ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৮ জুলাই ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আবোল-তাবোল
  5. উদ্যোক্তা
  6. উপসম্পাদকীয়
  7. এক্সক্লুসিভ
  8. কলাম
  9. ক্যারিয়ার
  10. খেলার মাঠ
  11. গ্যাজেট
  12. জাতীয়
  13. টাকা-আনা-পাই
  14. দেশ পরিবার
  15. দেশ ভাবনা
ইউপি চেয়ারম্যানের উদ্যোগ

মহারাজপুরে ২ হাজার হেক্টর জমির জলাবদ্ধতা মুক্ত হচ্ছে

সুনীল কুমার দাস, ব্যুরো প্রধান (খুলনা)
জুলাই ৮, ২০২১ ১০:১৯ অপরাহ্ণ


স্থানীয়ভাবে উদ্যোগ নিয়েও সমাজের মানুষের জন্য ভালো কাজ করা যায়। সেক্ষেত্রে অর্থের কোন সংকট হয় না তার প্রমান দেখিয়েছেন এক ইউপি চেয়ারম্যান।


 

খুলনার প্রত্যন্ত উপকুলীয় কয়রা উপজেলার মহারাজপুরের শাকবাড়ীয়া খালে পাইপ বসিয়ে দ্রুত পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন লাভলু’র নেতৃত্বে এলাকাবাসী। এতে এলাকার ২ হাজার হেক্টর জমির জলাবদ্ধতা মুক্ত হতে যাচ্ছে। ফলে ইউনিয়নের মানুষের ০৭ গ্রামের মানুষ এক যুগের জলাবদ্ধতার দূর্ভোগের অবসান হচ্ছে। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হওয়ায় খুশী এলাকাবাসী। আজ বৃহষ্পতিবার (৮ জুলাই) মহারাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন লাভলু স্থানীয় উদ্যোগে এ কাজের কথা স্বীকার করেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ২৫ মে আইলার সময় মহারাজপুর ইউনিয়নের শাকবাড়ীয়া খালের বড় ব্রীজটি ধ্বসে পড়ে। এতে যোগাযোগ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী নিজ নিজ এলাকা পানির প্রবাহমুক্ত রাখতে সেখানে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইউনিয়নের মঠবাড়ী, কালনা, শ্রীরামপুর, অন্তাবুনিয়া, দেয়াড়া,মহারাজপুর ও খড়িয়া গ্রামের মানুষ একটু বৃষ্টি হলেই পানিবন্দী হয়ে পড়ে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এসব গ্রামের মানুষ প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পানিবন্দী হয়ে যায়। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হওয়ায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। ফলে কৃষকসহ এলাকাবাসীর ধান ও মাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়।বছরের পর বছর চাষাবাদ করতে না পারায় জলাবদ্ধতা এলাকার মানুষের গলার কাটা হয়ে দাড়ায়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ বিগত ১২ বছর যাবৎ দাবী করে আসলেও দ্রুত পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা হয়নি। চলতি বছর ঘূর্নিঝড় ইয়াসের প্রভাবে এলাকার জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। এই অবস্থায় এলাকাবাসীর দাবীর মুখে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন লাভলু ভেঙ্গে যাওয়া ব্রীজের বিধ্বস্ত পাইপ অপসারন করে জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ নেয়। পরে স্তানীয় সংসদ সদস্যের সাথে আলোচনার মাধ্যমে কিছু আর্থিক বরাদ্ধ নিয়ে এবং ইউনিয়ন পরিষদ ও জনগনের সহায়তায় গত সোমবার থেকে শুরু করে পাইপ বসানোর কাজটি সম্পন্ন করেছেন। ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে শাকবাড়ীয়া খালের বড়ব্রীজ নামক স্থানে বিশাল আকৃতির দুটি পাইপ বসানো হয়েছে। এ কাজে ০৭ গ্রামের কয়েকশত কৃষক ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশ নেয়। ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন লাভলু জানান, মহারাজপুরের শাকবাড়ীয়া খালের উপর একটা ব্রিজ ছিল। কিন্তু ২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্নিঝড় আইলার সময় সেটি ভেঙ্গে যায়। এতে উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে এলাকা রক্ষায় বাঁধ দেওয়া হয়। এতে বিকল্প পথে পানি নিস্কাশন হতে দীর্ঘ সময় লাগার কারনে ধীরে ধীরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তবে ওই রাস্তা দিয়ে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের মানুষ ও কয়েক হাজার গাড়ী প্রতিদিন চলাচল করায় বিকল্প বাঁধ কাটা সম্ভব হয়নি। ব্রিজটি মেরমত ও পুনর্মানের জন্য বার বার আবেদন করা হলেও বিগত সংসদ সদস্য কোন গুরুত্বই দেননি। পরে উপজেলা পিআইও অফিসে যোগাযোগ করা হলেও কোন কাজ হয়নি। ব্রিজ ভেঙ্গে যাওয়ার পর খালে আগে যে পানি নিষ্কাশনের সিমেন্টের পাইপটা ছিল সেটা নষ্ট হয়ে যায়। কাশিয়াবাদ ও হোগলা স্লুইচ গেইটের বাঁধ থাকার পরেও ইয়াসের সময় বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি ঢোকে।এতে জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। বন্ধ হয়ে যায় এলাকার ০৭ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের ধান ও চিংড়ি চাষ। দীর্ঘ ১২ বছর যাবৎ এলাকার মানুষ এ দুরাবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। বিষয়টি জানতে পেরে বর্তমান সংসদ সদস্য মো: আকতারুজ্জামান বাবু ব্রিজটি নির্মানের জন্য প্রকল্প দিয়েছেন। ৪০ মিটার একটা ব্রিজ হবে এলজিইডির মাধ্যমে। ইতিমধ্যেই প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। কিন্তু করোনা ও লকডাউনের কারনে সেটি নির্মানে বিলম্ব হচ্ছে।এতে মানুষের দূর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। এ অবস্থার অবসানে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে তহবিল থেকে কিছু টাকা বরাদ্ধ দেন। পরে সাংসদের নির্দেশনা ও আর্থিক সহায়তা এবং এলাকাবাসীর সহযোগীতায় পাইপ বসানো সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ইউনিয়ন পরিষদের টাকা ও স্থানীয় মানুষের অনুদানে এ কাজ করেছেন।একাজে বাঁশ, বালি ও পাইপসহ এক লাখ টাকার অধিক খরচ হয়েছে। সংসদ সদস্য অর্ধেক টাকা দিয়েছেন এবং বাকী টাকা স্থানীয়ভাবে ম্যানেজ করা হয়েছে। এ পাইপ বসানোর ফলে এলাকার সরাপপুরের বিল, মঠবাড়ি বিল, কালনা বিলসহ ৭/৮টা বিলের ০২ হাজার একর জমির জলাবদ্ধতা দুর হবে। ফলে এলাকার কৃষক ও সাধারন মানুষ ধান ও চিংড়ীসহ চাষাবাদ করতে পারবে বলে আশা করনে তিনি।

