ঢাকাবুধবার , ১ সেপ্টেম্বর ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গ্যাজেট
  11. জাতীয়
  12. টাকা-আনা-পাই
  13. দেশ পরিবার
  14. দেশ ভাবনা
  15. দেশ সাহিত্য

তরুণ ক্রিকেটাররা দলের হয়ে আলো ছড়াচ্ছেন

দেশ ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ১, ২০২১ ১:০৩ অপরাহ্ণ


জিম্বাবুয়েতে ২-১-এ সিরিজ জয়ের পর দেশে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দাপটের সঙ্গে খেলে সিরিজ জয় ৪-১ ম্যাচে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে এবারই প্রথম জয়, পাশাপাশি স্মরণীয় সিরিজ বিজয়। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের কার্ডিফে ওয়ানডে এবং ২০১৭ সালে টেস্ট ম্যাচে বিজয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।


পর পর দুটি সিরিজে লক্ষণীয় হলো, তরুণ ক্রিকেটাররা দলের হয়ে আলো ছড়াচ্ছেন। দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। তাঁরা অনেক বেশি অনুপ্রাণিত। তাঁরা মাঠে দলের পারফরম্যান্সের চাহিদা পূরণে এগিয়ে আসতে শুরু করেছেন। তরুণ এবং ইন্টারমিডিয়েটদের আত্মবিশ্বাসের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। তাঁরা বিশ্বাস করছেন, সবাই মিলে দলের জন্য অবদান রাখা সম্ভব। সেই সামর্থ্য তাঁদের আছে। ভেটারসনরা তো তাঁদের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন বছরের পর বছর ধরে। একসময় তাঁরা থাকবেন না, তখন এখন যাঁরা তরুণ তাঁরাই দায়িত্ব নেবেন। এটাই নিয়ম।

জাতীয় দল ভালো একটি সময় পার করছে, এটি গুরুত্বপূর্ণ। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া অনেক বড় বিষয়। বড় লড়াইয়ে নামার আগে মানসিক শক্তির মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করা, জয়ের ক্ষুধায় ভোগা—বিষয়টি আশাব্যঞ্জক। অনুপ্রাণিত দলীয় শক্তির মাধ্যমে অনেক কিছুই অর্জন সম্ভব। বাংলাদেশ জাতীয় দল অতীতে বিদেশের মাটিতে তার প্রমাণ রেখেছে।

খেলার প্রতি ভালোবাসা, প্যাশন, মনঃসংযোগ এবং ইতিবাচক মনোভাব ধরে রেখে ভয়ডরহীন দায়িত্বশীল সাহসী স্বাধীন ক্রিকেট ধারাবাহিকতার সঙ্গে খেলার মধ্যেই তো দল ও ব্যক্তিগত সমৃদ্ধি নিহিত আছে। দেশের হয়ে খেলার চেয়ে গর্বের আর কিছু তো হতে পারে না। দেশপ্রেম তো সবচেয়ে বড় উজ্জীবিত শক্তি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দলের ফলটাই আসল। তরুণ খেলোয়াড়রা এখন দলের পারফরম্যান্স নিয়ে অনেক বেশি ভাবেন। তাঁরা পারবেন ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। আমরা আশাবাদী এই ভেবে যে দেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভবিষ্যতে খেলোয়াড়সংকটে ভুগবে না, যদি এই চত্বরে তারুণ্যকে নিয়ে ভাবা হয়, পরিকল্পনা তৈরি করা হয়, তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতা এবং সুযোগ দেওয়া হয়। যেকোনো পরিবর্তনে ঝুঁকি নিতেই হবে। আর যে কাজটি করা হবে তার ওপর আস্থা রাখতে হবে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটের পথচলা এবং সাফল্যকে কেউ কেউ বাঁকা চোখে দেখেন। এ ক্ষেত্রে প্রতিহিংসাপরায়ণতা আছে। সুযোগ পেলেই তাঁরা আমাদের ক্রিকেট নিয়ে সমালোচনা করেন, নসিহত করেন! তাঁরা কিন্তু নিজেদের দিকে তাকান না। ক্রিকেটে তাঁদের শোচনীয় ধাক্কাগুলোকে (এটি হতে পারে যেকোনো সময়ের) আমলে নেন না। অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশে আসার আগে একটির পর একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজে হেরেছে। তখন সে দেশের গ্রেট ক্রিকেটাররা কোথায় ছিলেন! বাংলাদেশ দল তো কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়ে ভালো ক্রিকেট খেলে যোগ্য দল হিসেবে মাঠের লড়াইয়ে জিতেছে। সফরকারী দলের হয়ে কে খেলেছেন আর কে খেলেননি, এটি তো বিষয় নয়। বড় বিষয় হলো, দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়া খেলেছে! বাংলাদেশের তো কয়েকজন ভালো ক্রিকেটার সিরিজে খেলেননি। ঠিক এভাবে খেলেননি জিম্বাবুয়েতে আমাদের কয়েকজন ক্রিকেটার।

