ঢাকামঙ্গলবার , ৩১ আগস্ট ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গ্যাজেট
  11. জাতীয়
  12. টাকা-আনা-পাই
  13. দেশ পরিবার
  14. দেশ ভাবনা
  15. দেশ সাহিত্য

হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য

দৈনিক দেশ
আগস্ট ৩১, ২০২১ ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ

অন্জন কুমার রায়

জনসাধারণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ওষুধ প্রয়োজন। কিন্তু সে ওষুধ যদি জীবনরক্ষার পরিবর্তে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে, তাহলে দুর্ভোগের সীমা থাকে না। ওষুধ ভালো না মন্দ, নকল না আসল তা যাচাই করার ক্ষমতা সাধারণ মানুষের নেই। মানসম্পন্ন ওষুধ কিংবা ওষুধের গুণাগুণ সম্পর্কেও মানুষের ধারণা থাকার কথা নয়। তবে সাধারণ মানুষের স্বভাবসিদ্ধ ধারণা হলো, ওষুধ তৈরিতে গুণগত মান বজায় থাকে। নকল পণ্য তৈরি হলেও নকল ওষুধ তৈরি হতে পারে কিংবা ওষুধের গুণগত মান নিম্ন হতে পারে, এটা সাধারণ মানুষের মাথায় কখনো আসে না। তাই যে কেউ যে কোনো জায়গা থেকে ওষুধ ক্রয় করে। এমনকি খোলাবাজার থেকেও। আমাদের এই অতিবিশ্বাসের স্থানেই ঘটে বিপত্তি। ফলে ক্রেতার কাছে সহজেই চলে যায় নকল বা ভেজাল ওষুধ। শুধু তাই নয়, ভেজাল ওষুধের পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধও ক্রেতাদের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে একশ্রেণির বিক্রেতা। এসব ওষুধ ব্যবহারের ফলে রোগী আরোগ্য লাভের পরিবর্তে নানা নতুন রোগে আক্রান্ত হয়।

বিভিন্ন পত্রিকায় নকল ও ভেজাল ওষুধ ছড়িয়ে পড়ার খবর প্রকাশ পাচ্ছে। রাজধানীসহ কিছু এলাকায় নকল ওষুধ তৈরির কারখানার সন্ধানও পাওয়া গেছে। সেখানে পাওয়া গেছে নামি-দামি ব্র্যান্ডের নকল ওষুধ। এসব ওষুধ বিপণনের জন্য রয়েছে বিশেষ নেটওয়ার্ক। সেই নেটওয়ার্কই সব ধরনের কাজ করে থাকে। অতীতে কয়েকটি ওষুধ কোম্পানির তৈরি প্যারাসিটামল সিরাপ খেয়ে অনেক শিশু মারা গিয়েছিল। জানা যায়, সেসব ওষুধ খেয়ে শিশুদের কিডনি বিকল হয়ে গিয়েছিল। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর পরীক্ষা করে তাতে ক্ষতিকারক ‘ডাই-ইথিলিন গ্লাইকল’ নামের বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি পায়। ডাই-ইথিলিন গ্লাইকলের প্রভাবে কিডনি যে কোনো সময় বিকল হয়ে যেতে পারে। ২০০৯ সালেও এমন ঘটনা ঘটেছে। উৎপাদন ব্যয় কমাতে কিছু ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘প্রোপাইলিন গ্লাইকলের’ পরিবর্তে বিষাক্ত ডাই-ইথিলিন গ্লাইকল ব্যবহার করেছিল। ডাই-ইথিলিন গ্লাইকল রাসায়নিক রং, বলপেনের কালি, সিলপ্যাডের কালি, মুদ্রণ কালি, প্লাস্টিকে দ্রবণ হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

কিছু ওষুধের দোকান মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করায় ক্রেতারা ওষুধ কিনে প্রতারিত হচ্ছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের প্যাকেট বদল করে নতুন প্যাকেটে বাজারজাত করা হয়। এতে ক্রেতারা প্রতারণার শিকার হয়। ওষুধের প্যাকেটের গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ থাকে। বোতলজাত ওষুধের ক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ সহজে চোখে পড়লেও ট্যাবলেট বা ক্যাপসুলের স্ট্রিপে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ জনসাধারণের দৃষ্টিগোচর হয় না।

১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে ভেজাল খাদ্য বা ভেজাল ওষুধ বিক্রি বা বিক্রির জন্য প্রদর্শন করার অপরাধ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন বা ১৪ বছরের কারাদণ্ডের বিধান আছে। এরপরও এগুলো থামানো যাচ্ছে না। যদিও নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধের উৎপাদন বন্ধে কয়েকটি ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। এমনিতেই প্রতিদিন খাবারের নামে আমাদের শরীরে বিভিন্ন ভেজাল মিশে যাচ্ছে। ফলে শরীর বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত হচ্ছে; তার ওপর ওষুধের গুণাগুণ রক্ষিত না হলে রোগবালাই বাড়তে থাকবে। তাই জনস্বার্থে নকল ও ভেজাল ওষুধ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন এবং এ ব্যাপারে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

প্রতিবেদক

সর্বশেষ - সোশ্যাল মিডিয়া