ঢাকাবুধবার , ৪ আগস্ট ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গ্যাজেট
  11. জাতীয়
  12. টাকা-আনা-পাই
  13. দেশ পরিবার
  14. দেশ ভাবনা
  15. দেশ সাহিত্য

মানবিক সেবায় অদম্য সাহসীযোদ্ধা ডা: শৈলেন্দ্রনাথ


করোনা চিকিৎসায় ও অসহায় রোগীর মানবিক সেবায় অদম্য সাহসীযোদ্ধা খুলনার ডা: শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস।


বিশ্ব মহামারী করোনার শুরুতে সবাই যখন পলায়নপর তখন থেকেই অদম্য সাহস নিয়ে একজন যোদ্ধা হিসেবে করোনা রোগীসহ অসহায় মানুষের সেবার কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন তিনি। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতা্লের কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন তিনি। ২০২০ সালের প্রথমদিকে করোনার ব্যাপক সংক্রমন ও মৃত্যুর ভয়ে ভীত হয়ে অপরাপর চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিতরা নিজের কর্মস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন তখনও নিজ কর্মস্থলে থেকেই তিনি কাজ করেছেন সাহসিকতার সাথে। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের সংক্রমন ও ঝুঁকির কথা না ভেবেই মানুষের সেবায় আত্ননিয়োগ করেছেন। যা এখনও চলমান রেখেছেন তিনি।


সবশেষ তিনি ঝুঁকি নিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন রাজধানী ঢাকার বাইরে একমাত্র খুলনায় করোনার ওষুধ ট্রায়ালের গবেষণা কার্যক্রমের। এই গবেষণা কার্যক্রমের বিস্তারিত প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও চিকিৎসা জার্নালে প্রকাশ হতে যাচ্ছে। এছাড়াও এই অকুতোভয় চিকিৎসক এক সময়ে সাহস নিয়ে যুদ্ধ করেছেন ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে। পরিচিতি পেয়েছেন একজন মানবিক চিকিৎসক হিসেবে।


জানা গেছে, ২০২০ সালে দেশে করোনা সংক্রমণ শুরু হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। সেখানের অনেক চিকিৎসক তখন করোনার ভয়ে ভীত হয়ে কর্মস্থল থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন।যদিও পরে সরকারের ও স্বাস্থ্য বিভাগের কঠোর নির্দেশনায় হাসপাতালে ফিরে এলেও করোনা রোগীর চিকিৎসায় চলছিল চরম অবহেলা। তখনই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেন ডা. শৈলেন্দ্র নাথ বিশ্বাস। করোনা রোগীর চিকিৎসা করতে গিয়ে বেশকিছু চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হলেও নিজে কখনও ভয়ে পিছিয়ে থাকেননি ডা: শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস। মানুষের সেবার ব্রত নিয়েই তিনি কাজ করেছেন। করোনা রোগীর চিকিৎসা প্রদানসহ নানা বিষয়েই তখন তিনি বিড়ম্বনার শিকার হন। চিকিৎসার ক্ষেত্রে সম্পূর্ন নতুন একটা বিষয়ে কেমন চিকিৎসা হবে, কিভাবে চিকিৎসা দিবেন তা নিয়ে রাতদিন পরিশ্রম করছেন। প্রতিটি মূর্হুতেই তিনি রোগীর সেবা দিয়ে নিজেও শিখেছেন এবং আবারও সেবা করেছেন। বাসায় স্ত্রী ও ছোট শিশু সন্তান থাকলেও তাদের ছেড়ে আলাদা বাসায় থেকে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ব্যক্তিগত চেম্বার সবখানেই রোগীর সেবা দিয়েছেন। গত প্রায় দেড় বছরের বেশি সময়ে দুই সহস্রাধিক করোনা আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন তিনি। যা এখনও চলমান রয়েছে।


করোনা রোগী ও অহসায় মানুষের চিকিৎসা সেবার কাজের মধ্যেই সবশেষ তিনি করোনা ওষুধ রেমডেসিভি ও ফেবিপিরাভির নিয়ে ট্রায়ালের গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক টিম একশত রোগীর ওপর করোনার ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ করেন। এই ট্রায়াল গবেষনার পরীক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের ফলাফলের উপর করোনা ওষুধ চুড়ান্তকরন ও গবেষনা প্রতিবেদন প্রকাশ অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানা গেছে।


খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মল্লিক সুধাংশু বলেন, তিনি করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর ডা. শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস খুবই আন্তরিকতার সাথে চিকিৎসা দিয়েছেন। অন্য চিকিৎসকরা যেখানে দূর থেকে এবং কাচে ঘেরা চেম্বারের মধ্যে বসে রোগী দেখতেন।সেখানে তিনি কাছে এসে নিজহাতে ধরেই সবকিছু দেখেতেন ও পরীক্ষা করতেন। সাহস দিতেন ভেঙ্গে না পড়ার জন্য, দুশ্চিন্তা না করার জন্য। দিনে ও রাতে যেকোন সময়েই তাকে ফোন দিয়েও সেবা নিয়েছি।করোনার দু:সময়ে এধরনের মানবিক চিকিৎসকই সমাজের ও দেশের জন্য খুবই প্রয়োজন। আমি তার সফলতা কামনা করি।


শহরের নিরালা এলাকার করোনাক্রান্ত গৃহবধু সৌমি লাবন্য জানান, তিনি ও তার স্বামী দুজনেই একসাথে করোনা পজেটিভ হওয়ার পর ডা: শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস ফোনে ও অনলাইনে যেমন চিকিৎসা দিয়েছেন। তেমনি তার চেম্বারে ডেকে নিয়ে কাছে এসে সাধারন সময়ের মতই দেখেছেন ও চিকিৎসা দিয়েছেন। এমনকি গভীর রাতেও তিনি চিকিৎসা সেবা দিতে বিরক্ত বোধ করেননি। তার আন্তরিক ও মানবিক সেবা এবং সাহস জোগানো উপদেশই খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে করোনামুক্ত হতে পেরেছি বলে মনে হয়। তিনি শুধুই আমাদেরই নয়-পরিচিত জন, বন্ধু-বান্ধব এবং আত্নীয়-স্বজন যাদের জন্য পরামর্শ চেয়েছি তিনি বিনা বাক্য ব্যয়েই চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। তিনি কখনও রোগী হিসেবে নয়-আপন মানুষ হিসেবেই চিকিৎসা দিয়েছেন।


ডা. শৈলেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনা সংক্রমন শুরু হলে এ রোগের চিকিৎসার বিষয়ে আমাদের কোনই ধারণা ছিল না। সবাই যেন ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যেই ছিল। ভয়ে অনেকেই হাসপাতালে আসতে চাইতেন না। কিন্তু আমার কখনো শংকা ও ভয় কোনটাই হয়নি। মানুষের সেবার বিষয়টি মাথায় নিয়ে সব সময় কাজ করেছি। আমি কৃষক পরিবারের সন্তান হওয়ায় এবং অনেক ঘাত প্রতিঘাতের মধ্যে বেড়ে ওঠায় এই ঝুঁকি নেওয়ার সাহস ছিল। আমি মনে করেছি করোনার প্রতিরোধে কাজ করা নতুন সময়ের মুক্তিযোদ্ধা। নিজে মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি তাই এটা যুদ্ধ মনে করে কাজ করেছি। অনেকে যুদ্ধে গিয়ে ফিরে আসেনি। করোনার চিকিৎসা ও প্রতিরোধের কাজে এখানেও একই অবস্থা। ঘরে স্ত্রী, পিতা-মাতা ও ছোট দুটি সন্তানের কথা ভেবেছি কিন্তু ভয় পাইনি।তবে রোগাক্রান্ত ও অসহায় মানুষের সেবা করতে পেরেছি এটাই জীবনের সবচেয়ে বড় সফলতা ও প্রাপ্তি বলে তিনি মনে করেন।


তিনি আরও বলেন, সাহসী এ কাজে অনেক সহকর্মী অখুশি হয়েছেন। সে সকল সহকর্মীরা মানবিকতা নিয়ে এগিয়ে এলে এবং সহযোগিতা করলে রোগী ও অসহায় মানুষের জন্য আরো ভালো কিছু করা সম্ভব ছিল।


ডা: শৈলেন্দ্রনাথ মনে করেন, করোনার বর্তমান অবস্থায় কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, মাস্ক ব্যবহার করা ও সচেতন হওয়া সাধারণ মানুষের প্রথম কর্তব্য হওয়া উচিত। কাজেই করোনা রোগী ও করোনায় মৃতদের নিয়ে কোন অমানবিক চিন্তা এবং কার্যক্রম ও ভয় নয়। বরং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের মাধ্যমে করোনাকে জয় করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। তবেই মহামারী করোনা হার মানবে আর জয় হবে মানবিকতার।

সর্বশেষ - সোশ্যাল মিডিয়া