ঢাকাশুক্রবার , ২০ আগস্ট ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গ্যাজেট
  11. জাতীয়
  12. টাকা-আনা-পাই
  13. দেশ পরিবার
  14. দেশ ভাবনা
  15. দেশ সাহিত্য

দাকোপ শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

সুনীল কুমার দাস, ব্যুরো প্রধান (খুলনা)
আগস্ট ২০, ২০২১ ১১:১০ পূর্বাহ্ণ


খুলনার দাকোপ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. অহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শ্রান্তি বিনোদন ভাতা অনুমোদন ও অর্থ প্রদানে সুকৌশলে অনিয়ম-দূর্নীতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।


অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অন্ধকারে রেখে নিজেই অনিয়ম করে শ্রান্তি বিনোদন ছুটি ও ভাতা অনুমোদন দিয়ে টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছেন তিনি। সম্প্রতি ভুক্তভোগী শিক্ষকরা এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের উপপরিচালক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দুদকের বিভাগীয় পরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সীমাহীন অনিয়ম ও দূর্নীতির সুষ্ঠ তদন্ত পূর্বক কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।এদিকে, শিক্ষকদের শ্রান্তিভাতা প্রদানের অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই জেলা শিক্ষা অফিস ও বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে জানা গেছে।


প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের মহাপরিচালক ও শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সচিবসহ বিভিন্ন দপ্তরে দাখিলকৃত শিক্ষকদের অভিযোগে জানা গেছে, ২০১৯ সালের মার্চে দাকোপ উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন মো. অহিদুল ইসলাম। যোগদানের পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ধীরে ধীরে উপজেলার সকল সরকারী ও জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক শিক্ষকদের উপর অনিয়মের খড়গ সম্প্রসারিত করেন। একপর্যায়ে কৌশলে কিছু শিক্ষককে সুবিধা দিয়ে নিজে অর্থ লোপাটের পথ সুগম করেন। পরে সরকারী নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে অনিয়ম ও দূর্নীতিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেন এ শিক্ষা কর্মকর্তা। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নীতিমালা অনুসারে সরকারি ও জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক শিক্ষকরা চাকরিকালীন তিন বছর পরপর সাধারণত শ্রান্তি বিনোদন ভাতা ও ছুটি প্রাপ্ত হন। কিন্তু তিনি শিক্ষা অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের এ নীতিমালাকে উপেক্ষা করে একের পর এক শতাধিক শিক্ষককে অনিয়মের মাধ্যমে শ্রান্তি বিনোদন ভাতার তালিকাভুক্ত করে ছুটি অনুমোদন ও ভাতার অর্থ তুলে নিয়েছেন। তিনি ২০১৯ সালে ৭৫জন শিক্ষককে ১বছর ৭মাস ১৫দিন, ২০২০ সালে ১৬জন শিক্ষককে ২বছর ৭মাস ৩দিন, ২০২১ সালে ৯জন শিক্ষককে ১বছর ১০মাস ২৮দিন এবং একজন শিক্ষককে ১১মাস ৫দিনের ব্যবধানেসহ মোট ১০১জন শিক্ষককে অনিয়ম করে শ্রান্তি বিনোদন ভাতা দিয়েছেন। শিক্ষা অধিদপ্তর ও মন্ত্রনালয়ের নীতিমালা অনুসারে তাঁদের মধ্যে অনেক শিক্ষকের চাকরির বয়স ৩বছরই পূর্ণ ছিল না। আবার অনেকেই আগে বিনোদন ভাতা নিলেও আগের শ্রান্তি বিনোদন ছুটি প্রাপ্তির তারিখ গোপন রেখে পূনরায় অনুমোদন করেছেন।


