ঢাকামঙ্গলবার , ৩১ আগস্ট ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গ্যাজেট
  11. জাতীয়
  12. টাকা-আনা-পাই
  13. দেশ পরিবার
  14. দেশ ভাবনা
  15. দেশ সাহিত্য

তালেবান কি পাকিস্তানকে ক্ষমা করবে

দেশ ডেস্ক
আগস্ট ৩১, ২০২১ ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ

মোহাম্মদ হানিফ


খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। আমাদের পাকিস্তান এবং প্রতিবেশী আফগানিস্তানকে একত্রে আফ-পাক বলা হতো। একসঙ্গে যুক্ত দেশ দুটি একসঙ্গে বাঁচতে ও মরতে গিয়ে সর্বনাশ হলো। আমাদের বলা হয়েছিল, প্রতিবেশী বেছে নেওয়া যায় না। শেখানো হয়েছিল, ভূগোল আমাদের নিয়তি। আসলে ভূ-কৌশলগত তাৎপর্য নিয়ে অনেক কথাই হয়েছে। কিন্তু এসব বলে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী আমাদের এটাই বোঝাতে চেয়েছে যে আমাদের দুর্ভাগা প্রতিবেশীটির কাছ থেকে অনেক সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে।


চার দশকেরও বেশি আগে সোভিয়েতের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আফগান মুজাহিদীনকে আমাদের সাহায্য করতে হবে বলে আমাদের নেতারা গুরুত্ব দিতেন। তাঁদের ভাষ্য ছিল, এটাই হবে পাকিস্তানে কমিউনিজম ঠেকানোর উপায়। এরপর শুরু হওয়া জিহাদ প্রথমবারের মতো আফগানের প্রজন্মকে গৃহহীন করল। আবার এটা পাকিস্তানের কিছু লোককে খুব ধনী বানিয়ে দেয়। একই সঙ্গে সেই সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধ আমাদের নির্দয় সামরিক একনায়কতন্ত্রকে টিকিয়ে রেখেছিল, এমনকি আমাদের কাছে সস্তা এবং উচ্চমানের হেরোইনের বিপুল সরবরাহও এনে দিয়েছিল। তাদের ওই যুদ্ধ আমাদের দেশে ‘কালাশনিকভ সংস্কৃতি’ চালু করেছিল, যা একে অপরকে হত্যার মাধ্যমে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধ নিষ্পত্তির নতুন পথ দেখায়।

সেই যুদ্ধে পাকিস্তানের জয় হয়েছে। আমাদের জেনারেল ও অভিজ্ঞ প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা এখনো এই আত্মম্ভরিতা করতে ছাড়েন না যে ‘আমরা কেবল সোভিয়েত ইউনিয়নকেই পরাজিত করিনি; বরং আমরা কমিউনিজমের সমাপ্তিও এনেছি।’ তবে সোভিয়েত সেনাদের চলে যাওয়ার কয়েক বছর পর শেষ পর্যন্ত যখন বিজয়ী মুজাহিদীনরা কাবুলের ক্ষমতা দখল করে, তখন তারা পাকিস্তানের জন্য ভুল পছন্দ হয়ে ওঠে। দেখা গেল, এত বছর ধরে আমরা যাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি, আশ্রয় দিয়েছি, তারা সত্যিই সত্যি আমাদের খুব বেশি পছন্দ করে না। তাই মুজাহিদীনদের হাত থেকে মুক্তি পেতে আমাদের আরেকটি যুদ্ধ শুরু করতে হয়েছিল।

এর অংশ হিসেবে তালেবান যোদ্ধাদের আমাদের মাদরাসায় পড়ানো হয়েছিল, কখনো কখনো আমাদের অস্ত্র দেওয়া হয়েছিল এবং তারা কাবুলে গিয়ে দুর্বল মুজাহিদীনদের বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়েছিল। তখন তালেবানের বিজয়ে সেখানে শান্তি এসেছিল। ওই সময় তালেবানের গেঁয়ো বিচারব্যবস্থাকেই আমরা ঈর্ষা করেছি, নিজেদের খিলাফত প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা করেছি। কিন্তু কয়েক বছর পর আমরা আরো একবার দেখতে পেলাম, তালেবানও আমাদের এবং আমাদের জীবনযাত্রা পছন্দ করে না। অথচ আমরা তখন তালেবানের ইসলামিক আমিরাতকে স্বীকৃতি দেওয়া বিশ্বের মাত্র তিনটি দেশের মধ্যে একটি ছিলাম। সে সময় একটি পাকিস্তানি ফুটবল টিম আফগানিস্তানে খেলতে গেলে শর্টস ও শার্ট পরার অপরাধে তাদের মাথা মুণ্ডন করে ফেরত পাঠিয়েছিল তালেবান।

