1. ayanabirbd@gmail.com : deshadmin :
  2. hr.dailydeshh@gmail.com : Daily Desh : Daily Desh
  3. Khulnabureaudesh@gmail.com : Khulna bureau : Khulna bureau
শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২০, ০৩:২২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ
সাবেক মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান মৃত্যুর ঘটনাঃ ওসি প্রদীপসহ সাত পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত নোয়াখালী’র সুবর্ণচরে কৃষক হত্যার ঘটনায় মামলা, আটক-৩ করোনা উপসর্গ নিয়ে কন্ঠশিল্পী রিটনের মৃত্যু ভাসছে চাঁদপুর শহর বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি; ২০ জেলে উদ্ধার উপজেলা চেয়ারম্যান শিশিরকে স্বপদে বহালের দাবীতে কচুয়ায় মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করোনার মধ্যে অফিস খুলে দিয়ে মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছেঃ রিজভী বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ তিনজনকে সোনারগাঁয়ে সংবর্ধনা কোস্টগার্ডের অভিযানে টেকনাফ নাফনদীর জইল্যাদিয়া দ্বীপ হতে ৮০ হাজারইয়াবা উদ্ধার মাটিরাঙ্গায় পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু

মশলার বাজারে আগাম উত্তাপ

হাসান মাহমুদ রিপন
  • আপডেট টাইম :: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২০

ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে পোশাকের দোকানের ভিড়টা তেমন না জমলেও জমেছে মসলার বাজারে। কারন এবারের ঈদে নানা রকম মসলা তো চাই-ই। কোরবানির ঈদ আসতে আর মাত্র ০৫ দিন বাকি। কিন্তু পাইকারী ব্যবসায়ীরা এবারে আগাম প্রায় এক মাস আগেই বাড়িয়ে দিয়েছেন মশলার দাম। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।


ঈদের পূর্ব মুহুতেই দাম বাড়ালে প্রশাসনের নজরে পড়তে পারে এমন ধারনা থেকেই ব্যবসায়ীরা আগেভাগেই মসলার দাম বাড়িয়েছেন বলে ভোক্তাদের অভিযোগ।

ঈদ যত এগিয়ে আসছে মসলার বাজার তত গরম হয়ে উঠছে। সাধারণত কোরবানির ঈদে মসলার চাহিদা বেশি থাকে। এ সুযোগ কাজে লাগান কিছু মুনাফালোভী ও সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ী। তাই পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দাম বেড়েছে প্রায় সব ধরনের মসলার। কোরবানির অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ পেঁয়াজ, আদা, রসুন, শুকনা মরিচ, জিরা, দারুচিনি ও জয়ত্রীসহ প্রায় মসলা পণ্যের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে আমদানিকৃত মসলা পণ্য এলাচের দাম। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে পাইকারি বাজারে মূল্য বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। তবে পাইকাররা বলছেন উল্টো কথা। দাম বাড়ার কোনো খবরই নেই তাদের কাছে। মসলার মজুদ পযার্প্ত, আগামীতেও দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই বলে দাবি তাদের। রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

মসলার বাজারকে রীতিমতো অস্থির করে তুলেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। কয়েক মাস ধরে ক্রমে বাড়ানো হয়েছে পেঁয়াজ, আদা-রসুন, এলাচ, দারুচিনি, চিকন জিরাসহ বেশ কিছু মসলার দাম। আমদানিকারকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মসলা পণ্যের বুকিং দর বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। তবে সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কিছু মুনাফালোভী ও সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ী কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে অতিরিক্ত মুনাফা করতেই মসলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এদিকে খুচরা ব্যবসায়ীরা মসলার বাজার চড়ে যাওয়ার জন্য পাইকারি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে দায়ী করেন।