অভিযোগের সূত্রে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উপজেলার অনেক শিক্ষককে ২০১৭ সালে ১টি এবং শিক্ষা কর্মকর্তা অহিদুল ইসলাম যোগদানের পর ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ২টিসহ মোট ৩বার শ্রান্তি বিনোদন ভাতা প্রদান করা হয়েছে। আর এসব অবৈধ সুবিধা দিতে শিক্ষকদের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে কয়েক লক্ষ টাকা আর্থিক সুবিধা বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা। এছাড়া পূর্বে ভাতাপ্রাপ্ত শিক্ষকদের না জানিয়ে কৌশলে তাদের পূনরায় আবেদন অনুমোদন দিয়ে কয়েক লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন শিক্ষা কর্মকর্তা।যা ভাতাপ্রাপ্ত তালিকাভুক্ত শিক্ষকরা অবগত নয় বলে সাংবাদিকদেরকে জানিয়েছেন তারা।


অপরদিকে, অনৈতিক আর্থিক সুবিধা দিতে রাজী না হওয়ায় উপজেলার অনেক শিক্ষকের চাকুরী ৪বছর পূর্ণ হলেও শ্রান্তি বিনোদন ভাতা প্রদান করা হচ্ছে না। চাকরির বয়স ৪ থেকে ৫ বছর পার করছেন এমন অনেক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তারা শ্রান্তি বিনোদন ভাতা ও ছুটির প্রাপ্তির সময় হলেও তাদেরকে অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না। এক্ষেত্রে আর্থিক সুবিধা দিতে রাজী না হওয়ায় শিক্ষা কর্মকর্তা তাদেরকে বছরের পর বছর বঞ্চিত করছেন। শুধু তাই নয়, সর্ভিস বুক জমা ও গ্রহণকালেও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে টাকা দিতে হয়। চাকরির ভয়ে প্রকাশ্যে অনিয়ম-দূর্নীতির বিষয়ে কিছু বলতে পারছেন না তাঁরা।


গত ৩বছরের বিনোদন ভাতা প্রাপ্তির তালিকা পর্যালোচনা ও অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দাকোপ উপজেলার ৫নং রাজনগর চান্নিরচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুশান্ত কুমার রায় ও তার স্ত্রী একই স্কুলের সহঃ শিক্ষক নীলিমা গাইন, ভিটাভাংগা হরিচরণ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহঃ শিক্ষক পূর্ণিমা রানী সানা ও চুনকুড়ি মধ্যপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহঃ শিক্ষক রঞ্জিতা বৈষ্ণব উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. অহিদুল ইসলামের কর্মকালীন ২বছর ৩মাস সময়ের মধ্যে ২বার শ্রান্তি বিনোদন ভাতা পেয়েছেন। উক্ত ৪জন শিক্ষক জাতীয়করণের তারিখ হতে ৭বছর ৩মাস ১৩ দিনের কর্মকালীন সময়ের মধ্যে ৩বার শ্রান্তি বিনোদন ভাতা পেয়েছেন। সরকারের নীতিমালা সুষ্পষ্ট লংঘন করে শিক্ষা কর্মকর্তা এ অনিয়ম ও দূর্নীতি করেছেন।যার ফলে সরকারের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি ও তহবিল তছরুপ হয়েছে।


এরমধ্যে ২০১৭ সাল থেকে ৩বার শ্রান্তি বিনোদন ভাতা উত্তোলন করা ৫নং রাজনগর চান্নিরচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুশান্ত কুমার রায় মুঠোফোনে বলেন, ‘কোন কোন তারিখে শ্রান্তি বিনোদন ভাতা পেয়েছি সে বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবো না, আমার কিছুই মনে পড়ছে না। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অফিস এ বিষয়ে বলতে পারবে।’ তবে সম্পূর্ণ টাকা তিনি হাতে পেয়েছেন কিনা সে বিষয়ে কোন উত্তর দেননি।


