো তাঁর উপর। তিনি কলাম্বিয়া ও ইকুয়েডরের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক রপ্তানীর ক্ষেত্রেও উদ্যোগ গ্রহন করেন। এর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশে পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠার পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
১৯৮৪ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতির পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা নিযুক্ত হন। ১৯৮৫ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন।
হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী সিলেট-১ আসন থেকে ১৯৮৬ সালে তৃতীয় জাতীয় সংসদের এবং ১৯৮৮ সালে চতুর্থ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। সে সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সিলেট-১ আসন থেকে তৃতীয় বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৩৯তম অধিবেশনে তিনি বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। এ সময় সাধারণ পরিষদের বেশ কটি অধিবেশনে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে সভাপতিত্ব করেন। ওআইসির চতুর্দশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনে চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি জাতিসংঘের ৩৯তম নিয়মিত অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সমন্বয় সভায় সভাপতিত্ব করেন তিনি। হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘের ৪১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহন করেন ১৯৮৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর। ইউএনজি-এ সভাপতি হিসেবে তিনি জাতিসংঘ প্রশাসন ও বাজেট সংস্কারক বিষয়ে সর্বসম্মত প্রস্তাব গ্রহণের পদক্ষেপ নেন।
স্বীয় কর্মকান্ডের জন্য তিনি বহুবার সম্মানিত হয়েছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে। ১৯৮৬ সালের আন্তর্জাতিক শান্তিবর্ষ উদযাপনে তাঁর ভূমিকার স্বীকৃতি স্বরূপ জাতিসংঘ মহাসচিব তাঁকে জাতিসংঘ শান্তি পদক দিয়ে সম্মানিত করেন। ১৯৮৭ সালে ফিলিপাইনের মিন্দানাও স্টেট ইউনিভার্সিটি তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার উইলিয়াম এন্ড মেরি কলেজের দেয়া মহাত্মা গান্ধী শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন।
তিনি ছিলেন নিখাদ সিলেটপ্রেমি। সিলেটের উন্নয়নে ছিলেন উদার ও আন্তরিক। নাম কামাই বা বাহবা পাওয়ার জন্য তিনি উন্নয়ন করতেন না। তার উন্নয়ন ছিলো, জনমানুষের স্বার্থে। অবহেলিত, নিপীড়িত মানুষের উন্নতি এবং তাদেরকে উন্নয়নের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করাই ছিলো তাঁর লক্ষ্য। মানুষের দুর্ভোগ যাতে লাঘব হয় সেই প্রচেষ্টাই তিনি চালিয়েছেন নিরন্তর। সিলেটের সামগ্রীক উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা অতূলনীয়। সিলেটে এমন প্রতিষ্ঠান খুব কমই আছে যেখানে তিনি যাননি বা যেখানে তার তত্বাবধানে পৌছেনি সরকারী সহায়তা। সিলেটের আধুনিকায়নে তিনি কতটা আন্তরিক ছিলেন তা অনুধাবন করা যায় কমনওয়েলথ জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি হাসান শাহারিয়ারের বক্তব্যে। হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী একবার ইসলামী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনে প্রতিনিধি দলের সদস্য করেন হাসান শাহারিয়ারকে। সে সময় ইয়ামেনে যাওয়ার পথে জেদ্দায় কয়েকদিনের যাত্রাবিরতি ছিলো। সে সময় হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী সিদ্ধান্ত নেন পবিত্র উমরাহ পালনের। যাবার পথে কথা প্রসঙ্গে হাসান শাহারিয়ারকে তিনি বলেন, ‘কুয়েত থেকে একটা বিশেষ তহবিল এসেছে। আমি চেষ্টা করছি এই তহবিলটি যাতে