ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৬ আগস্ট ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গ্যাজেট
  11. জাতীয়
  12. টাকা-আনা-পাই
  13. দেশ পরিবার
  14. দেশ ভাবনা
  15. দেশ সাহিত্য

দেওয়ানগঞ্জে নদী ভাঙ্গনে বিলীন পাকা সড়ক

ফজলে এলাহী মাকাম, জামালপুর প্রতিনিধি
আগস্ট ২৬, ২০২১ ১:৪৯ অপরাহ্ণ


জামালপুরে ব্রক্ষ্মপূত্র নদের অব্যহত ভাঙনের ফলে আর সময়নুযায়ী পদক্ষেপ না নেওয়ার কারনে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার খোলাবাড়ি এলাকার ৬শ মিটার পাকা সড়ক নদী গর্ভে বিলীন হয়ে উপজেলা শহরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে দূর্ভোগে পড়েছে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা হাজারো মানুষ।



দীর্ঘদিন থেকে জামালপুরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর নদী ভাঙনের কবলে পড়ে নিঃশ হয়েছে হাজারো মানুষ। এবারো উজান থেকে নেমে আসা পানিতে জামালপুরের দেওয়াগঞ্জ উপজেলা ব্রক্ষ্মপূত্র নদে ভাঙ্গনে চিকাজানী ইউনিয়নের দেওয়াগঞ্জ থেকে খোলাবাড়ি সড়কের মন্ডল বাড়ি বাজারের ৬শ মিটার অংশে ভাঙন দেখা দেয়। এতে পৌর শহরের সাথে এই অঞ্চলের সড়ক পথের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে ।

এ বিষয়ে পথচারী লাল মিয়া জানান, এই সড়ক দিয়ে বাহাদুরাবাদ নৌ থানা , মোন্নে বাজার ,ফারাজিপাড়া , কাজলা পাড়া, চর বাহাদুরাবাদ সহ প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি বিগত দুই বছর থেকেই নদীভাঙ্গনের কবলে পড়ে আছে।এই নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে তেমন কোন প্রকার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বাহাদুরাবাদ এলাকার খোরশেদ আলম জানান,গেল বছর ২০২০ সালে প্রথম ভাঙ্গন শুরু হয় । এই বর্ষা মৌসুমের প্রথমে নদী ভাঙ্গন শুরু হলে স্থানীয় ভাবে কিছু বালির বস্তা এবং বাঁশ দিয়ে নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধের কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। কিংবা স্থায়ী ভাবে ভাঙ্গন প্রতিরোধে সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। ফলে যোগাযোগ বিচ্চিন্ন হয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছে এই অঞ্চলের মানুষ।

এ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই অবিরাম বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে এই সড়কটি ভাঙনের কবলে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় । সড়কের এক পাশ দিয়ে যতটুকু মাটি রয়েছে সেখান দিয়ে পায়ে হেটে বহুকষ্টে চলাচল করছে লোকজন । কেউ অসুস্থ হয়ে পরলে হাসপাতালে নেওয়ার কোন ব্যবস্থা নেই । স্থানীয়রা অভিযোগ করে চরম অবহেলা আর অযতেœর কারনে সড়কটি রক্ষার কোন ব্যবস্থা কেউ গ্রহন করেনি । সেজন্য এই জনপদের মানুষের চলাচলের একমাত্র সড়কটি এখন বিচ্ছিন্ন ।

চিকাজানী ইউপি চেয়ারম্যান মোমতাজ উদ্দিন জানান,অনেক চেষ্টা করেও সড়কটিকে ভাঙ্গনে হাত থেকে রক্ষা করা যায়নি।সরকারের এলজিইডি আর পানি উন্নয়ন বোর্ড এই দুই প্রতিষ্ঠানের রশিটানাটানিতেই সড়কটির বেহাল অবস্থা । আমি এই সড়কটির সংস্কাররের জন্য সব দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোন প্রতিকার পাইনি।


দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান হোসেন দেশ কে জানান, দুই বছর থেকে এই সড়কটি নদী ভাঙ্গনের ঝুকিতে ।
গেল বছর তার ব্যাক্তিগত পক্ষ থেকে ৭০ হাজার টাকা দিয়ে স্থানীয়দের দিয়ে বাঁশ ও বালির বস্তা ফেলে ভাঙ্গন প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে এ বছর হঠাৎ করে বৃষ্টির পানিতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি।

এ বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ কে এম আব্দুল্লাহ বিন রসিদ জানান, নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে সড়ক বিচ্ছিন্ন হবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই সড়কটি মেরামত করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এ ব্যাপারে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাঈদ দেশ কে জানান , ভাঙ্গন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে আপদ কালীন বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে নদীর তীর সংরক্ষনে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিয়ে নেওয়া হবে।

সর্বশেষ - সোশ্যাল মিডিয়া