ঢাকামঙ্গলবার , ৩১ আগস্ট ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গ্যাজেট
  11. জাতীয়
  12. টাকা-আনা-পাই
  13. দেশ পরিবার
  14. দেশ ভাবনা
  15. দেশ সাহিত্য

ব্রীজ আছে, রাস্তা নেই


ব্রীজ নির্মাণের দুই বছর অতিবাহিত হলেও দুপাশে মাটি ভরাটসহ সংযোগ সড়ক না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে দুটি উপজেলার ৮-১০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ।



মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা ও কুলাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী বাড়ইগাঁও এলাকায় জনদুর্ভোগ লাঘবে পলক নদীর উপরে একটি ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে। ব্রীজটি নির্মাণ করা হলেও ব্রীজের দুপাশে ও রাস্তায় মাটি ভরাট না করার কারণে ওই ব্রীজটি এলাকাবাসীর কোনো কাজেই আসছে না।


ব্রীজের উপরে উঠতে হলে উঁচু কিছু ব্যবহার করতে হয়। অপরদিকে ব্রীজের কমলগঞ্জ উপজেলা অংশের সংযোগ রাস্তা না থাকায় দুই বছরেও উপজেলার মানুষের ভোগান্তির অবসান হয়নি। রাস্তার অভাবে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারন মানুষ।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের বাড়ইগাঁও এলাকায় ব্রীজের উভয় পাশে ও রাস্তায় মাটি ভরাট না থাকায় ব্রীজটি চলাচলের অনুপযোগী। কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের বাগজুর নালার উপর কালভার্ট না থাকার কারনে সংযোগ সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পরিতক্ত অবস্থায় আছে। গত ২ বছর পূর্বে দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী মানুষের সুবিধার জন্য ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল।


জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের বাড়ইগাঁও এলাকায় পলক নদীর উপরে প্রায় ২৯ লক্ষ টাকা ব্যায়ে একটি ব্রীজ নির্মাণ করা হয়। দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার হাজার হাজার মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করে কৃষি কাজসহ বিভিন্ন কাজে আসা যাওয়া করেন। ব্রীজের দুই পাশের রাস্তা মেরামত, পলক নদী ও বাগজুর নালা খনন করা হলে এলাকার ইয়াওয়ের বন থেকে কয়েক হাজর হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা যাবে।


স্থানীয়রা জানান, ব্রীজ থাকলেও রাস্তা না থাকায় তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে তিন-চার কিলোমিটার পথ উল্টো ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। ব্রীজের একপাশে রাস্তা না থাকায় ও বাগজুর নালার উপর সংযোজন না থাকার কারণে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের চলাচলে চরম অসুবিধা হচ্ছে। বছর ঘুরে আবারও বর্ষা আসলো কিন্তু ব্রীজের মাটি ভরাট হল না। ফলে ব্রীজের সংযোগ রাস্তায় মাটি ভরাট না করায় দুর্দশার মধ্যে দিয়ে মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে।


পতনঊষার ইউপির আফছলগতি, মিনারাই গ্রামের দুলাল আহমদ চৌধুরী, আব্দুল মোহিত হাসানী বলেন, এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি ছিল ব্রীজ, কিন্তু ব্রীজ নির্মিত হলেও এর কোন সুফল আমরা পাচ্ছি না। রাস্তা না থাকায় রোগী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াত দুরহ হয়ে পড়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মাটি ভরাট না করেই চলে যায়। হাজীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা জুনেদ আহমদ জানান, পলক নদীর উপর ব্রীজ আছে কিন্তু রাস্তা নেই। ব্রীজের উভয় পাশে মাটি না থাকায় আমারা আসা যাওয়ার করতে পারিনা।


মাটি ভরাটের বিষয়ে হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আব্দুল লতিফ চৌধুরী বলেন, ব্রীজের কাজ শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আমি একাধিকবার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও আমার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে ব্রীজে মাটি ভরাটের জন্য অনুরোধ করেছি। উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্ত আমাকে সবসময় বলেন ব্রীজের ঠিকাদার মাটি ভরাট করে দিবে। সামান্য মাটি ভরাটের জন্য ব্রীজ দিয়ে মানুষ চলাচল করতে পারছেন না।


হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু বলেন, গত বছর ব্রীজ ও রাস্তায় মাটি দিয়েছি, একসাথে মাটি ভরাট করলে মাটি পড়ে যায়। আমার সময়ে যদি সুযোগ পাই তাহলে আবার মাটি ভরাট করে দিব। মাটি ভরাটের বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শিমুল আলী বলেন দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থাকায় ঠিকাদার কাজ শেষে মাটি ভরাটের সময় জায়গার মালিকেরা আপত্তি দেন এ জন্য পর্যাপ্ত মাটি ভরাট করা যায়নি।


বাগজুর নালা ও রাস্তার বিষয়ে পতনঊষার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার তওফিক আহমেদ বাবু বলেন, পলক নদী ও বাগজুর নালা খনন করা হলে এই এলাকার আমুল পরিবর্তন আসবে। হাজার হাজার হেক্টর জমিতে কৃষক আমন ও বোরো চাষ করতে পারবে। বাগজুর নালায় একটি কালভার্ট স্থাপন করলে সহজেই দুই উপজেলার মানুষ আসা যাওয়া করতে পারবেন। পলক নদী ও বাগজুর নালা খননসহ সার্বিক বিষয়ে এলজিইডি’র কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের জন্য প্রথমিক একটি তথ্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ - সোশ্যাল মিডিয়া