ঢাকাশনিবার , ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গ্যাজেট
  11. জাতীয়
  12. টাকা-আনা-পাই
  13. দেশ পরিবার
  14. দেশ ভাবনা
  15. দেশ সাহিত্য

শ্রীমঙ্গলের তিন ইউনিয়নের এক সড়ক, বেহাল দশায় আড়াই বছর

কাউছার আহমেদ রিয়ন, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ১১, ২০২১ ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ


মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থেকে ভূনবীর উইনিয়নের সাঁতগাও -সিদুরখান ও আশিদ্রোন ইউনিয়নের সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু হওয়ার আড়াই বছরেও এগোয়নি কাজের ১০ ভাগ। উল্টা রাস্তার পিস তুলে ফেলায় ভোগান্তি হচ্ছে চরম পর্যায়ে ।



পুরা রাস্তা জুড়ে ছড়ানো ছিঠানো রয়েছে কংক্রিট (ইটের টুকরা), রাস্তার এখানে সেখানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট বড় গর্তের, জমেছে বৃষ্টির পানিও। পুরা রাস্তাই এখন খানাখন্দে ভরা। দূর্ঘটনার ঝুঁকি, যানবাহনের ক্ষতি, সময় ও অর্থের ক্ষতি সহ্য করেও বাধ্য হয়ে এ রাস্ত দিয়ে চলাচল করছেন হাজারও সাধারণ মানুষ।


শ্রীমঙ্গল উপজলা প্রকৌশলী কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালর ২ জুন রাস্তাটির কাজ শুরু হয়। ঢাকার ডলি কনট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রাস্তার কাজটি পায়। তাদের সাথে চুক্তি ছিলা ২০২০ অক্টাবর মাসের মধ্য তারা কাজ শষ করবে। এর মধ্য তারা হঠাৎ করে কাজ ফেলে রেখে চলে যায়।


সরজমিনে এলাকায় গিয় দেখা গেছে আছিদ উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের চৌমুহনা থেকে সিন্ধুরখান অভিমূখ প্রায় ৬.৭৯ কিলোমিটার রাস্তাটি পূর্ন নির্মাণের জন্য বিভিন জায়গা খুড়ে রাখা হয়েছে। রাস্তাটি কিছু জায়গায় গর্ত হয়ে পানি জমে আছ। কিছু জায়গায় কংক্রিট (ইট) বিছানো। চারিদিকে কংক্রিট রয়েছে ছড়িয় ছিঠিয়ে। এসব কংক্রিট এখন রাস্তার সুবিধার বদলে অসুবিধা করছে বেশী।


অন্য দিকে এই রাস্তার অপর অংশ আছিদ উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের চমুহনা থকে সাতগাঁও বাজারে যাওয়ার মাঝামাঝি স্থানে একটি ব্রিজ ভেঙ্গে পড়েছে যার কারনে ভূনবীর ইউনিয়নের সাতগাঁও এলাকা থেকে আসিদ্রোন ইউনিয়নে সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে দীর্ঘদিন ধরে । ড্রাইবিসন করা রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে আছিদ উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের শত শত ছাত্র-ছাত্রী। শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার-ঢাকা সড়ক পর্যন্ত বেশ কিছু যায়গায় বড় বড় গর্ত আর গর্ত গুলো যেন মত্যু ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোথাও বড় গর্ত পানি জমে আছে। কাথাও রাস্তা ভেঙ্গে পাশের নিচু জমির সাথে মিশ আছে। যানবাহন চলাচলে একটু ভুল হলেই বড় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।


আশিদ্রোন ইউনিয়নের কাজির গাও এলাকার জুয়েল আহমদ জানান, এই রাস্তা দিয় প্রতিদিন মাটর সাইকেল নিয়ে আমাদের চলাচল করত হয়। সাইকেলের চাকা প্রায়ই পানচার হয় নষ্ট হয়ে যায়। আমি এই দুই বছরে তিনচার বার সাইকেলের চাকা নতুন লাগিয়ছি। জামসী গ্রামের মুক্তার মিয়া বলেন, এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতেগিয় দুর্ঘটনার শিকার হন। মটর সাইকেল একন বাইসাইকেলের মতো করে চালিয় নিয়ে যতে হয়। পুরা রাস্তাই এমন যার কারনে সময় লাগে দ্বিগুন। তারা এ অবস্থা থেকে মুক্তি চান।


আশীদ্রোন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মা: বেলাল আহমেদ বলেন,এই রাস্তাটি অনেক বছর ধরেই খারাপ ছিলা। মাঝখানে দুই বছর আগে দেখলাম রাস্তাটির সব পিস তোলে নতুন করে কংক্রিট ফেলা হচ্ছে। কংক্রিট ফেলার পর সেটা সমান করার আগেই দেখলাম আর কউে এখানে কাজ করতে আসে না।আমি এখন আর এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করি না এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করলে মনে হয় কখন জানি দুর্ঘটনায় পড়ে মারা যাই আমি প্রায় ১৫/থেকে ১৬ কিলোমিটার ঘোরে শ্রীমঙ্গলে যাতায়াত করি।


পূর্ব জামসী গ্রামের মা: শাহীন মিয়া জানান, রাস্তার কাজ শুরু হওয়ার দুই বছর আগ থেকেই রাস্তা খারাপ ছিলো ভালার জন্য কাজ শুরু হয় এখন আরো খারাপ অবস্থায় পড়ে আছে রাস্তাটি এই কংক্রিটের উপর দিয়ে ধীরে ধীরে গাড়ি চালাতে হয় । বিশেষ করে কোন রোগী নিয়ে গেলে রোগীর অবস্তা অনেক খারাপ হয় যায়। প্রায়ই সময় ছোট যানগুলা এখানের গর্তে আটকা পড়ে যায়।


আশিদ্রোন ইউনিয়ন পরিষদের চয়ারম্যান রনদ্র প্রসাদ বর্ধন জানান, একটা রাস্তার কাজ কাছা কাছি সময়ে বার বার করা যায়না। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শুরতেই নিন্মমানের জিনিশপত্র ব্যবহার করে এবং কাজের গতি ছিলো অতি ধীরে। বিষয়টি পরিলক্ষিত হওয়া তিনি উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরে অভিযাগ করেন। তারা তকন তদন্ত করে কাজ বন্ধ রাখেন এবং ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি বাতিল করেন। এর পর নতুন টেন্ডারের জন্য একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী ও স্তানিয় সংসদ সদস্যর সাথে যাগাযাগ করেন। এই রাস্তার জন্য তাঁর ইউনিয়নের মানুষের ভূগারি শেষ নেই। তিনি জানান, সর্বশেষ গত সাপ্তাহও তিনি উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এ নিয় বৈঠক করেন এবং নতুন করে টেন্ডার প্রক্রিয়ার কার্যক্রম শুর করান। এ বার-তা- দ্রত বাস্তবায়নে তিনি সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।


এ ব্যাপারে প্রকৌশলী মনিরুল বলেন, “রাস্তা মেরামতে দেরি করার কারণে ডলি কন্সট্রাকশনের টেন্ডার বাতিল করা হয়েছে। দ্রুত এ রাস্তার জন্য নতুন টেন্ডার দেওয়া হবে।” সাতগাঁও-সিন্দুরখান সড়কটির ৬০ ভাগ অংশ আশিদ্রোন ইউনিয়নে, ২৫ ভাগ সিন্দুরখানে ও ১৫ ভাগ ভূনবীর ইউনিয়নে বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ - সোশ্যাল মিডিয়া