সিলেট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ব্যয় হয়। তিনি বললেনÑ‘আল্লাহর ঘরে গিয়ে তুমি দোয়া কর যাতে এই তহবিলটি আমি সিলেট বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ করাতে পারি’। হাসান শাহারিয়ার বলেন, আমি তাঁর কথায় সায় দিলাম এবং সত্যি সত্যি দোয়াও করলাম। কিন্তু আমার মনে একটি প্রশ্ন থেকে গেলো। সবাই মহান আল্লাহর ঘরে অর্থাৎ কাবা শরিফ যায় নিজের সমস্যা নিয়ে। মহান আল্লাহর কাছে মোনাজাত করে নিজের জন্য, নিজের পরিবার-পরিজনের জন্য; ক্ষমা চায় অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য। কিন্তু এমন লোক তো আমি দেখিনি যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ প্রাপ্তির জন্য আল্লাহর দরবারে হাত তুলেছেন। আল্লাহ তাঁর মোনাজাত কবুল করেছিলেন। সিলেটে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় হুমায়ূন রশীদের অবদান ছিলো অপরিসীম।’’
১৯৯৬-২০০১ সালে তিনি জাতীয় সংসদের স্পীকারের দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় হুমায়ুন রশীদ  চৌধুরীর নেতৃত্বে সিলেটে ব্যাপক উন্নয়ন হয়। সিলেটকে পূর্ণাঙ্গ বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া, সিলেট শিক্ষা বোর্ড, সিলেট টিচার্স ট্রেনিং কলেজ প্রতিষ্ঠা, আধুনিক রেলওয়ে স্টেশন নির্মাণ, সিলেট ওসমানী বিমান বন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে রূপান্তরিতকরণ, বন্ধ হয়ে যাওয়া সিলেটের টেক্সটাইল মিল পুনরায় চালু, অবহেলিত কোম্পানীগঞ্জের সাথে সিলেটের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে সালুটিকর, কাটাখাল ব্রীজ ও রাস্তা নির্মাণ, সদর উপজেলার টুকেরবাজারে সুরমা নদীর উপর শাহজালাল ব্রীজ-৩, বাদাঘাট সিংগারখাল নদীর উপর বাদাঘাট ব্রীজ নির্মাণসহ সিলেট নগরী ও নগরীর বাইরে অসংখ্য ব্রীজ-কালভার্ট নির্মান, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণসহ এ অঞ্চলের বৈপ্লবিক উন্নয়ন সাধিত হয় তার তত্বাবধানে। সিলেটের সুরমা নদীর উপর একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মানের পরিকল্পনা ছিলো হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীর। এছাড়া সে সময় তার ঐকান্তিকতায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে চার লেনে রূপান্তরিত করার একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে সেই প্রকল্পকে চার লেনের পরিবর্তে দুই লেন করা হয়।
অবহেলিত কোম্পানীগঞ্জবাসীর সুঃখ-দুঃখে একজন সত্যিকারের অভিভাবক হিসেবে আবির্ভূত হন তিনি। এই উপজেলাকে উন্নত করতে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালান তিনি। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় যুগান্তকারী উন্নয়ন হয় কোম্পানীগঞ্জে। এই উপজেলাকে তিনি পর্যটন উপজেলায় রূপান্তর করতে চেয়েছিলেন। সেই লক্ষ্যে কাজও করে যাচ্ছিলেন।
বাংলা, ইংরেজি, উর্দু, হিন্দু ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারতেন তিনি। দখল ছিলো স্পেনিস, ইটালিয়ান, ফরাসি, জার্মান, আরবিসহ নানা ভাষায়। কিন্তু ২০০১ সালের ১০ জুলাই তাঁর মুখের ভাষা স্তব্ধ হয়ে যায়। ৭২ বছর বয়সে তিনি পাড়ি জমান না ফেরার দেশে।
লেখকঃ নির্বাহী সম্পাদক দৈনিক যুগভেরী, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

বিশ্বে করোনা ভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৪৭৩,৯৯১
সুস্থ
৩৯০,৯৫১
মৃত্যু
৬,৭৭২
সূত্র: আইইডিসিআর

বিশ্বে

আক্রান্ত
৬৪,৫২০,৩৫০
সুস্থ
৪১,৪৮৮,৪০৬
মৃত্যু
১,৪৯৩,৬২৪

নামাজের সময়সূচীঃ

    Dhaka, Bangladesh
    শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৫:০৭
    সূর্যোদয়ভোর ৬:২৭
    যোহরদুপুর ১১:৪৯
    আছরবিকাল ২:৫১
    মাগরিবসন্ধ্যা ৫:১১
    এশা রাত ৬:৩২

স্বত্ব @২০২০ দেশ

সাইট ডিজাইনঃ টিম দেশ