ঢাকাশনিবার , ৪ সেপ্টেম্বর ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. আইন আদালত
  3. আবোল-তাবোল
  4. উদ্যোক্তা
  5. উপসম্পাদকীয়
  6. এক্সক্লুসিভ
  7. কলাম
  8. ক্যারিয়ার
  9. খেলার মাঠ
  10. গ্যাজেট
  11. জাতীয়
  12. টাকা-আনা-পাই
  13. দেশ পরিবার
  14. দেশ ভাবনা
  15. দেশ সাহিত্য

জীবিত থেকেও মৃত, মিলছেনা ভাতা ও টিকা

মহিউদ্দিন অপু, বরগুনা সদর প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ৪, ২০২১ ৮:৫৫ অপরাহ্ণ


বাস্তবে জীবিত কিন্তু কাগজপত্রে মৃত। এ কারণে নানান সমস্যায় পড়ছেন বরগুনা সদর উপজেলার ৬নং ইউনিয়নের দক্ষিন বড় লবনগোলা গ্রামের ৬৮ বছরের বৃদ্ধ মো. ইউসুফ।



কাগজপত্রে তাকে মৃত দেখানোর কারনে ভোট দিতে পারেননি তিনি ইউপি নির্বাচনে। পাচ্ছেন না বয়ষ্ক ভাতা। এমনকি করোনার টিকাও নিতে পারছেননা তিনি। দীর্ঘদিন ধরে এনিয়ে সরকারি বিভিন্ন দফতরে ছোটাছুটি করছেন তিনি। আশ্বাস পেয়েছেন সমাধানের। তবে দ্রুত এ সমস্যা সমাধানের দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।


জানা যায়, আগস্ট মাসের শুরুর দিকে বয়ষ্ক ভাতা পাওয়ার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে গেলে কোনভাবেই তার ডাটা অনলাইনে এন্ট্রি করা যাচ্ছিল না। তখন তিনি উপজেলা নির্বাচন অফিসে গেলে জানতে পারেন কাগজপত্রে তাকে মৃত দেখানো হয়েছে। কিন্তু কীভাবে জীবিত থেকেও মৃত হলেন এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তাকে দিতে পারেনি। তবে ইউসুফ মনে করেন তৎকালীন ইউপি সদস্য ফারুক শিকদারের গাফলতির কারণে এমনটা হয়েছে।


ভুক্তভোগী ইউসুফ বলেন, এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়েও ভোট দিতে পারিনি। তখনও আমি কিছু বুঝতে পারিনি। পরে এই মাসের শুরুর দিকে ঘোষনা করা হয় ৬৫ বছর বয়স হলেই বয়ষ্ক ভাতা পাবেন সবাই। তাই আমি বয়ষ্ক ভাতার জন্য আবেদন করতে গিয়ে জানতে পারি আমি নাকি মৃত! কাগজপত্রে আমাকে মৃত দেখানো হয়েছে। তখন আমি আমার আইডি কার্ড নিয়ে নির্বাচন অফিসে যাই। সেখানের কর্মকর্তারা বলেন কাগজপত্রে আমাকে মৃত দেখানো হয়েছে। তাই ভোটার তালিকা থেকে আমার নাম কেটে দেয়া হয়েছে। এতে আমি সরকারি সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। নিতে পারিনি করোনার টিকা। পাচ্ছিনা বয়ষ্ক ভাতা।


ইউসুফ আরও বলেন, আমি বেঁচে থাকতেও আমাকে মৃত বানিয়েছে ২নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ফারুক শিকদার ও স্কুল শিক্ষক মো. বারী। ভোটার তালিকা করার সময় আমার যাবতীয় কাগজপত্র তাদের কাছে দিয়েছিলাম। তবুও আমার সাথে কেন এরকম করছে বুঝতে পারছিনা। এসব উদ্দেশ্যপ্রনোদিত নাকি গাফিলতি তা বুঝে উঠতে পারছিনা।


এবিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য এবং ভোটার তালিকা যাচাই কমিটির সদস্য ফারুক শিকদারের সাথে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তথ্য সংগ্রহকারী সহকারী শিক্ষক আব্দুল বারী নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, আমি শত শত মানুষের তথ্য সংগ্রহ করেছি। এর মধ্যে এই একটা ভুল হয়ে গেছে। অন্যান্য যায়গায়ও এরকম ভুল হয়েছে। ইউসুফের সাথে যেটা হয়েছে সেটা অনিচ্ছাকৃত ভুল। এর জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। নির্বাচন অফিসে কথা বলেছি। বিষয়টি তারা আমলে নিয়েছেন। দ্রুত এর একটা সমাধান হবে বলে আশা করছি।


উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, এরকম ঘটনা খুব কমই ঘটে। তবে বিষয়টি আমি জানার পরে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য এবং স্কুল শিক্ষকের সাথে কথা বলি। তারা তাদের ভুল স্বীকার করে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। আমি যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী ইউসুফের জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছি। আশাকরছি শিঘ্রই সংশোধন হয়ে চলে আসবে।

সর্বশেষ - সোশ্যাল মিডিয়া