1. ayanabirbd@gmail.com : deshadmin :
  2. hr.dailydeshh@gmail.com : Daily Desh : Daily Desh
  3. Khulnabureaudesh@gmail.com : Khulna bureau : Khulna bureau
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২০, ০১:৩৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
আখাউড়ায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা’র ৯০ তম জন্মবার্ষিকী পালিত লাইসেন্স নবায়ন না থাকলে সেসব বেসরকারি হাসপাতাল বন্ধ করে দেবে সরকার সড়কে রক্তের দাগ শুকাচ্ছেই না, বেপরোয়া বাস কেড়ে নিলো আরো ৭ প্রাণ অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে সিলেট বিমানবন্দর-বাদাঘাট চার লেন সড়ক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কারিকুলাম যুগোপযোগী করতে হবে: কৃষিমন্ত্রী আখাউড়ার খড়মপুর কল্লা শহীদ (রহঃ)সপ্তাহব্যাপী বার্ষিক ওরশ উদযাপিত হবেনা ইসলামপুর বোগদাদিয়া ব্রীজে ভাঙ্গন: হুমকির মুখে লবণ শিল্প মাটিরাঙ্গায় বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকীতে সেলাই মেশিন বিতরণ ‘মুজিব কর্নার’ স্থাপন করা হবে ডিএনসিসির কমিউনিটি সেন্টারেঃ মেয়র আতিকুল বরগুনায় বঙ্গমাতার জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সেলাই মেশিন হস্তান্তর

হুমায়ূন আহমেদ; কিছু স্মৃতি

শাহরিয়ার বিপ্লব
  • আপডেট টাইম :: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২০

১৯৯৯সাল। আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়। সামনে ইলেকশন।  হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে  সিলেট। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি হলের নামকরণ করা হয়েছে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নামে। বিএনপি-জামাত সহ কয়েকটি দল তা মানছেনা। এ নিয়ে সিলেটে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে তারা। সমমনা সব  দল নিয়ে পথে নেমেছে। সিলেট জুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল আন্দোলন। এক পর্যায়ে আন্দোলন রূপ নেয় সহিংসতায়। একদিকে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক কর্মীরা  অন্যদিকে নামকরণ বিরোধী বিএনপি-জামায়াত বিশাল জোট।  দু’পক্ষই মাঠে মুখোমুখি। দফায় দফায় চলে সংঘর্ষ। গুলি, বোমাবাজি। জালাওপুড়াও।


বিরোধী দলের  এ আন্দোলনে বৃহত্তর সিলেট জুড়েই অস্থিরতা। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রগতিশীল শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মৃত্যুপরোয়ানা সহ নানাধরণের হুমকি ভয়ভীতি দেখাচ্ছে একটি গ্রুপ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং শিক্ষক সমাজের একটা বড় অংশ ভয়ের মধ্যে আছেন। প্রকাশ্যে অনেকে ক্যাম্পাসের বাইরে আসতে পারতেন না।

