ঢাকাশুক্রবার , ২৭ আগস্ট ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গ্যাজেট
  11. জাতীয়
  12. টাকা-আনা-পাই
  13. দেশ পরিবার
  14. দেশ ভাবনা
  15. দেশ সাহিত্য

বিদেশে মোড়া রপ্তানির সুযোগ চায় বিউটি

আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা প্রতিনিধি
আগস্ট ২৭, ২০২১ ৬:৫০ অপরাহ্ণ


বেলা প্রায় শেষের দিকে আধার আর আলোর ছুটাছুটি চলছে। অল্প আলোতেও ঠিক দেখা যায় বাঁশ আর বেতের মধ্যকার হাতের কারুকাজ। কাজের মধ্যেই বিনিময় হয় জীবনের গল্প কাহিনী। এক একটি বেত আর বাঁশের মিলনের মধ্যে গাঁথা রয়েছে নিজের ইতিহাস আনন্দ আর সুখ দুঃখের কাহিনী।


পাহাড়ের বেশিরভাগ মানুষের অবস্থান দারিদ্র্যসীমার নিচে। সেখানেই মোড়া তৈরি করে টেনেটুনে চলা সংসারে আর্থিক স্বচ্ছলতা এনেছেন নারীরা। কোনো ধরনের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই পাহাড়ের এসব পল্লীতে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট কুটির শিল্প। নতুন ঘর করার পাশাপাশি স্বামী সন্তান নিয়ে সুখেই আছেন সবাই।

বলছিলাম খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার হাতিয়া পাড়ার দরিদ্র পরিবারের মেয়ে বিউটির কথা। তার বাবা মাটিরাঙ্গায় পাকা কলা বিক্রি করেন। দীর্ঘ বছর ধরে তিনি এ ব্যাবসা করে আসছেন। অভাব, অনটন,টানাপোড়ন আর দরিদ্রের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে চলছে তার সংসার। এরই মধ্যে বিউটিকে পাত্রস্থ করেন তিনি। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, বিয়ের ৩বছরের মাথায় স্বামীর সাথে ডিভোর্স হয় তার। এর পরেও তাতে দমে যান নি বিউটি। সংসার জীবনের ব্যার্থতার দিকে না তাকিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যমতা অন্তরে পুষে আবার মোড়া বানানো শুরু করেন সে।

এর পর থেকে অদ্যাবধি ১১বছর ধরে মোড়া বানিয়ে বাবার সংসারের হাল ধরেন বিউটি সাথে নিজের ভবিষ্যৎ উজ্জল করার দৃঢ় প্রত্যায়,সে এখন খাগড়াছড়ি অনলাইন বাই এন্ড সেলারে যুক্ত হয়ে নিজের বানানো বিভিন্ন ডিজাইনের মোড়ার ছবি দিয়ে কাঙ্ক্ষিত মোড়ার অর্ডার নিশ্চিতকরে মোড়া বিক্রয় করেন। বিউটির স্বপ্ন তার মতো অসহায়দের মোড়া বানানোর ফ্রি প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের কে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চান। হতে চান একজন সফল উদ্যেক্তা।  বিউটি বলেন,স্বামীর সাথে ডিভোর্স হবার পর নিজেকে প্রতিষ্ঠিত হবার আত্মপ্রত্যয় ছিল আমার। পৃথিবীতে কোন কিছুই অসম্ভব নয় যদি উদ্যমী ও সৎ সাহস থাকে। আমি চাই আমার হাতে বানানো মোড়া পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ুক। আমি সুযোগ পেলে বিদেশে মোড়া রপ্তানি করতে চাই।

বিউটির মা সাজেদা আক্তার জানান,আমি ২০ বছর ধরে মোড়া বানিয়ে সংসার চালাই। ৬ সদস্যের পরিবারের ভরণ পোষণ,মেয়ের বিবাহ এবং লেখাপড়া যাবতীয় ব্যায় মোড়া বিক্রির আয় থেকেই বহন করি। স্বচ্চলভাবে চলফেরা করতে আমি এ কাজটাকে পেশা হিসেবে বেচে নিয়েছি। এ কাজে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও অংশগ্রহণ করে। প্রতি সাপ্তাহে ৬/৮ টি মোড়া বানানো যায়। মাসে সর্বসাকুল্যে বানানো যায় ৩০ টি। প্রতি মোড়া ৪শত টাকা থেকে শুরু করে ডিজাইন ও মান অনুযায়ী ২হাজার টাকা বিক্রি করা হয়। আমাদের পাশাপাশি পরিবারে অন্যান্য সদস্যরাও এ কাজটি করতে পারে। আমরা অহেতুক অলস সময় নষ্ট করিনা,যেহেতু ঘরে বসেই মোড়া বানানোর কাজটা করা যায়,সেহেতু আমরা অবসর সময়টাকে কাজে লাগাই। বর্তমানে আমি অসুস্থ বিধায় আমার বড় মেয়ে বিউটি নিয়মিত এসব করে। সরকারি সহযোগীতা কখনোই পাই নি,সরকারি কোন সহযোগীতা পেলে আমার মেয়ে আরো ভাল কিছু করতে পারবে। তিনি আরো জানান,বর্তমানে মোড়া বানানোর কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি হওয়াতে তাদের ব্যাবসা তুলনামুলক কম হয়। বাঁশের দাম বৃদ্ধি এছাড়াও মোড়া বানাতে টায়ার লাগে যার দাম আগের দামের চেয়েও দ্বিগুণ।


নারীদের তৈরি মোড়া বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করে থাকেন স্থানীয় পাইকাররা। বিপণন প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় দরুন প্রায় প্রতিটি ঘরেই বাড়ছে মোড়া তৈরির কাজ। তাছাড়া পাহাড়ের এসব নারীদের নিপুন হাতে তৈরি এসব মোড়া ইতোমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছে সমতলের জেলা গুলোতে।

স্থানীয় মোড়া ব্যাবসায়ী দেলোয়ার হোসেন জানান,আমি এসব এলাকা থেকে পাইকারি দরে মোড়া ক্রয় করে থাকি। প্রতি গাড়িতে ২’শ জোড়া মোড়া সহ সাপ্তাহে একটি গাড়ি লোড দেয়া যায়। প্রতি জোড়া মোড়া তার মান অনুযায়ী ৪শত টাকা থেকে শুরু করে ১২শত টাকা ক্রয় করি। গড়ে প্রতি জোড়া মোড়ায় ২০/৩০ টাকা করে লাভ করে থাকি। লকডাউনে ব্যাবসায় লোকসান হয়েছে। এখন সেটা পুষিয়ে তোলার চেষ্টা করছি। আমি এখান থেকে মোড়া ক্রয় করে ফেনি,চট্রগ্রাম,কুমিল্লা,ব্রাহ্মণবাড়িয়া,ঢাকা এসব স্থানের ব্যাবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে থাকি।  তবে চট্রগ্রামের হাটহাজারি,বিবির হাট, এসব স্থানর মোড়ার চাহিদা ব্যাপক।

মাটিরাঙ্গা পৌরসভার কাউন্সিলর মো. আলাউদ্দিন লিটন বলেন,যথাযথ প্রশিক্ষণসহ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে শিল্পটি পাহাড়ের একটি সম্ভাবনাময় হিসেবে গড়ে উঠবে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা (অ.দা) হেদায়েত উল্যাহ্ বলেন,নিজেদের আর্থিক স্বচ্ছলতায় ভূমিকা রাখা এসব নারীদের ঋণ প্রদানসহ মোড়া শিল্পকে এগিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ - সোশ্যাল মিডিয়া