এরপর যখন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ভেঙে পড়ে, তখন এই চতুর তালেবানকে নিয়ে কী করা উচিত—এ নিয়ে আমরা চিন্তায় পড়ে গেলাম। তখন আমাদের পশ্চিমাদের দিক থেকে এমন প্রশ্নের মুখে ফেলা হলো যে ‘তোমরা আমাদের সঙ্গে আছ, নাকি ওদের (সন্ত্রাসীদের) সঙ্গে আছ। আর কে না জানে, আমাদের পাশে থাকলে তোমরা কিছু অর্থও পেতে পারো।’

আমরা অবশ্য তখনো তালেবানদের ভালোবাসতাম এবং মন থেকে বিশ্বাস করতাম যে তারা আমাদের চেয়ে ভালো মুসলিম। কিন্তু আমাদের নতুন সামরিক স্বৈরশাসকদের তখন কিছু নগদ অর্থের প্রয়োজনও ছিল। ফলে তালেবানের ওপর বোমাবর্ষণের জন্য আমরা বিমান ঘাঁটিও দিয়ে দিলাম।

এর মধ্য দিয়ে আমরা একদিকে যখন অনুগ্রহের অর্থ কুড়িয়েছিলাম, অন্যদিকে তখন আমরা কিছু তালেবানকে রক্ষা করার চেষ্টাও করেছি। আমরা তাদের এক হাতে পুষ্ট করেছি এবং অন্য হাতে ছুরি মেরেছি। আমাদের সমরবিদরা বলতেন, এটা আমাদের চাতুর্যপূর্ণ কৌশল। এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সাবেক প্রধান ও আফগান জিহাদের অন্যতম স্বতঃপ্রণোদিত চিন্তাবিদ হামিদ গুলের একটি উক্তি মনে করি। তিনি একবার বলেছিলেন, ‘আমরা আমেরিকার সহায়তায় সোভিয়েত ইউনিয়নকে পরাজিত করেছি এবং একদিন বিশ্ব বলবে যে আমরা আমেরিকার সহায়তায় আমেরিকাকেও পরাজিত করেছি।’

আমাদের আশা হচ্ছে, তালেবানকে আমরা যে কষ্ট দিয়েছি, তারা সেটা খুব বেশি মনে রাখবে না। গতবার আমরা যখন তালেবানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলাম, তখন তাদের পাকিস্তানি ভাইয়েরা তালেবান ধাঁচের লড়াইকে আমাদের রাস্তায়, আমাদের মসজিদে ও বিদ্যালয়গুলোতে নিয়ে এসেছিল। আমরা তখন আফগান তালেবানকে ভালো তালেবান এবং পাকিস্তান তালেবানকে খারাপ তালেবান বলে গণ্য করতাম। কিন্তু এই পার্থক্য খোঁজার মধ্য দিয়েই গত ২০ বছরে আফগান যুদ্ধের কারণে আমাদের দেশে ৭০ হাজারের বেশি পাকিস্তানি নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি স্কুলের নিহত ১৩২ জন শিশু রয়েছে।

সম্প্রতি আমাদের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, আফগানরা অবশেষে মানসিক দাসত্বের শিকল ভেঙে দিয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে, আমেরিকার কোনো লজ্জা নেই।

যদিও আমরা আফগানিস্তানে জিতেছি, আমরা অনেকেই আশঙ্কা করছি যে এখন যেকোনো সময় একটি নতুন, আরো মারাত্মক যুদ্ধ শুরু হতে পারে।

লেখক : করাচিভিত্তিক ব্রিটিশ পাকিস্তানি লেখক। তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস রেড বার্ডস
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
ভাষান্তর ও সংক্ষেপণ : আফছার আহমেদ

প্রতিবেদক

সর্বশেষ - সোশ্যাল মিডিয়া

আপনার জন্য নির্বাচিত