ভুক্তভোগী মঠবাড়ী গ্রামের কোহিনুর আলম মন্টু বলেন, মহারাজপুরের বড় ব্রীজের বাঁধে ছোট একটি পাইপ বসানো ছিল। সেই পাইপ দিয়ে যদিও ৬/৭ গ্রামের আটকে যাওয়া পানি ঠিকমত নিষ্কাশণ হতে পারত না। তারপরেও সেই পাইপটি ভেঙ্গে মাটি পড়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানি সরবরাহ না হওয়ায় বাড়ীর উপরেও পানি উঠে যেত। এমনকি ধান-পাতাও ঠিক মত লাগানো যেত না।আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই কষ্ট ভোগ করতেছিলাম। এখন বড় পাইপ বসানোতে মানুষেমানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হলো। মহারাজপুরের এলাকার কৃষক লিটন সানা বলেন, বর্ষা মৌসুমে ৩/৪ দিন একটানা বৃষ্টি হলে বাড়ীর মধ্যে পানি বেধে যেতো। বাড়ীর ভিটেতেই চাতর তৈরী করে ধান-পাতা ফেলে পাতা বড় করে মাঠে ধান লাগাতাম। গতদিনও বাড়ীর ওপর পানি ছিলো। পাইপ বসানোতে আজ ভিটের ওপর থেকে পানি নেমে গেছে। এখন আমরা আগের মত ঠিকমত চাষাবাদ করতে পারবো।

হায়াতখালী গ্রামের মাছচাষী দেবাশীষ রায় বলেন, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার কারণে জমিতে ঠিকমত ফসল ফলাতে পারতাম না। তাই মাছের ঘের করেছিলাম। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে মাছ চাষেও খুব সমস্যা হতো। পাইপ বসানোতে আমরা স্বস্তি ফিরে পেয়েছি।

সর্বশেষ - জাতীয়