ঢাকাশনিবার , ১০ জুলাই ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আবোল-তাবোল
  5. উদ্যোক্তা
  6. উপসম্পাদকীয়
  7. এক্সক্লুসিভ
  8. কলাম
  9. ক্যারিয়ার
  10. খেলার মাঠ
  11. গ্যাজেট
  12. জাতীয়
  13. টাকা-আনা-পাই
  14. দেশ পরিবার
  15. দেশ ভাবনা

মৌলভীবাজা হাসপাতালে যুক্ত হচ্ছে অক্সিজেন প্ল্যান্ট


মৌলভীবাজারে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে যুক্ত হচ্ছে ১১ হাজার লিটারের অক্সিজেন প্ল্যান্ট। ঈদের পরপরই সার্বিক কাজ ও সার্ভিস শুরু করা যাবে এই প্ল্যান্টে জানিয়েছে ইউনিসেফ। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এটি বাস্তবায়ন করছে ইউনিসেফ। দু’একদিনের মধ্যে চলে আসবে লিকুইড অক্সিজেন ট্যাংক। এটির ধারণক্ষমতা বর্তমানে ১১০০০ লিটার।


জানা যায়, প্রথমে কথা ছিল ৬০০০ লিটার প্রতিস্থাপনের। কিন্তু এখন তা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিনেন্দু ভৌমিক জানান, এই অক্সিজেন প্ল্যান্ট হাসপাতালের জন্য একটা বড় যোগান। প্রতি লিটার তরল অক্সিজেন থেকে ৮৬০ লিটার গ্যাসীয় অক্সিজেন উৎপন্ন হয়। এটি সম্পন্ন হলে হাসপাতালের ২৫০ শয্যার প্রতি শয্যায় অক্সিজেন লাইন থাকবে, প্রয়োজনে রোগীর চাপ বিবেচনায় অতিরিক্ত রাখা যাবে। এছাড়া অপারেশন থিয়েটারসহ যেখানে প্রয়োজন সেখানে লাইন রাখা যাবে। ফলে ভর্তিকৃত রোগীরা আগের চেয়ে বেশি সেবা পাবে। হাসপাতালের অক্সিজেন প্ল্যান্টের ঢালাইকাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে বাকি কাজ শেষ হবে। এরপর এখানে বসবে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, বসবে অক্সিজেন ট্যাংক।

সংস্কৃতি কর্মী কয়ছর আহমদ বলেন, মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে দুটি হাই ফ্লো নাজেল ক্যানুলা যুক্ত করায় এবং সেন্ট্রাল অক্সিজেনের কাজের অগ্রগতি হওয়ায় সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এখন আমাদের প্রয়োজন পিসিআর ল্যাব। ব্যবসায়ী জাহেদ আহমদ চৌধুরী বলেন, প্রবাসী অধ্যুষিত ও পর্যটন সমৃদ্ধ আমাদের এ জেলার স্বাস্থ্যসেবা প্রশ্নবিদ্ধ। চিকিৎসা সংকট এখানে প্রবল থাকায় ঢাকা সিলেট যেতে হয়। নতুন সংযোজন এই অক্সিজেন প্ল্যান্ট চালু হলে মানুষ অক্সিজেনের অভাবে মারা যাবে না। করোনা মহামারীর এই সময়ে অক্সিজেনের বেশি প্রয়োজন।

এদিকে জেলা স্বাস্ব্য বিভাগ সূত্র জানায়, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুসারে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুরোধে ইউনিসেফের অর্থায়নে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্টের উদ্যোগ নেয়া হয়। গত বছর উদ্যোগ নেয়া হলেও কাজ এগিয়েছে ধীরগতিতে। হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীদের অধিকাংশেরই অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। কিন্তু লিকুইড অক্সিজেন প্লান্ট না থাকায় নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে সিলিন্ডার দিয়ে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে ঝুঁকিতে পড়ছেন করোনায় আক্রান্ত রোগীরা। দীর্ঘদিন পর হলেও দ্রুত শুরু হতে যাচ্ছে অক্সিজেন প্লান্টের সার্ভিস। ফলে করোনা রোগীসহ অন্যান্য রোগীদের ভোগান্তি কমবে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মৌলভীবাজারের সভাপতি ডা. শাব্বির হোসেন খান জানান, মৌলভীবাজার-২৫০ শয্যা হাসপাতালে দুইটি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা (এইচএফএনসি) বরাদ্ধ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এছাড়াও পাঁচটি পালস্ অক্সিমিটার, একটি ইনফ্রারেড থার্মোমিটার এবং ৫০০টি এন-৯৫ মাস্ক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।৭ জুলাই এই বরাদ্ধগুলো দেওয়া হয়। নতুন আরও দুইটি এইচএফএনসি বরাদ্দ পাওয়ায় জেলাবাসী এর সুফল পাবে। পাশাপাশি দ্রুত সময়ে এই অক্সিজেন প্লান্ট সার্ভিস শুরু হলে চিকিৎসার জন্য বিশাল একটা সাপোর্ট পাবো আমরা।


মৌলভীবাজার পৌরসভা মেয়র মো. ফজলুর রহমান নির্মাণাধীন অক্সিজেন প্লান্ট পরিদর্শন করে বলেন, আমি পরিদর্শন করেছি, কাজ প্রায় শেষ। ইউনিসেফ জানিয়েছে ঈদের পরপর সার্ভিস দিতে পারবে। আমরা দীর্ঘদিন থেকে ব্যক্তি উদ্যোগে এই হাসপাতালে অক্সিজেন যোগান দিয়ে যাচ্ছি। এই প্ল্যান্ট হলে দীর্ঘদিনের চাহিদা ও দুর্ভোগ নিরসন হবে, সেবা পাবে মানুষ।

সর্বশেষ - জাতীয়