ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৫ জুলাই ২০২১
  1. অন্য আকাশ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আবোল-তাবোল
  5. উদ্যোক্তা
  6. উপসম্পাদকীয়
  7. এক্সক্লুসিভ
  8. কলাম
  9. ক্যারিয়ার
  10. খেলার মাঠ
  11. গ্যাজেট
  12. জাতীয়
  13. টাকা-আনা-পাই
  14. দেশ পরিবার
  15. দেশ ভাবনা

চিংড়ী ঘের দখলে বাধা দেয়ায় ২ যুবককে হাতুড়ি পেটা

মফস্বল সম্পাদক
জুলাই ১৫, ২০২১ ১১:০২ পূর্বাহ্ণ


মোংলায় জোর পুর্বক চিংড়ী ঘের দখলের পক্ষে না থাকায় দুই ব্যাবসায়ীকে হাতুড়ী দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে সন্ত্রাসীরা। মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) রাতে মিঠাখালী ইউনিয়নের চৌড়ীডাঙ্গা এলাকায় এঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।


 

এ ঘটনার সময় আরিফ গ্রুপের লোকজন ওই মৎস্য ব্যবসায়ীর ব্যবহৃত মটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয়। আহতদের অবস্থা আশংঙ্কা জনক। প্রতিপক্ষরা বলছে, মোটরসাইকেল যোগে একটি বাই সাইকেল চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী তাদের গনধোলাই দিয়েছে বলে জানায় ইউপি সদস্য আরিফ ফকির। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশের সিনিয়র এএসপি আসিফ ইকবাল ও থানা অফিসার ইনচার্জ ইকবাল বাহার চৌধুরী। থানায় দুই পক্ষেরই পৃথক এজাহর দাখিল হয়েছে। থানার অভিযোগ সুত্রে ও আহত শওকাত হোসেন জানায়, মিঠাখালীর চৌড়িডাঙ্গা এলাকায় “ঢাকা” নামের সাড়ে ৩শ বিঘার একটি চিংড়ী ঘের দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী সমন্নয় মাছ চাষ করে আসছিল। মিঠাখালী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান আরিফ ফকির’র নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী ওই চিংড়ী ঘেরটির মাছ লুট ও জোর পুর্বক দখলে নেয়ার চেষ্টা করে আসছিল। ওই গ্রুপটি শওকাত ও মর্তুজাসহ তাদের লোকজনকে অরিফকে সহায়তা করার জন্য চাপসৃষ্টি করে। এতে শওকাত হোসেন ও মর্তুজা আলী তাদের পক্ষ না নিয়ে উল্টো ওই ঘের দখলে বাঁধা দেয়ায় তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয় আরিফসহ তার সন্ত্রাসী গ্রুপটি।

মঙ্গলবার রাতে চাঁপড়ার মোড় থেকে শওকাত ও মর্তুজা মোটরসাইকেল যোগে বাড়ী ফেড়ার পথে খান বাড়ীর সামনে আসলে পুর্ব পরিকল্পিত ভাবে তার মটরসাইকেলের গতি রোধ করে বেধড়ক মারধর শুরু করে ইউপি সদস্য আরিফ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা। এক পর্যায়ে তাদের হাতুড়ি পেটাসহ এলোপাথাড়ি হামলায় ব্যবসায়ী সওকত ও মর্তুজা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাদের পকেটে থাকা মাছ বিক্রির নগদ ৮৫ হাজার টাকা, দুটি স্মার্ট মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় আরিফ বাহিনীর সদস্যরা। ব্যবসায়ীর মৃত্য নিশ্চিত ভেবে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে তার ব্যবহৃত মটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। এ সময় সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা হাতুড়ী ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে সৈয়দ আলী শেখ’র ছেলে শওকত শেখ (৪০) ও শুকুর আলীর ছেলে মর্তুজা (৩৫)কে রক্তাক্ত জখম করে রাস্তায় ফেলে রাখে ওই সন্ত্রাসীরা। তাদের বাড়ী একই ইউনিয়নের চৌড়িডাঙ্গা গ্রামে। পরে প্রভাবশালী ওই সন্ত্রাসীরা বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য বাই সাইকেল চুরি অভিযোগ করে এলাকায় প্রচার করে।

রক্তাক্ত জখম শওকাত ও মর্তুজার চিৎকারে স্থানীয়রা ও পুলিশের সহায়তায় অচেতন অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। আহতদের অবস্থা আশংঙ্কা জনক তবে অবস্থা অবনতী হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় পাঠানো হবে বলে জানায় মেডিকেল অফিসার ডাঃ শেখ শহিদুল ইসলাম। তিনি আরো বলেন, আহতদের গায়ের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং বেশ কয়েক কাটা জায়গায় সেলাইও করা হয়েছে। এছাড়া হাড় ভাঙ্গার সম্ভাবনা রয়েছে তবে তাদের শরীর এক্স-রে করলে ভাঙ্গা বা চোটের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। মিটাখালী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য অভিযুক্ত মোঃ আরিফ ফকির জানায়, শওকাত ও মর্তুজা মঙ্গলবার রাতে একটি বাই সাইকেল চুরি করে মোটরসাইকেল যোগে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী তাদের ধাওয়া করলে পালানোর সময় অন্য একটি নসিমনের সাথে ধাক্কা খেয়ে শরীরে আঘাতের চিহ্ণ হয়েছে। তবে ওই সময় ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম না, লোক মারফত খবর পেয়ে প্রায় এক ঘন্টা পরে আমি সেখানে উপস্থিত হয়েছি। এদের বিরুদ্ধে গরুসহ এলাকায় বহু চুরির অভিযোগ রয়েছে বলে জানায় মেম্বার আরিফ ফকির।

মোংলা থানায় এ ব্যাপারে আহত শওকাত আলী শেখ’র স্ত্রী জায়েদা বেগম বাদী হয়ে মিঠাখালী ইউনিয়নের ইউপি মেম্বার অরিফ ফকির, জোবায়ের, মোজাম্মেল ফকির, তামিম ফকির, বনি আমিন, নাসির ফকির, সাগর ফকির, নুর ইসলাম, রফিক ও আলম ফকিরসহ ১০জনকে চিহ্ণিত করে অজ্ঞতনামা আরো ৪/৫সহ ১৫জনের নামের মোংলা থানায় এজাহার দাখিল করেছে। এছাড়া অন্য পক্ষের বনি আমিন বাদী হয়ে থানায় শওকাত ও মর্তুজাকে অভিযুক্ত করে চুরি অভিযোগে পৃথক আরো একটি এজাহার দাখিল হয়েছে।

মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইকবাল বাহার চৌধুরী জানায়, মিঠাখালী চৌড়িডাঙ্গা এলাকায় ঘটনার ব্যাপারে সিনিয়র এ এসপি (মোংলা সার্কেল) মোঃ আসিফ ইকবালসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এছাড়া এক একজন ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগ এনে থানায় এজাহার দায়ের করেছে তা তদন্ত চলছে। তাই তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানায় থানা পুলিশের এ কর্মকর্তা।

প্রতিবেদক

সর্বশেষ - জাতীয়