ভারত দ্বিতীয় টেস্টে লর্ডসে জয়ের পর তৃতীয় টেস্টে ৭৬ রান এবং ইনিংসে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে। এটি ক্রিকেটে অস্বাভাবিক কিছু নয়। বাংলাদেশের জয়কে যাঁরা দুর্ঘটনা বলেছেন তাঁরা তাঁদের দলের পরাজয়কে এখন কী বলছেন? টিম অস্ট্রেলিয়ার চার ম্যাচে পরাজয় কিভাবে দুর্ঘটনা হবে। দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, সচেতন এবং অসচেতনভাবে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে হেয় প্রতিপন্ন এবং তাচ্ছিল্য করার সুযোগ আমরাই অন্যদের দিয়েছি। অতি উৎসাহ, ভক্তি এবং দুর্বলতা আমাদের কাল হয়েছে। সুযোগ পেলেই তাঁরা আমাদের ক্রিকেটের বিরুদ্ধাচরণ করেন, যেটি বাঞ্ছনীয় নয়। বাংলাদেশ তো কখনো অন্যের বিষয়ে মাথা ঘামায় না! বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড স্বাধীন দেশের ক্রিকেটের প্রধান অভিভাবক। বাংলাদেশ তো ইংল্যান্ড ছাড়া অন্য সব দেশের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে। সব দেশই তার কন্ডিশনকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কাজে লাগায়। এটি বুঝেই সফরকারী দলকে খেলতে হয়। আগাম প্রস্তুতি নিতে হয়। চেষ্টা করা হয় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দুটি সিরিজে লক্ষ করেছি, তরুণ ক্রিকেটারদের দায়িত্বশীলতা এবং সুযোগের সদ্ব্যবহার। এখন যাঁরা জাতীয় দলে আসছেন, তাঁরা আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিভাবান। অনেক কিছু শিখে জাতীয় দলে আসছেন। তাঁরা জানেন জাতীয় দলে খেলা মানেই সব সময় চ্যালেঞ্জ। জিম্বাবুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জাতীয় দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ইনজুরি ও ব্যক্তিগত কারণে অনুপস্থিত ছিলেন—তাঁদের স্থানে তরুণ খেলোয়াড়রা এমনভাবে খেলেছেন (নীতিগতভাবে খেলোয়াড়দের নাম উল্লেখ করছি না), যা সচেতন মহলের নজর কেড়েছে।

বাইরে থেকে যতটুকু শুনি, ড্রেসিং রুমের পরিবেশেও পরিবর্তন এসেছে। এখানে একে অন্যের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। সবার উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য এক। খেলোয়াড়দের মধ্যে যোগ্যতা প্রদর্শনের সুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে—এটি ভবিষ্যতের ক্রিকেটের জন্য অবশ্যই সুখকর। এই প্রতিযোগিতা দলকে সমৃদ্ধ করে। ধীরে ধীরে বড় দলে পরিণত করে।

ক্রিকেটাররা এখন ভাবতে পারছেন, বিশ্বাস করছেন, টি-টোয়েন্টিতে তাঁরা ভালো করতে সক্ষম। এই মানসিক শক্তি গুরুত্বপূর্ণ। ঐতিহ্যগতভাবে এই ক্রিকেটে আমাদের খেলোয়াড়দের ভালো না করার কোনো কারণ নেই। প্রয়োজন শুধু খেলাটির পৃষ্ঠপোষকতা।

সফরকারী নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হতে যাচ্ছে ১ সেপ্টেম্বর থেকে মিরপুর স্টেডিয়ামে। বিশ্বকাপের আগে এটাই শেষ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ। বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে এর প্রভাব অত্যধিক। অন্যদের সঙ্গেও খেলার সুযোগ ছিল, সেটা আর হয়নি। এর পেছনেও কাহিনি আছে। সিরিজ জয়ের মাধ্যমে উজ্জীবিত হয়ে যাওয়ার মধ্যে আত্মবিশ্বাস থাকে। নিউজিল্যান্ড আমাদের কন্ডিশনের বিষয় মাথায় রেখে সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েই এসেছে, যদিও এই দলে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কোনো খেলোয়াড় নেই। নিউজিল্যান্ড চারটি দল গঠন করেছে। কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সতর্কতামূলক বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে। নিউজিল্যান্ডের এই দলে প্রতিভাবান ক্রিকেটারের পাশাপাশি কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছেন। ১০ বছর পর আবার নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল বাংলাদেশে এসেছে। শেষ সফরে ওয়ানডে ক্রিকেটে সফরকারী দল সিরিজ হেরেছে। একমাত্র টি-টোয়েন্টি জিতেছে। বাংলাদেশের জন্য এই সফরটি গুরুত্বপূর্ণ। জয়ে আত্মবিশ্বাস এবং সাহস বাড়বে। বাড়বে জয়ের ক্ষুধা আসন্ন বিশ্বকাপে। আরেকটি বিষয় হলো, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে জয়ের মাধ্যমে র্যাংকিংয়ে উন্নতি। সিরিজ জয় সম্ভব হলে বাংলাদেশ এমন একটি অবস্থায় যাবে, এতে ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে।

উইকেট নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। বাংলাদেশের উইকেট আর সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানের উইকেটের আচরণ এক নয়, এটি সবাই জানেন। বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রাথমিক রাউন্ডের খেলা খেলতে মধ্যপ্রাচ্যে যাবে ১০-১২ দিন আগে। এতে সেখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। এর আগে টি-টোয়েন্টি দল সেট করতে হবে। খেলোয়াড়রা চাইলেই তো আর স্পোর্টিং উইকেট হবে না! এটি টিম ম্যানেজমেন্টের বিষয়। বাংলাদেশ শুধু নয়, সব দেশই তার সফলতার কথা চিন্তা করে উইকেট তৈরি করে। কে না চায় কন্ডিশনকে মানিয়ে নিয়ে খেলে জিততে।

লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্লেষক

প্রতিবেদক

সর্বশেষ - সোশ্যাল মিডিয়া