উপজেলার ভিটাভাংগা হরিচরণ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহঃশিক্ষক পূর্ণিমা রানী সানা মুঠোফোনে জানান, ‘২০১৯ ও ২০২১ সালের শ্রান্তি বিনোদন ভাতার বিষয়ে আমি কোন আবেদন করিনি। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। গত রোজার ঈদে আমার ব্যাংক একাউন্টে আমার মূল বেতনের সমপরিমান টাকা আসলে আমি শিক্ষা অফিসে এ বিষয়ে যোগাযোগ করে টাকা ফেরত দেওয়ার চিন্তা ভাবনা করি। আমার মনে হয়েছে ভুল করে আমাকে ঈদের বোনাস দিয়ে দিয়েছে। পরে জানতে পারি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে অনিয়ম করে এ কাজ করা হয়েছে।’


২০১৯ ও ২০২১ সালে ১বছর ১০ মাস ২৪ দিনের মধ্যে শ্রান্তি বিনোদন ভাতা পাওয়া ছন্দা সরকার মুঠোফোনে বলেন, ‘আমার ব্যাংক হিসেবে কখন ভাতার টাকা এসেছে আমি জানি না। আমি ব্যাংক হিসাব চেক করে আপনাকে জানাবো বলে তিনি মুঠোফোনের সংযোগ কেটে দেন।’ শুধু এই চার শিক্ষকই নয় উপজেলার ১১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষকের নামে এভাবে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতি করে চলেছেন শিক্ষা কর্মকর্তা অহিদুল ইসলাম। উপজেলার অনেক শিক্ষক তার কৌশলের কাছে হার মেনে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা দিতে বাধ্য হয়েছে। এভাবেই প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গড়ে তুলেছেন উপজেলাব্যাপী দূর্নীতির সিন্ডিকেট।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, শ্রান্তি বিনোদন ভাতার অনিয়ম ও দূর্নীতির বিষয় জানাজানি হলে শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে উপযুক্ত হয়েও শ্রান্তি বিনোদনভাতা বঞ্চিতরা শিক্ষা কর্মকর্তার অনিয়ম-দূর্নীতির বিুরদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন।ফলে অনিয়মের মাধ্যমে ভাতা গ্রহনকারী বেশ কিছু শিক্ষক তাদের শ্রান্তি বিনোদনভাতার উত্তোলিত অর্থ ফেরতও দিতে শুরু করেছেন।গত ২৪জুন উপজেলার প্রফুল্ল চন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহঃ শিক্ষক মুকুল কুমার সরদার ২০হাজার ৩৬০টাকা ট্রেজারী চালানের মাধ্যমে সরকারী কোষাগারে জমা দিয়েছেন। এছাড়া ২৮ জুন রাজনগর চান্নিরচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুশান্ত কুমার রায় ২২হাজার ৫৫০টাকা ও তার স্ত্রী একই বিদ্যালয়ের সহঃ শিক্ষক নীলিমা গাইন ১৭হাজার ৫৮০টাকা, ভিটাভাংগা হরিচরণ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহঃ শিক্ষক পূর্নিমা রানী সানা ১৫হাজার ১২০টাকা ও চুনকুড়ি মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহঃ শিক্ষক রঞ্জিতা বৈষ্ণব ১৭হাজার ৫৮০টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন বলে জানা গেছে। উপজেলার আরো কয়েকজন শিক্ষক অনিয়মের মাধ্যমে উত্তোলিত শ্রান্তি বিনোদন ভাতার টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া করছেন বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে।


