ঢাকাসোমবার , ১২ জুলাই ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আবোল-তাবোল
  5. উদ্যোক্তা
  6. উপসম্পাদকীয়
  7. এক্সক্লুসিভ
  8. কলাম
  9. ক্যারিয়ার
  10. খেলার মাঠ
  11. গ্যাজেট
  12. জাতীয়
  13. টাকা-আনা-পাই
  14. দেশ পরিবার
  15. দেশ ভাবনা

বাগেরহাটে টিকার লাইনে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই

মোঃ কামরুজ্জামান, বাগেরহাট প্রতিনিধি
জুলাই ১২, ২০২১ ৮:৪১ অপরাহ্ণ


বাগেরহাটে টিকা নিতে লম্বা লাইন, স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই । সকাল থেকে লম্বা লাইনে দাড়িয়ে আছে টিকা নেওয়ার জন্য নারী পুরুষ। বাগেরহাটে করোনা সংক্রামণ বেড়ে যাওয়ায় কারনে আজ সোমবার (১২ জুলাই) সকাল থেকেই বাগেরহাট সদর হাসপাতাল টিকা কেন্দ্রে টিকা নিতে আগ্রহীদের ব্যাপক ভীড় লক্ষ্য করা গেছে।


টিকা নিতে আগ্রহীদের ভীড়ের কারনে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমসিম খাচ্ছে রেড ক্রিসেন্ট ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা। সকাল থেকে লাইনে দাড়িয়ে অনেক বয়স্ক ও বৃদ্ধরা অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন। তবে এদিন টিকা নিতে আগ্রহীদের মধ্যে ছিলো না কোন স্বাস্থ্যবিধি।

টিকা নিতে আসা জেলার সদর উপজেলা তালেশ্বর গ্রাম থেকে রুমিসা বেগম বলেন, সকাল ৮টা থেকে লাইনে দাড়িয়ে আছি। প্রচন্ড গরমে ৪ ঘন্টা দাড়িয়ে থেকে আমি অসুস্থ্য হয়ে পড়েছি। এখনও আমি টিকা পায়নি। বাগেরহাট শহরের আমলাপাড়া এলাকার শিক্ষক আবুল হাসনাথ স্বপন বলেন, সকাল ৯টায় সময় এসেছি। এখানে অনেক বয়স্ক ও বৃদ্ধরা রয়েছে, যারা দীর্ঘক্ষন লাইনে দাড়িয়ে থেকে অসুস্থ্য হয়ে পরেছে। এখানে পানির ব্যবস্থাও নেই। বাগেরহাট শহরের খারদ্বার এলাকার হায়দার পাইক বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাড়িয়ে আছি, কখন টিকা পাবো জানিনা। এখানে এত ভীর আমরা বাধ্য হয়ে একজন অপরজনের গা’ঘেসে দাড়াতে বাধ্য হচ্ছি।

এদিকে, বাগেরহাটে গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় ৭৩৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে ১৯৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদিন জেলায় করোনা সংক্রামণ হার ছিলো ২৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এনিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪ হাজার ৭৬১ জন। করোনা থেকে মোট সুস্থ্য হয়েছেন ৩ হাজার ২৫১ জন। বর্তমানে বাগেরহাটে ৭০ বেডের করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ৫৮ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এনিয়ে জেলায় সরকারী হিসেবে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু সংখ্যা দাঁড়ালো ১০২ জন। সোমবার জেলায় নতুন করে করেনা আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছে, সদর উপজেলায় ১৩৩ জন, ফকিরহাটে ২১ জন, কচুয়ায় ১৫ জন, মোংলায় ১৪ জন, শরণখোলায় ৫ জন, রামপালে ৪ জন মোরেলগঞ্জে ৩ জন ও চিতলমারী উপজেলায় ১ জন।

বাগেরহাট সিভিল সার্জন ডা. কে,এম হুমায়ুন কবির বলেন, গত ১৭ জুন জেলায় চীনের সিনোফার্ম এর টিকা এসেছিলো ১৬ হাজার ৮০০টি ও গত ৯ জুলাই এসেছে ২৩ হাজার ২০০ টিকা। গত ১৯ জুন থেকে জেলায় সিনোফার্ম এর টিকা দেয়া কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাগেরহাটে দ্বিতীয় ধাপে ১৬ হাজার ৮০০ টিকা এসেছে সেটি শুধুমাত্র পুলিশ, মেডিকেল অফিসার, মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ট, বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর্মীসহ করোনা প্রতিরোধে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবকরা পেয়েছে। এছাড়া গত ৮ জুলাই থেকে জেলায় গনটিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যেটি চলোমান রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ২৩ হাজার ২০০ টিকা জেলার ৮টি উপজেলায় প্রেরণ করা হয়েছে। আগামীদিন থেকে উপজেলা গুলোতে টিকা কার্যক্রম শুরু হবে।


তিনি আরও বলেন, প্রথম টিকার জন্য যারা রেজিষ্ট্রেশন করেছিলো তারা অনেকেই টিকা পাইনি। এছাড়া জেলায় করোনার সংক্রমন উদ্ধগতি ও মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় সাধারন মানুষের মাঝে করোনা ভীতি সৃষ্টি হয়েছে। এ কারনে টিকা নিতে মানুষের ভীর বেড়েছে। টিকা নিতে মানুষের ভীড় বাড়ার কারনে সদর হাসপাতালে করোনা টিকা কেন্দ্রে ২টি বুথ থেকে বৃদ্ধি করে ৫টি করা হয়েছে। এছাড়া ভীর সামলাতে রেডক্রিসেন্ট সদস্যদের পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা কাজ করে যাচ্ছে। সোমবার বাগেরহাটে এক হাজার ছয়শত ২৬ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ - জাতীয়