ঢাকামঙ্গলবার , ৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গ্যাজেট
  11. জাতীয়
  12. টাকা-আনা-পাই
  13. দেশ পরিবার
  14. দেশ ভাবনা
  15. দেশ সাহিত্য

মশা নিধন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা অপরিহার্য

মফস্বল সম্পাদক
সেপ্টেম্বর ৭, ২০২১ ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ


দেশে ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩১৫ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। সেই হিসেবে ঘণ্টায় ১৩ জনের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ২৬৫ জন। এরমধ্যে ২৬২ জনই রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম পাঁচদিনে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৪৬০ জনে দাঁড়ায়, একই সময়ে মৃতু্য হয়েছে ৬ জনের।


আমরা মনে করি, সামগ্রিকভাবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আমলে নিয়ে যত দ্রম্নত সম্ভব প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। করোনাকালের এই ভয়াবহতার ভেতর এডিসসহ সব ধরনের মশা নিধন কার্যক্রম অব্যাহত রাখাও অপরিহার্য। কেননা মনে রাখা দরকার, এর আগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগের হয়ে দেখা দিয়েছিল। একদিকে করোনার আতঙ্ক অন্যদিকে ডেঙ্গু- এমন পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে মশা নিধনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ ও সুষ্ঠু বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে ১১ হাজার ৮১৬ জন। রোববার পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ছিল ১ হাজার ২৮০ জন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ১৩১ জনই রাজধানীর ৪১টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিল। অন্যান্য বিভাগে ভর্তি ছিল ১৪৯ জন।

সঙ্গত কারণেই আমরা মনে করি, ডেঙ্গু রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এ প্রসঙ্গে উলেস্নখ্য, এর আগে করোনার সঙ্গে ডেঙ্গুর ভয়াবহ রূপ নেওয়ার বিষয়টি স্বাস্থ্যমন্ত্রীও জানিয়েছিলেন। ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে সবাইকে সচেতন হওয়ার কথাও বলেছিলেন তিনি। ফলে সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে সার্বিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখা। এটাও উলেস্নখ করা দরকার, এর আগে এডিস মশা নির্মূল করে ডেঙ্গু সহনীয় পর্যায়ে আনতে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দিয়েছিলেন স্থানীয় সরকার, পলস্নী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী। এমনকি যাদের বাসাবাড়িতে বা ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে- এমনটিও জানা গিয়েছিল। আমরা বলতে চাই, সামগ্রিক পরিস্থিতি আমলে নিতে হবে এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় রেখে এর পরিপ্রেক্ষিতে করণীয় নির্ধারণ সাপেক্ষে সুষ্ঠু বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। এটা ভুলে যাওয়া যাবে না, করোনার প্রকোপে বিপন্ন হয়েছে জনজীবন। ফলে যদি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে, তাহলে এর চেয়ে উদ্বেগের ঘটনা আর কী আছে! আমরা মনে করি, নগরবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে। বালতি, বোতলে কিংবা কোনো পাত্রে পানি যেন জমতে না পারে এজন্য কর্তৃপক্ষ ও নাগরিকদের খেয়াল রাখতে হবে। এ ব্যাপারে নগরবাসীকে সচেতন করার জন্য প্রয়োজনে প্রচার-প্রচারণা আরও বাড়াতে হবে।

সর্বোপরি বলতে চাই, দুই দশকের বেশি সময় ধরে দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব চলছে। তথ্য মতে, ২০১৯ সালে বাংলাদেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা এর আগের সব বছরের রেকর্ড ছাড়ায়। ওই বছর এক লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিল। পরের বছর তা অনেকটা কমে আসায় হাসপাতালগুলোতে ১ হাজার ৪০৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিল। তবে চলতি বছর এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্তের ঘটনা। ফলে করোনাভাইরাস মোকাবিলার পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ডেঙ্গু রোধেও সর্বাত্মক প্রচেষ্টা জারি রাখা বাঞ্ছনীয়। করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময় মশার উপদ্রব রোধ করা না গেলে পরিস্থিতি আরও বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে এমন আশঙ্কা অমূলক নয়।

সর্বশেষ - সোশ্যাল মিডিয়া