ঢাকারবিবার , ২৯ আগস্ট ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গ্যাজেট
  11. জাতীয়
  12. টাকা-আনা-পাই
  13. দেশ পরিবার
  14. দেশ ভাবনা
  15. দেশ সাহিত্য

মা জীবিত প্রমাণ করতে হচ্ছে ছেলেকে


মা জীবিত থেকেও মৃত। এমন পরিস্থিতিতে, বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন ছেলে। শুনতে অবাক লাগলেও এমন ঘটনা ঘটেছে মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামে।



নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেজের তথ্যমতে প্রায় ৩ বছর আগে থেকেই মৃত দেখানো হয় তারাপাশা গ্রামের ব্যবসায়ী লিটন দেব এর মা গীতা রানী দেবকে। জীবিত হয়েও এনআইডির ডাটাবেজে নিজের মায়ের নাম মৃতের তালিকায়দেখে বিভ্রান্তিতে পড়েছেন ছেলে। পারছেন না করোনা টিকার নিবন্ধন করতে। বিপাকে পড়ে একমাত্র ছেলে ছুটছেন ইউনিয়ন অফিস থেকে উপজেলা ও জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে।


তারাপাশা গ্রামের বাসিন্দা লিটন দেব বলেন, ‘মাকে করোনার টিকা নেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়ে বিপাকে পড়ি। তথ্য আপলোড না হওয়ায় প্রথম ভেবেছিলাম সার্ভার ডাউন। পরপর দুদিন চেষ্টা করে যাই উপজেলা নির্বাচন অফিসে। সেখানে গিয়ে জানতে পারি (প্রায় ৩ বছর আগে থেকেই) নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেজের তথ্যে মায়ের নাম মৃতের তালিকায় রয়েছে।’ নিজের মা ‘জীবিত’ আছেন, তা প্রমাণ করতে বিভিন্ন স্থানে ঘুরেও কোন সুরাহা এখনো করতে পারছেন না। এ কারণে জীবিত মায়ের জন্য করোনা টিকার নিবন্ধন করাও যাচ্ছে না বলে তিনি জানান।


তিনি আরো জানান এখন দীর্ঘ ভোগান্তির মধ্যে দিয়ে এর সমাধান করতে হবে, প্রথমে নাগরিকত্ব সনদ এরপর মেম্বার চেয়ারম্যান লাগবে এরপর উপজেলায়, এভাবে কাজ করে দীর্ঘ সময় পর হয়তো ঠিক হবে। মাকে জীবিত প্রমাণ করতে ছেলে ঘুরছেন জেলা, উপজেলা নির্বাচন অফিস, কাউন্সিলর, ইউনিয়ন কার্যালয়সহ নানা স্থানে। বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হওয়ায় দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চান স্বজনরা।


লিটন দেবের নিকটাত্মীয় প্রতিবেশী গোপাল দে জানান, জীবিত থাকার পরও মৃত হওয়ায় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে ভুক্তভোগীকে। বঞ্চিত হবেন রাষ্ট্রের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে। কোন কারণে যদি গীতা রানী অসুস্থ হন, তবে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতেও নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর নিজ ইউনিয়ন কামারচাক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজমুল হক সেলিম জানান, এটা একটা বিভ্রান্তি। ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাচনী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র নেয়ার কথা বলা হয়েছে। আমি সে অনুযায়ী তাদের যাবতীয় কাগজ পত্র প্রদান করবো এবং সব ধরনের সহযোগিতা করবো।


সুজন সাধারণ সম্পাদক মৌলভীবাজার, জহর লাল দত্ত জানান- এই ধরনের ভুল সাধারণ ভুল নয় এবং মানুষকে দীর্ঘ ভোগান্তিতে ফেলা হয়। জাতীয় পরিচয় পত্র এখন সব কাজে লাগে একটা দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান এত অসতর্ক হয়ে কাজ করলে মানুষ সেবা পাবে কি করে। আরো অনেক ভুল নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেজ থেকে করা হচ্ছে, এগুলোর শক্ত মনিটরিং প্রয়োজন।


জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো আলমগীর হোসেন বলেন, এই বিষয়গুলো নিয়ে মাঝে মাঝে আমাদের বিব্রত হতে হয়। আমরা শীঘ্রই চেষ্টা করবো সমস্যা সমাধানের। এজন্য ভুক্তভোগীকে প্রথমে তার নিজ উপজেলায় আবেদন করতে হবে, এরপর সেই আবেদন আমরা পাবো। আমরা গ্রহণ করার পর ডিজি মহোদয়ের কাছে পাঠাবো। ডিজি মহোদয় নির্বাচন কমিশনের অনুমতি সাপেক্ষে সমস্যার সমাধান করে দেবেন। এই প্রক্রিয়ায় একটু সময় তো লাগবেই।

সর্বশেষ - সোশ্যাল মিডিয়া