দাকোপ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. অহিদুল ইসলাম অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। ২০১৭ সালে অন্য কর্মকর্তা ছিলেন এখানকার দায়িত্বে।আমি ২০১৯ সাল হতে শিক্ষকদের যেসব শ্রান্তি বিনোদন ভাতার চিঠি ও বিলে স্বাক্ষর করেছি সেগুলোর বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। কারণ আমার অফিসের হিসাব রক্ষক আলী একরাম ও কম্পিউটার অপারেটর শুভেন্দু রায় যা প্রস্তুত করে দিয়েছে আমি সরল বিশ্বাসে সে সব চিঠি ও বিলে স্বাক্ষর করেছি। তারাই শিক্ষকদের সার্ভিসবুক দেখে চিঠি ও বিল তৈরি করেছে। চিঠি ও এসব শিক্ষকদের ভাতা প্রাপ্তির সময় পূর্ণ হয়েছিল কিনা সেগুলো আমি ব্যস্ততার কারণে দেখতে পারিনি। তবে কর্মকর্তা হিসেবে এগুলো দেখা আমার উচিত ছিল। আর এসব ভাতা তৈরীতে শিক্ষকদের নিকট থেকে আমি কোন ঘুষ বা সুবিধা গ্রহন করিনি। আমি খতিয়ে দেখছি কেন এ ধরণের বড় রকমের ভুল হয়েছে এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের হেড ক্লার্ক কাম হিসাব রক্ষক আলী একরামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে এ অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন কথা না বলে সংযোগ কেটে দেন।পরবর্তীতে তার মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর শুভেন্দু রায় এ বিষয়ে বলেন, ‘শ্রান্তি বিনোদন ভাতা দেওয়ার বিষয়ে ২০২১ সালে অল্প কিছু সংখ্যক শিক্ষকের সময় ও তারিখের বিষয়ে ভুল হয়েছে। যেসব শিক্ষকরা শ্রান্তি বিনোদন ভাতার টাকা উত্তোলন করেছে তারা আবার তাদের টাকা ফেরত দিবেন। ইতিমধ্যেই কয়েকজন ফেরত দিয়েছেন। এখানে অনিয়ম দূর্নীতির তো কিছু নেই। অল্প কয়েকটা ভুল হয়েছে টাকা ফেরত দিলেই হবে। আর আমরা কোন শিক্ষকের নিকট হতে কোন ঘুষ গ্রহন করিনি। এটা একেবারেই মিথ্যা কথা।’
খুলনা বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো: মাহবুব এরাহী জানান, তিনি অভিযোগের বিষয়টি অবগত হয়ে জেরা শিক্সা র্মর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য র্দেশনা দিয়েছেন। প্রতিবেদন পেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে যতাযথ ব্যভস্থা নেয়া হবে। তবে উপপরিচালকের দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. ফজলে রহমান জানান, ‘দাকোপ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. অহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এ বিষয়ে বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তদন্ত করে সঠিক ঘটনা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লকডাউনে সীমিত আকারে অফিস খোলারাখা ও একাধিক কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার কারণে অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে আমাদের কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এএসএম সিরাজুদ্দোহাকে আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশনা দিয়েছি। আশা করি খুব শীঘ্রই আমরা তদন্ত করে অনিয়ম ও দূর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারবো।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ.এস.এম. সিরাজুদ্দোহা জানান, ‘দাকোপ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. অহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ আমি পেয়েছি। এছাড়া বিভাগীয় উপপরিচালক মহোদয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে আমরা খুব শীঘ্রই তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তবে লকডাউনের কারণে তদন্ত কমিটি গঠন ও তদন্তের বিষয়ে কিছুটা সময় লাগছে। তবে এখন অফিস খোলা থাকায় খুব শীঘ্রই তিনি নিজেই তদন্ত করবেন। ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান।’


প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক(প্রশাসন) মো. মিজানুর রহমান মুঠোফোনে জানান, ‘দাকোপ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. অহিদুল ইসলাম বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে ইতিমধ্যেই অবগত হয়েছি। অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিুরদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।’
তবে এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলমের কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তার অফিস টেলিফোন নম্বর ৫৫০৭৪৭৭৭ ও মুঠোফোন নম্বর ০১৭০৯৬৩৪৯৫৯ নাম্বারে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ও মুঠোফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তার মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি তার কোন জবাব দেননি।

সর্বশেষ - সোশ্যাল মিডিয়া