ঢাকাশুক্রবার , ১৬ জুলাই ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আবোল-তাবোল
  5. উদ্যোক্তা
  6. উপসম্পাদকীয়
  7. এক্সক্লুসিভ
  8. কলাম
  9. ক্যারিয়ার
  10. খেলার মাঠ
  11. গ্যাজেট
  12. জাতীয়
  13. টাকা-আনা-পাই
  14. দেশ পরিবার
  15. দেশ ভাবনা

মাথা গোঁজার ঠাঁই হলো ওবায়দুল ও ফারুলের

আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা প্রতিনিধি
জুলাই ১৬, ২০২১ ১:১৩ পূর্বাহ্ণ


কানে ও চোখে ভালমতো শুনতে দেখতে পান না ওবায়দুল। শারীরিক সামর্থ্য না থাকায় কোন ধরণের কর্ম করতে পারেন না। এলাকাবাসির দেয়া খাদ্যসামগ্রী দিয়ে অর্ধাহারে কিংবা অনাহারে দিনাতিপাত করে সে।


 

আধাকাঁচা মাটির ঘরে ৪ সন্তান নিয়ে বসবাস করেন ওবায়দুল। ঝড়ে ঘরের ছালাটি উড়িয়ে নিয়ে গেলে চার সন্তান নিয়ে বেশ বিপাকে পড়ে যান তিনি। ঘরের চাল না থাকায় ক্রমাগত বৃষ্টিতে মাটির ঘরের দেয়াল ভাংতে শুরু করে। দরিদ্রতার কারণে নিজ ঘরটি নির্মান করে আবার বসবাস করার আশা ছেড়ে দেন তিনি।

অন্যদিকে, ৮ বছর পূর্বে ফারুলের স্বামী তাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। দুই সন্তান নিয়েই খুব কষ্টেই চলে ফারুল বেগমের সংসার। সারাদিন পরের বাড়িতে কাজ করলেও রাতে সন্তানদের নিয়ে মাথা গুজার মতো কোন ঠাঁই নেই। অস্থায়ী ভাবে তার বাবার বাড়ির পরিত্যাক্ত রান্নাঘরে ঠাঁই হয়েছে তার।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের দৈন্যদশার খবর প্রকাশের পর ঘটনার সত্যতা জানতে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মাটিরাঙ্গা উপজেলার তবলছড়ির হাজীপাড়ায় ছুটে যান মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অ.দা) মিজ ফারজানা আক্তার ববি।

এসময় দুই পরিবারের লোকদের সাথে কথা তাদের দীর্ঘদিনের দুর্দশা লাঘব ও নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে পাকা ঘর করে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। ওবায়দুল হক বলেন, আমাদের মতো গরীবদের কেউ খবর রাখে না। ঝড়ে আমার ঘরের চাল উড়ে গেলেও কেউ আমার পাশে দাঁড়ায়নি। সরকারি পাকা ঘর পাওয়া আমার কাছে স্বপ্নের মতো। এটা আমার জীবনে বড় পাওয়া।

পারুল বেগম বলেন, সারাদিন অন্যের বাড়িতে কাজ করলেও রাতে সন্তানদের নিয়ে মাথা গোঁজার কোন ঠাঁই ছিল না। সরকারি সহায়তা তার কাছে স্বপ্ন।


মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অ.দা) মিজ ফারজানা আক্তার ববি জাতির পিতার জন্মশতবর্ষে বাংলাদেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষনার পর এখানেও গৃহহীনদের খুঁজে খুঁজে বের করে ঘর করে দেয়া হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় খাগড়াছড়ির মানবিক জেলা প্রশাসকের নিদের্শে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের দুরবস্থা প্রত্যক্ষ করেছি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই তারা পাকা ঘরে তাদের মাথা গোঁজার ঠিকানা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

সর্বশেষ - জাতীয়