ঢাকারবিবার , ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গ্যাজেট
  11. জাতীয়
  12. টাকা-আনা-পাই
  13. দেশ পরিবার
  14. দেশ ভাবনা
  15. দেশ সাহিত্য

লবণাক্ত এলাকায় কৃষি বিপ্লবের রোডম্যাপ প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান : কৃষিমন্ত্রী

সুনীল কুমার দাস, ব্যুরো প্রধান (খুলনা)
সেপ্টেম্বর ১২, ২০২১ ৫:২৫ অপরাহ্ণ


কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক এমপি বলেছেন, দেশের উপকূলীয় ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লবণাক্ত জমিতে কৃষি উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে আমাদের কৃষি বিজ্ঞানীরা ধান, ডাল, তরমুজ, আলু, ভুট্টা, বার্লি, সূর্যমুখী, শাকসবজিসহ অনেক ফসলের লবণাক্ততাসহিষ্ণু উন্নত জাত উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছে। এসব জাত ও উৎপাদন প্রযুক্তি উপকূলবর্তী বিপুল এলাকার চাষীদের মধ্যে দ্রুত সম্প্রসারণের জন্য কাজ চলছে। বিশেষ করে লবনাক্ত এলাকায় আধুনিক ও উন্নতজাতের কৃষিতে সমৃদ্ধি অজর্নে কৃষকদের মাঝে এসব ফসলের চাষ বৃদ্ধি ও জাগরন সৃষ্টিতে সরকারের কৃষি বিভাগ কাজ করছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিপুল পরিমান লবণাক্ত এলাকায় নতুন করে কৃষি বিপ্লবের লক্ষ্যে রোডম্যাপ প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এটা বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়বে। একই সাথে মানুষের জীবনযাত্রার মানের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হবে। ফলে শুধুমাত্র শহরই নয়-গ্রামীন জনপদও উন্নয়নশীল দেশের সকল সুবিধা ভোগ করতে পারবে।



আজ রবিবার খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় ঘেরের আইলে আগাম সীম চাষ ও অফসিজন তরমুজ চাষ সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে আয়োজিত কৃষক সমাবেশে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।


কৃষিমন্ত্রী ড. রাজ্জাক আরও বলেন, দেশের প্রায় ২৫শতাংশ এলাকা হচ্ছে উপকূলীয় এলাকা। উপকুলীয় এলাকায় মোট জমির পরিমাণ ২৮ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর।এরমধ্যে চাষযোগ্য ২১ লাখ ৬২ হাজার হেক্টরের মধ্যে লবণাক্ত জমির পরিমাণ ১০ লাখ ৫৬ হাজার হেক্টর। এছাড়া লবণ পানির ভয়াবহতার কারণে প্রতিবছর শুষ্ক মওসুমে উপকূলীয় এলাকায় ৫ লক্ষাধিক হেক্টর জমি অনাবাদি থেকে যায়। উপকুলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার কারণে সারা বছরে একটি ফসল হতো। আমন ধান তোলার পর বছরের বাকি সময়টা মাঠের পর মাঠ জমি অলস পড়ে থাকত। এই প্রতিকূল ও বিরূপ পরিবেশে বছরে কীভাবে দুইবার বা তিনবার ফসল চাষ করা যায়। এমনকি কি সারা বছর কিভাবে নিবিড় শস্য উৎপাদন সম্ভব সে লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। ইতোমধ্যে উপকুলের ‍কৃষির উন্নয়নে অনেক সাফল্য এসেছে। এটিকে আরো সম্প্রসারিত করে উপকুলীয় এলাকায় সারা বছর ধরে বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করা যায় তার ব্যবস্থা করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। সেচের সমস্যা দূর করতে খুলনা ও বাগেরহাটে ৬শো’র বেশি খাল খনন ও পুন:খনন করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।


এ সময় মন্ত্রীর সাথে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী নায়ায়ণ চন্দ্র চন্দ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব ওয়াহিদা আক্তার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: আসাদুল্লাহ, বিএডিসির চেয়ারম্যান ড. অমিতাভ সরকার, বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মো: বখতিয়ার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার উপপরিচালক মো: হাফিজুর রহমান, ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আব্দুল ওয়াদুদ, কৃষি অফিসার মো: মোসাদ্দেক হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক শাহনেওয়াজ হোসেন জোয়ার্দ্দারসহ জনপ্রতিনিধি, কর্মকর্তাবৃন্দ ও দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


উপকূলীয় এলাকায় মৃত্তিকা গবেষণা ও উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের জরিপ মতে, খুলনার মোট ২ লাখ ১৩ হাজার হেক্টর আবাদযোগ্য জমির মধ্যে লবণাক্ত জমির পরিমাণ এক লাখ নব্বই হাজার হেক্টর। যা মোট আবাদযোগ্য জমির ৮৯ শতাংশ।

সর্বশেষ - সোশ্যাল মিডিয়া