ক্রেতারা বলছেন, সপ্তাহখানেক আগেও মসলার দাম কমতির দিকে ছিল। কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসায় মসলা জাতীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। রাজধানীর শাজাহানপুরের বাসিন্দা লিটন ব্যাপারী বলেন, ‘কোরবানি আসছে, এ কারণে ব্যবসায়ীরা মসলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।’

আবার বিক্রেতারা বলছেন, নতুন করে বেড়েছে লবঙ্গ, এলাচ ও দারুচিনির দাম। রাজধানীর কাওরান বাজারে মসলা ব্যবসায়ী আবদুল হাকিম বলেন, ‘গত ৮ জুলাই থেকে মসলার দাম চড়া।’  তিনি বলেন, ‘তিন ধরনের মসলাÑ লবঙ্গ, এলাচ ও দারুচিনির দাম বাড়তি।’ তিনি উল্লেখ করেন, এলাচের দাম কেজিতে বেড়েছে ৩’শ টাকা পর্যন্ত। লবঙ্গের দাম কেজিতে ২’শ টাকা এবং দারুচিনির দাম কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা পর্যন্ত।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সারাবছরই মসলার চাহিদা থাকে। তবে কোরবানি আসলে এর চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দারুচিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪’শ থেকে ৪৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা। এলাচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২’শ থেকে ৩৬’শ টাকা, যা চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ছিল ২৮’শ থেকে ৩২’শ টাকার মধ্যে। লবঙ্গ’র কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮’শ থেকে ১ হাজার টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭’শ থেকে ৮’শ টাকার মধ্যে। তবে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমেছে পেঁয়াজ-রসুন ও আদার দাম। কেজিতে পাঁচ টাকা কমে দেশি ও আমদানি করা সব ধরনের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। আমদানি করা আদা ১০ টাকা কমে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, দেশি ১’শ থেকে ১৩০ টাকায়, রসুন ১০ টাকা কমে দেশি ৮০ থেকে ১’শ টাকা এবং আমদানি করা ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) প্রতিবেদনেও এলাচ ও লবঙ্গের দাম বাড়ার তথ্য উঠে এসেছে। টিসিবি’র হিসাবে গত পনের দিনে এলাচের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ। লবঙ্গের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ২৩ শতাংশ। গত এক বছরে দারুচিনির দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশ।

এদিকে মহামারি করোনার প্রকোপে এমনিতেই মানুষের আয় কমেছে। বেকার হয়েছেন অনেকে। এই পরিস্থিতিতে মসলার পাশাপাশি সবজির দামও বাড়ছে।

রাজধানীর মুগদা এলাকার মুদি ব্যবসায়ী রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে গত প্রায় মাস খানেক ধরে মসলার দাম চড়া। আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই বিক্রিও বেশি দামে করতে হচ্ছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে মৌলভীবাজার থেকে মসলা কিনেছিলাম। আগের তুলনায় এলাচি ২’শ টাকা বেশি দামে কিনতে হয়েছে। এ ছাড়া জিরা, গোল মরিচসহ সব ধরনের মসলার দাম বেড়েছে। আদা, রসুন ও পেঁয়াজের দামও বাড়তির দিকে।’ ঈদের আগে দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও জানান এ খুচরা ব্যবসায়ী।