সেই রকম একটা অস্থির সময়ে হুমায়ুন আহমেদ ঘোষনা দিলেন নামকরণের পক্ষে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিরাপত্তার দাবীতে তিনি তাঁর পরিবারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুল ফটকে সারাদিন ব্যাপী অনশন করবেন।
এই ঘোষনায় সিলেট শহর আরো অশান্ত হলো। বিরোধী দল ঘোষণা দিলো হুমায়ুন আহমেদকে সিলেটে আসতে দিবে না। কিন্তু হুমায়ুন আহমেদ অবিচল।  মারা গেলেও তিনি আসবেন এবং পরিবার নিয়েই মারা যাবেন।
আওয়ামী লীগের তখনকার অনেক নেতাই চাইছিলেন হুমায়ুন আহমেদ না আসলে সিলেটের ঝামেলা এড়ানো যায়। অনেকে প্রস্তাবও দিয়েছিলেন আপনি ঢাকায় বসে অনশন করুন। আন্তর্জাতিক ভাবে হাইলাইট হবেন। তিনি বলেছিলেন আমি হাইলাইট হবার জন্যে যাচ্ছি না। সিলেটবাসির সাথে আমার একাত্মতা,  আর তারা যে প্রতিবাদটি করার কথা সেটাই আমি করতে চাই।
পরে শুনলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন উনি যদি যেতে চান উনাকে যেন সবরকমের নিরাপত্তা দেয়া হয়।
সিলেট জেলার পুলিশ তখন খুব টেনশনে।
উনার জন্যে তিন লেয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হলো। আউটার কর্ডন, ইনার প্রটেকশন এবং সাদা পোশাক।
ইনার প্রটেকশনে কেউ যেতে চাচ্ছে না। কারন বোমা বা গুলি করার হুমকি ছিলো। যারা নরমালি প্রটেকশনে থাকে তারা অনেকেই সিক করলো।
এসপি সাহেব আমাকে ডেকে বললেন, অন্য কাউকে দিয়ে ভরসা পাচ্ছি না। প্রবলেম ইনভাইট করে নিয়ে আসবে। ক্রাইসিস ম্যানেজ করতে পারবে না। তুমি লোকাল ছেলে। ডিউটিটা তুমি করো।
আমি আগের রাতেই জালাল ভাইয়ে সাথে যোগাযোগ করলাম। জালাল ভাই বললেন আমি থাকবো রিসিভ করা থেকে বিদায় পর্যন্ত।  তুমি থাকলে আমিও ভরসা পাবো। তোমাকে সবাই চিনে। বিরোধীদলের পরিচিতরা তোমার সাথে ঝামেলা করবে না।  অমুক তমুকরে তোমার কথা কইমুনে।
আমি ভরসা পেলাম। বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করলাম। ক্রাইসিস ওভারকামের সব কৌশল এপ্লাই করি। সব কথা লেখার সময় এখনো আসে নাই।
যাই হোক। যথারিতি তিনি ট্রেনে করে এলেন। এসে হোটেল গুলশানে উঠলেন। নাস্তা করে হযরত শাহজালাল (রাঃ) র মাজার জিয়ারত করলেন।
তারপর গাড়ী বহর নিয়ে শাবি গেইটে।
সারাদেশে এই অনশন নিয়ে টেনশন উত্তেজনা অস্থিরতা হলেও হুমায়ুন স্যারকে দেখলাম শান্ত স্থির। হাসিখুশি। খুব বেশী জমায়েত ছিলো না প্রথম দিকে। শুধু প্রগতিশীল কিছু সাংস্কৃতিক কর্মী আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কর্মীরা ছাড়া।
ভয় আর আতংকের মধ্যেই সাংস্কৃতিক কর্মীরা প্রতিবাদী গান, কবিতা আর শ্লোগানে মুখরিত হয় মূল ফটক। সাংবাদিক আর ফটোগ্রাফাররাই অনেক ছিলেন।  বারোটার দিকে মানুষ বাড়তে থাকে।
স্যার বসে থাকতেন। মাঝে মাঝে কথা বলতেন।  এক সময় দেখলাম মোবাইল ফোনটা জালাল ভাইয়ের হাতে দিলেন কল ধরার জন্যে। জালাল ভাই স্যারের ফোন ধরবেন না নিজের ফোন ধরবেন। নাকি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলবেন।  পাগলের মতো ছোটাছুটি।
এদিকে আমারও একই অবস্থা। ওয়ারলেসে কান রাখা। বেজের সাথে যোগাযোগ রাখা।  বিভিন্ন স্টেশনকে রিপ্লাই দেয়া। মোবাইল ফোনে একটু পরে পরে সিনিয়র অফিসারদের আপডেট দেয়া। ঢাকা থেকেও ফোন আসছে। তাদেরেকেও রিপোর্ট দেয়া।
এদিকে মদিনা মার্কেট আর টুকেরবাজারের দিক থেকে হঠাৎ হঠাৎ গুজব আসে। যদিও আমাদের কাউন্টার টিম ওই এলাকা দুটিকে সিল করে রেখেছে। তারপরেও সাবধানের মার নাই।
কখন যে বিকাল হয়ে যায় টেরই পাইনি। একটা টান টান উত্তেজনার মধ্যে স্যারের ডিউটি শেষ করতে পেরেছিলাম।
মুলত আমাদের এডভান্স কাউন্টার মেজার এবং কন্টাক্ট লিডারশীপ মেথড আমাদেরকে সফলতা দিয়েছিলো। সিলেট শহরের কোথাও একটা ককটেল বা বোমার শব্দ হয়নি সেদিন। একটা মিছিল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় মুখে আসে নি।
 অথচ মাত্র কিছুদিন আগেও জিন্দাবাজার এলাকায় প্রায় সারাদিন বিডিআর পুলিশের সাথে বিরোধীদলের সংঘর্ষ হয়েছিল। একজন না দুইজন মনে হয় মারাও গিয়েছিল।
এই ছবিটা হোটেল বের হবার সময়।
হুমায়ুন স্যারের বিশাল বহরের খাওয়া দাওয়াসহ সবকিছুই জালাল ভাই ব্যবস্থা করেছিলেন।  হুমায়ুন স্যার জালাল ভাই দুজনেই আজ স্মৃতি।
মহান দয়াময় তাঁর দুই মহৎ মানুষকে কৃপা করুন। বেহেশতে চির শান্তিতে রাখুন।

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

নামাজের সময়সূচীঃ

    Dhaka, Bangladesh
    রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২০
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৪:১১
    সূর্যোদয়ভোর ৫:৩২
    যোহরদুপুর ১২:০৪
    আছরবিকাল ৩:২৯
    মাগরিবসন্ধ্যা ৬:৩৬
    এশা রাত ৭:৫৭

@ স্বত্ত দৈনিক দেশ, ২০১৯-২০২০

সাইট ডিজাইনঃ টিম দেশ