দাম বাড়ার বিষয়ে মৌলভীবাজারের পাইকারি মসলা ব্যবসায়ী হাজী মো. আলাউদ্দিন বলেন, মসলার দাম ওঠা-নামা করে বুকিং ফি’র ওপর। আন্তর্জাতিক বাজারে মসলার দাম বাড়লে এখানেও মসলার দাম বাড়ে। মসলাপণ্যে সাধারণত কোনো রকমের সিন্ডিকেট হয় না। মসলা আইটেম যে যার মতো করে আমদানি করে বিক্রি করেন। আর এই পণ্যগুলোর দাম ওঠানামা করে। এই ব্যবসায়ী বলেন, গত এক মাস ধরে পাইকারি বাজারে আমদানিকৃত বেশিরভাগ মসলাপণ্যের বাজার কিছুটা অস্থির। পেঁয়াজ, রসুন, হলুদ, আদা, মরিচ ও ধনিয়াসহ দেশীয় মসলা পণ্যের উৎপাদন কমে আমদানি নির্ভরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। অন্যান্য আমদানি নির্ভর মসলার দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং দর বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, কারণ বাংলাদেশে ক্রেতাবান্ধব বাজার পরিস্থিতি নিশ্চিত নয় এখনো। আর ঈদুল আযহার সময় বাজারে মশলার দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তারা বলছেন, পর্যাপ্ত বাজার তদারকি না থাকায় ঈদের আগ মুহুর্তে অন্যান্য বারের মতো মশলার বাজার লাগামহীন হয়ে গেছে বলে অভিযোগ।

এদিকে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে মসলা জাতীয় পণ্য আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সভাশেষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শি অবশ্য বলেছিলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য, সরবরাহ ও মজুদ পরিস্থিতি তদারকি জোরদার করার জন্য ঢাকাসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। যাতে কোনো পণ্যের কৃত্রিম সংকট না হয় বা মূল্যবৃদ্ধি না পায় সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকতে বলা হয়েছে।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে মসলা কিনতে আসা মো. আতাউর রহমান বলেন, ঈদের সামনে মসলার দাম বাড়ায় আমরা সাধারণ ক্রেতারা বিপাকে পড়েছি। কোনো উৎসব এলে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে মসলার দাম বাড়িয়ে দেন। ঈদকে কেন্দ্র করে জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোটা ব্যবসায়ীদের একটা অপকৌশল। আর আমরা সাধারণ ক্রেতারা বাড়তি দাম দিয়ে তাদের অপকৌশলের বলি হই।

অভিযোগ রয়েছে চাক্তাই খাতুনগঞ্জের পাঁচ আমদানিকারকের কারসাজিতেই অস্থির মসলার বাজার। মূলত দেশের অন্যতম প্রধান চট্টগ্রামের এই বৃহত্তম পাইকারি বাজার থেকেই সারা দেশে মসলা সরবরাহ করা হয়। এই পাঁচ ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেটই মূলত গরম মসলা আমদানির সঙ্গে জড়িত। পরে এদের কাছ থেকে পাইকাররা সারা দেশে পণ্য সরবরাহ করেন। ফলে এই আমদানিকারকরা যে দাম নির্ধারণ করে দেন, তার ওপরই নির্ভর করে দেশে মসলা জাতীয় পণ্যের খুচরা পর্যায়ে দাম কতটা বাড়বে। অনুসন্ধানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

মসলার বাজারকে রীতিমতো অস্থির করে তুলেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। গত কয়েক মাস ধরেই ক্রমে বাড়ানো হয়েছে পেঁয়াজ, আদা-রসুন, এলাচ, দারুচিনি, চিকন জিরাসহ বেশ কিছু মসলার দাম। কিছু মুনাফালোভী ও সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ী কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে অতিরিক্ত মুনাফা করতেই মসলার দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এদিকে খুচরা ব্যবসায়ীরা মসলার বাজার চড়ে যাওয়ার জন্য পাইকারি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে দায়ী করেন।

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

@desh.click এর অনলাইন সাইটে প্রকাশিত কোন কন্টেন্ট, খবর, ভিডিও কিংবা ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা দন্ডনীয় অপরাধ।

নামাজের সময়সূচীঃ

    Dhaka, Bangladesh
    শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২০
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৪:১০
    সূর্যোদয়ভোর ৫:৩১
    যোহরদুপুর ১২:০৪
    আছরবিকাল ৩:২৯
    মাগরিবসন্ধ্যা ৬:৩৭
    এশা রাত ৭:৫৮

@ স্বত্ত দৈনিক দেশ, ২০১৯-২০২০

সাইট ডিজাইনঃ টিম দেশ